bdlive24

কাওমি মাদ্রাসার মান: প্রাসঙ্গিক ভাবনা

শুক্রবার এপ্রিল ২১, ২০১৭, ০৭:৫৬ পিএম.


কাওমি মাদ্রাসার মান: প্রাসঙ্গিক ভাবনা

বিডিলাইভ রিপোর্ট: সম্প্রতি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মার্স্টাসের সমর্পযায়ের ডিগ্রি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার পর গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। তারই ধারাবাহকিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গল্পাকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছেনে। যা একটি চড়ুই পাখির সাথে কথোকপথোনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেনে।

'গতকাল দুপুরে আমি ডিপার্টমেন্টের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি'। এমন সময় দেখছি একটি চড়ুই আমার মাথার উপর দিয়ে উড়াউড়ি করছে। ওর উড়াউড়ি দেখে আমি বেশ আশ্চার্যান্বিত। ওর অবস্থা দেখেই আমি বুঝতে পারলাম ও আমায় কিছু বলবে। তাই আমি ওকে জিজ্ঞেস করতে আর দেরি করলাম না। আচ্ছা তুমি কি আমাকে কিছু বলবে? ও বললো, হুম্ম।  

আমি বললাম, তুমি এখানে কিভাবে আসলে?

চড়ুই: হা, হা, হা.....। ওই দিকে তাকাও। তোমার ডিপার্টমেন্টের সবার প্রিয় ড. মোহাম্মদ ফজলুর রহমান স্যারের রুমের দরজার ঠিক উপরে ভেন্টিলেটরের মাঝেই আমার বাসা।
আমি বললাম: আচ্ছা, চলো দেয়ালের উপরে আগে বস। তারপর কথা বলি।

চড়ুই: ওকে।

আমি বললাম: এখন বল। কি বলতে চাইছো তুমি?

চড়ুই: কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি নিয়ে।

আমি বললাম: এ বিষয়ে আমি কি বলব? বল! আমিতো আর কওমি মাদ্রাসায় পড়িনি।

চড়ুই: (রাগান্বিত হয়ে) তুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়। অথচ সমসাময়িক ঘটে যাওয়া বিষয় সম্পর্কে জানবে না। এটা হয় না।

আমি বললাম: এত রাগ হচ্ছ কেন? আমি না জানতেই পারি। আচ্ছা বল...

চড়ুই: প্রধানমন্ত্রী যে গত ১১ এপ্রিল রাত নয়টায় ১০ মিনিটে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়েছেন এ বিষয়টা তুমি কিভাবে দেখ?

আমি বললাম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বুদ্ধিদ্বীপ্ত সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি লাভের মধ্য দিয়েই ইসলামি শিক্ষার এক নতুন দিগন্তের শুভ সূচনা হলো। তিনি লক্ষ লক্ষ আলেমদের মনের ভাষা বুঝতে পেরেছেন। এ জন্য তিনি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখেন। এ স্বীকৃতি ও অধিকার আদায়ে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের মেধা, শ্রম ও সাহস দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন, আল্লাহও তাদের কল্যাণ করবেন।

চড়ুই: ও, আচ্ছা! তুমি দেখছি এ বিষয়টা নিয়ে অতিমাত্রায় খুশি।

আমি বললাম: আরে বাবা! খুশি হব না কেন বল। এ স্বীকৃতি লাভের পরে আলেমদের সামনে দেশ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোকে অলংকিত করার একটা সম্ভাবনা তৈরি হলো। নীতি-নৈতিকতার ঝান্ডাবাহী ওলামায়ে কেরাম স্বীয় যোগ্যতা, মেধা, প্রতিভা ও বিচক্ষণতার দ্বারা এসব পদে বসে দেশকে অনেক দূরে নিয়ে যাবেন। এমন স্বপ্ন আমরা দেখতেই পারি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী দাওরায়ে হাদিসকে স্বীকৃতি প্রদান করে প্রমাণ করলেন যে, মাদ্রাসার ছাত্ররা জঙ্গী নয়। আবার ইসলামের সাথে জঙ্গীবাদ, উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসের কোনো সম্পর্ক নেই।  

চড়ুই: কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ১২/১৪ বছর পরে মাস্টার্সের সম্মান পাচ্ছে। অথচ তোমরা সেখানে পড়ছো ১৮ বছর। বিষয়টা তুমি কিভাবে দেখ?

আমি বললাম: এটাতো প্রধানমন্ত্রীর উদারতারই বহিঃপ্রকাশ। আলেম সমাজকে তিনি অনেক মর্যাদা দিয়েছেন।

চড়ুই: আচ্ছা বুঝলাম, তুমি এ ব্যপারেও অনেক খুশি।

আমি বললাম: এত ভালো একটা খবরে কি খুশি না হয়ে থাকতে পারি?

চড়ুই: যাহোক, বল তোমার বাড়ির পাশে কি কাছাকাছি বয়সের দুইজন ভাই আছে?

আমি বললাম: হুম।

চড়ুই: ওদের বয়স কত?

আমি বললাম: হাবিবুল্লার বয়স ২২ এবং সজলের বয়স ২৩।

চড়ুই: ধর, হাবিবুল্লাহ কওমী মাদ্রাসা থেকে দাওরায় হাদিস পাশ করে তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার শিক্ষক হয়েছে। আর সজল বয়সে বড় হয়েও ওই মাদ্রাসায় ফাযিল তৃতীয় বর্ষে পড়ে। আর হাবিবুল্লাহ বয়সে ছোট হয়েও সজলের ক্লাস নেয়। তখন সজলের নিজেকে কেমন মনে হবে?

আমি বললাম: তুমিতো দেখি অনেক গভীর থেকে চিন্তা করছ। আমি বাবা সহজ সরল মানুষ। এত কিছু বুঝিনা। তবে হ্যাঁ, আমার মনে হয় দায়িত্ববানদেরকে বিষয়টা ভেবে দেখা উচিত।

চড়ুই: ধর, সজল এসএসসি পাশ করে পুলিশ হয়েছে। আর হাবিবুল্লাহ কওমি মাদ্রাসায় পড়েছে বটে কিন্তু দাওরায়ে পাশ করেনি। মাঝ পথে পড়া বাদ দিয়েছে। যদি হাবিবুল্লাদের নিম্নস্তরে স্বীকৃতি দিত তাহলে সেও পুলিশ হতে পারতো।

আমি বললাম: আরে বাবা তুমি এত বুঝ কি করে? তোমার তো দেখছি দার্শনিক চিন্তাধারা। আমার মনে হয় হাবিবুল্লাহদের সুযোগ করে দেয়া উচিত।

চড়ুই: ধর, সজল মাস্টার্স পাশ করে এমফিলে ভর্তি হলো। কিন্তু হাবিবুল্লারও প্রবল ইচ্ছা এমফিলে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু তাদের তো সেই সুযোগ নেই। তাহলে কি হাবিবুল্লার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে?

আমি বললাম: তোমার তো সুন্দর চিন্তাধারা। দায়িত্বশীলদেরকে অবশ্যই হাবিবুল্লাহদের বিষয়গুলো ভেবে দেখা উচিত। আচ্ছা বল, পাখি হয়েও তুমি এত চমৎকার চিন্তাধারা কোথায় পেলে? অথচ আমরা এ ব্যাপারে একটু ভেবেও দেখিনি।

চড়ুই: যেহেতু আমার বাসা আরবী ডিপার্টমেন্টের সুপার স্টার ড. মোহাম্মদ ফজলুর রহমান স্যারের দরজার ঠিক উপরে ভেন্টিলেটরের মাঝে তাই এমন চিন্তাধারা।

লেখক,
উম্মেহানী
মাস্টার্স, আরবী বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


ঢাকা, এপ্রিল ২১(বিডিলাইভ২৪)// এ এম
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.