সর্বশেষ
শনিবার ৮ই বৈশাখ ১৪২৫ | ২১ এপ্রিল ২০১৮

শিশুর লিভারে সমস্যা ও প্রতিকার

শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৭

1481285810_1493442149.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
সব বাবা-মা নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসেন তার সন্তানদের। তাদের জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেন তারা। তাইতো সন্তানের সামান্য অসুস্থতাও মা-বাবার কাছে আতঙ্কের বিষয়। আর লিভার সমস্যার মতো অসুখ হলে তো দু:শ্চিন্তার অন্ত নাই। নানা কারণে আজকাল অনেক শিশুই লিভার সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। বিষয়টা বাবা-মা সহজে ধরতে পারেন না। যখন ধরা পড়ে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই এ বিষয়ে কিছু ধারণা থাকা প্রয়োজন।

লক্ষণ :
শিশুর ওজন দ্রুত হ্রাস পায়।
শরীরে ফ্লুইড জমে শরীর ফুলে যায়।
জন্ডিসের নানা লক্ষণ দেখা যায়।
পেটের ব্যথা দিন দিন বাড়তে থাকে।
কিছু ক্ষেত্রে স্টেজ লিভারের ডিজিজের কারণে নাক-মুখ থেকে রক্ত বের হয়।

যেভাবে সংক্রমিত হয়  রোগটি:
প্রধানত হজমের সমস্যা থেকে লিভারের সমস্যা হতে পারে। খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও বিভিন্ন প্যারাসাইটের সংক্রমনের মাধ্যমে শরীরে হেপাটাইটিস বি, নন এল, নন বি থেকে লিভারে সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় ম্যালেরিয়া জ্বর থেকেও লিভারে আক্রন্ত হতে পারে। অতিরিক্ত ফাস্টফুড থেকে লিভারে ফ্যাট জমে এ সমস্যা হতে পারে।

অনেক শিশুর জন্ম থেকেই লিভারের সমস্যা হয়ে থাকে। জেনেটিক কারণেই লিভারের সমস্যা হয়। তবে ছোটবেলায় হলেও অনেক দিন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। লিভার ডিজিজের মধ্যে বাইলারি আর্টেসিয়া, গ্গ্নাইকোজেন স্টোরেজ ডিজঅর্ডার বেশি দেখা যায়। বাইলারি আর্টেসিয়ায় বাইল ডাক্ট সিস্টেম থাকে না, যা থেকে লিভারের সমস্যা দেখা যায়। গ্লাইকোজেন স্টোরেজ ডিজঅর্ডার হলে লিভার গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেন মেটাবলিজম পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। যে কারণে অস্বাভাবিক পরিমাণে গ্লাইকোজেন তৈরি হয়। মাসলে ক্র্যাম্প ধরে যায়। লিভার বড় হয়ে যায়। পেট ফুলে যায়।

জিএসডি থেকে লিভার সিরোসিসও হতে পারে। শরীরে অন্য কোনো ক্যান্সার হলে লিভার প্রভাবিত হতে পারে। লিভারে টিউমার হয়ে যায়। একে হেপাটোব্লাস্টোমা বলে।



চিকিৎসা :
লিভারের সমস্যার লক্ষণগুলো পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্লাড টেস্ট করে লিভারের অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়াতে হবে।

এছাড়াও অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। শিশুকে কম তেল, কম মসলাযুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে। বেশি করে ডাবের পানি, শরবত, গ্লুকোজ দিতে হবে।
ফাস্টফুড জাতীয় সব খাবার বন্ধ করতে হবে।

ঢাকা, শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৭৪১ বার পড়া হয়েছে