bdlive24

মহান মে দিবসের তাৎপর্য ও ইতিহাসের ‘দাসপ্রথা’

সোমবার মে ০১, ২০১৭, ০৯:৫১ এএম.


মহান মে দিবসের তাৎপর্য ও ইতিহাসের ‘দাসপ্রথা’

বিডিলাইভ ডেস্ক: ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকেরা শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনে নামে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এতে অনেক শ্রমিক হতাহত হয়। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দৈনিক কাজের সময় আট ঘণ্টা করার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর থেকে দিনটি ‘মে দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস এই দিন। মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আর শ্রমিকদের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটার স্বপ্ন দেখারও দিন এটি।

মে দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এবং আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ দিনটির মাধ্যমে শ্রমিক তার কাজের প্রকৃত স্বীকৃতি পেয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ দিনটি উজ্জ্বল হয়ে আছে। তাই এ দিনটি শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষার দিন। তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় তথা অধিকার আদায়ের দিন। শ্রমিকদের অস্তিত্ব ঘোষণার দিন।

যুগে যুগে দেশে দেশে সমাজে খেটে খাওয়া শ্রমিকশ্রেণি ও মেহনতি মানুষ দেশ-জাতির উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। যে কোনো দেশের উৎপাদন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে শ্রমিকরাই বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু তারাই সবচেয়ে বেশি শোষিত-বঞ্চিত হয়েছে। নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যুগে যুগে সবচেয়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছে এসব অসহায় গরিব শ্রমিকশ্রেণি। নির্যাতিত, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষ তাদের অধিকার রক্ষা ও দাবি আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছে বছরের পর বছর। তারা সংগ্রাম করে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে নিজেদের দাবি আদায় করেছে। যে কোনো পেশাজীবী মানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে কোনো রক্তপাত যে বৃথা যায় না, ইতিহাসে তার অনেক প্রমাণ রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রমাণ এই মহান মে দিবস।

মানবজাতির ইতিহাসে ‘দাসত্ব’ বা ‘দাসপ্রথা’ অন্যতম কলঙ্কিত একটি অধ্যায়। প্রস্তর যুগের পরবর্তী যেকোনো সময়ে মানুষ যখন গোষ্ঠীগতভাবে যেকোনো প্রশাসনিক কাঠামোয় বাস শুরু করেছে তখনই বলবান বা শক্তিশালীদের কাছে কিছু দুর্বল মানুষ ‘দাসত্বের’ শিকার হয়েছে।

মিসরীয় সভ্যতার ফেরাউন যুগে, ইসলামপূর্ব আরবীয় এলাকায় বা ভারতীয় ইতিহাসের সুলতানি যুগের হাবসি ক্রীতদাস পর্বে আমরা ক্রীতদাসদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার কথা জানতে পারি। তবে ক্রীতদাসদের নির্মম অধ্যায়ের শুরু সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টাদশ শতকের মাঝ পর্যন্ত (১৭৬০-১৮৬৫ শতক)।

দাসত্বের বিষয়টি সম্ভবত মানব ইতিহাসে শুরু থেকেই ছিল। আধুনিক সময়ের পুঁজিবাদ দাসত্বের প্রবর্তন করেনি। কম বেতনে বা বিনা বেতনে বা মানুষকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার দাসত্বপ্রথা এখনো চলছে। এই বিষয়টি নিয়ে পাশ্চাত্যে একটা প্রতিষ্ঠান 'ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন' (মুক্ত হয়ে চলার প্রতিষ্ঠান) আন্দোলন শুরু করেছে অধুনা। তারা বেশ জোরেশোরে সমসাময়িক দাসপ্রথার মুখোশ উন্মোচন করে দিতে এগিয়ে এসেছে।

দাসত্ব বলতে বোঝায় কোনো মানুষকে জোর করে শ্রম দিতে বাধ্য করা এবং এক্ষেত্রে কোনো মানুষকে অন্য মানুষের অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা। এটি হতে পারে তার আটক, জন্ম বা ক্রয় করা সময় থেকে। দাসদের অনুমতি ব্যতিরেকে স্থান বা মালিককে ত্যাগ করা, কাজ না করার, বা শ্রমের মজুরি পাবার অধিকার নেই। কিছু সমাজে নিজের দাসকে হত্যা করা আইনসঙ্গত ছিল। দাসত্ববিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যান্টি স্ল্যাভারি ইন্টারন্যাশনাল দাসত্বের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে একে ‘জোরপূর্বক শ্রম দেওয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে এখনো ২ কোটি ৭০ লক্ষ দাস রয়েছে। এই সংখ্যা ইতিহাসের যে-কোনো সময়কার দাসের সংখ্যার তুলনায় বেশি। এমন কী প্রায় ৪০০ বছরের ইতিহাসে আফ্রিকা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনা আফ্রিকান দাসের মোট সংখ্যাও এর প্রায় অর্ধেক। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব অনুযায়ী এখনো বিশ্বের ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ জোরপূর্বক শ্রম, দাসত্ব, ও দাসত্ব সংশ্লিষ্ট প্রথার কাছে বন্দী।

প্রাচীনকালে এবং মধ্যযুগে সমাজে মানুষ কেনাবেচার একটি প্রথা ছিল। যা দ্বারা বিভিন্ন মুল্যের বিনিময়ে মানুষ কেনা যেত। এই প্রচলিত প্রথাটিকেই দাস প্রথা বলা হয়ে থাকে। দাস অথবা দাসী বর্তমান বাজারের পণ্যের মতই বিক্রি হত। বর্তমানে যেমন পণ্য বেচাকেনার বাজার আছে অতীতেও দাসদাসী বিক্রি অথবা কেনার আলাদা বাজার ছিল। সভ্যতা বিকাশের ধারায় মানবসমাজে উদ্ভব ঘটে দাসপ্রথার। কালের টানে একসময় বিলোপও হয়ে যায়। কিন্তু সভ্যতার গায়ে ক্ষতচিহ্নের মতো রয়ে গেছে এই অমানবিক প্রথার দাগ।

লেখক : ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম


ঢাকা, মে ০১(বিডিলাইভ২৪)// এস আর
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.