bdlive24

জাহানারা ইমামের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

বুধবার মে ০৩, ২০১৭, ১০:৩৫ এএম.


জাহানারা ইমামের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

বিডিলাইভ ডেস্ক: আজ ৩ মে, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী। জাহানারা ইমাম একাধারে একজন লেখিকা, শহীদ জননী, কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে এই প্রজন্মকে রুখে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।

জন্ম:
১৯২৯ সালের এই দিনে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাহানারা ইমাম। ছোটবেলায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পিতা আবদুল আলীর তত্ত্বাবধানে রক্ষণশীলতার বাইরে এসে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন তিনি।

শিক্ষা:
জাহানারা ইমামের স্বামী ইঞ্জিনিয়ার শরীফ ইমামও তাকে লেখাপড়ায় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। জাহানারা ইমাম মাধ্যমিক পাস করেন ১৯৪২ সালে। ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে তিনি বিএ পাস করেন। বিএড পাস করার পর তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে বাংলায় এমএ পাস করেন।

কর্মজীবন:
ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৫২ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। এরপর ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে তিনি আমেরিকা থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ১৯৬৬ সালে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৬৮ সালে তা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেন।

আত্মজীবনী:
জাহানারা ইমামের বিখ্যাত গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি। মুক্তিযুদ্ধের এ দিনলিপি তিনি ১৯৮৬ সালে একাত্তরের দিনগুলি নামে প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক মর্মস্পর্শী এ বৃত্তান্ত জনমনে ব্যাপক সাড়া জাগায়। একাত্তরের দিনগুলি ছিলো একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মায়ের দৃঢ়তা আর আত্মত্যাগের অনন্য উদাহরণ।

একাত্তরে তার বড় ছেলে শফি ইমাম রুমী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং কয়েকটি সফল গেরিলা অপারেশনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং পরবর্তীতে নির্মমভাবে শহীদ হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে রুমীর বন্ধুরা রুমীর মা জাহানারা ইমামকে সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে বরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে ছেলে রুমীর আত্মত্যাগ এবং নিজের অবদানের কারণে সবার কাছে আখ্যায়িত হন শহীদ জননী হিসেবে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি প্রতিষ্ঠা:
১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমীর ঘোষণা করলে বাংলাদেশে জনবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি দেশের ১০১ জন বরেণ্যব্যক্তিদের নিয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয় জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে। এই কমিটি ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ 'গণআদালত' এর মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের ঘাতকদের ঐতিহাসিক বিচার অনুষ্ঠান করে।

পুরস্কার ও সম্মাননা:
জাহানারা ইমাম বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা পদক (১৯৯৭) সহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

মৃত্যু:
মৃত্যুর আগে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কার্যক্রমে উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েট শহরের হাসপাতালে তিনি মারা যান।


ঢাকা, মে ০৩(বিডিলাইভ২৪)// এস আর
 
        print


মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.