bdlive24

আজ বীরকন্যা প্রীতিলতার ১০৬তম জন্মবার্ষিকী

শুক্রবার মে ০৫, ২০১৭, ১২:০০ পিএম.


আজ বীরকন্যা প্রীতিলতার ১০৬তম জন্মবার্ষিকী

বিডিলাইভ ডেস্ক: আজ ৫ মে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী। ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী মহিলা শহীদ ব্যক্তিত্ব।

জন্ম:
নারী বিপ্লবী প্রীতিলতা ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ডাকনাম রাণী, ছদ্মনাম ফুলতার। তার বাবার নাম জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার ও মা প্রতিভা দেবী।

শিক্ষা:
প্রীতিলতা ডা. খাস্তগীর ইংরেজি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করে ঢাকার ইডেন কলেজে ভর্তি হন। কলেজের ছাত্রীনিবাসে থাকাকালীন তিনি বিপ্লবী লীলা নাগের নেতৃত্বে পরিচালিত দীপালি সংঘের সংস্পর্শে আসেন। এটি ছিল তখনকার ঢাকার বিপ্লবী দল শ্রীসংঘের নারী শাখা। এইচএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে প্রীতিলতা কলকাতার বেথুন কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ'তে ভর্তি হন।  

কর্মজীবন:
১৯৩২ সালে চট্টগ্রাম অপর্ণাচরণ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন।

আন্দোলন:
১৯২৯ সালে প্রীতিলতা দীপালি সংঘের সদস্য হন। তখন মাস্টারদা সূর্যসেন ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক। তখন থেকে মাস্টারদার নির্দেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন তিনি। গড়ে তুললেন এক বিপ্লবী চক্র যেখানে আরও অনেক মেয়ে সদস্য যোগ দিলেন।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মহানায়ক সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম দখল হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রামে ইংরেজ শাসন অচল হয়ে যায়। টেলিগ্রাফ-টেলিফোন বিকল, সরকারি অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, রিজার্ভ পুলিশ ছত্রভঙ্গ ও রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়। সেসময়য় প্রীতিলতা কলকাতায় ছিলেন। বিএ পরীক্ষা শেষে মাস্টারদার নির্দেশে স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি।

১৯৩২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কাট্টলী গ্রামে এক গোপন বৈঠকে মাস্টারদার নির্দেশে প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের পরিকল্পনা করার জন্য একটি গ্রামের উদ্দেশ্যে পুরুষের বেশে রওনা দেন। কিন্তু পথে পাহাড়তলীতে কল্পনা দত্ত ধরা পড়েন।
 
মৃত্যু:
১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে সফল আক্রমণ করেন। আক্রমণ শেষে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এ অবস্থায় ধরা পড়ার আগে সঙ্গে রাখা সায়ানাইড পানে আত্মহত্যা করেন প্রীতিলতা।

শেষ চিঠি:
মৃত্যুর আগে তিনি মায়ের কাছে চিঠিতে লিখেছিলেন, 'মাগো, অমন করে কেঁদো না! আমি যে সত্যের জন্য, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না? কী করব মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী বিদেশির অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভাবে অবনতা, লাঞ্ছিতা, অবমানিতা! তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে?' শুধু তার মা নয়, আজও অসাধারণ সাহসী সেই নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে অশ্রুসজল চোখে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন দেশপ্রেমী মানুষ।


ঢাকা, মে ০৫(বিডিলাইভ২৪)// এস আর
 
        print


মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.