সর্বশেষ
শনিবার ১১ই ফাল্গুন ১৪২৪ | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

যেভাবে প্রচলিত হলো মা দিবস

রবিবার ১৪ই মে ২০১৭

711734093_1494746520.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
মাকে ভালবাসা জানাতে কোনো দিনক্ষণ লাগে না, তার পরেও মায়ের জন্য ভালোবাসা জানানোর দিন আজ। প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্ব মা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। মায়ের জন্য ভালবাসা স্বরূপ উপহার কিনে, কেক কেটে বা মায়ের পছন্দের খাবার খাইয়ে মাকে খুশি করার মধ্য দিয়ে আজ রোববার পালিত হবে ‘বিশ্ব মা দিবস-২০১৭’।  

এরপরও দেশে দেশে বিশেষ দিনে মা দিবস পালনের রীতি দেখা যায়। তবে সব দেশে একই দিনে মা দিবস পালিত হয় না। এখন অনেক দেশেই মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালিত হয়। এবার মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ১৪ মে।

দিবসটিতে মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন সন্তানেরা। কেউ মাকে ফুল দিচ্ছেন। কেউ দিচ্ছেন কার্ড। মাকে উপহারও দিচ্ছেন কেউ কেউ। মাকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটা বা বিশেষ অনুষ্ঠানের চলও লক্ষ করা যায়। কেউবা এসব না করে শুধুই বলছেন, ‘মা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।’ অনেকে আবার একটি দিনকে ঘিরে মা দিবস পালনের বিরোধিতা করছেন। তারা বলছেন, মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা কোনো একটি দিনের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে পারে না। আর মাকে শ্রদ্ধা জানাতে কোনো আনুষ্ঠানিকতারও দরকার হয় না।

তর্ক-বিতর্কের মধ্যেও ঘটা করে মা দিবস পালন চলছে। যদিও ১৯০৮ সাল থেকেই বিশ্ব মা দিবস পালিত হয়ে আসছে ভার্জিনিয়ার গ্রাফিটন শহরে অবস্থিত একটি চার্চে। চলুন জেনে নিই দিবসটির ইতিবৃত্ত।

আধুনিক মা দিবসের প্রচলন হয় যুক্তরাষ্ট্রে। দিবসটির প্রবক্তা আনা মারিয়া রিভস জার্ভিস। তার মা অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস ছিলেন একজন শান্তিবাদী সমাজকর্মী। তিনি ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৯০৫ সালে অ্যান মারা যান। তার মৃত্যুর পর মেয়ে আনা মায়ের স্বপ্ন পূরণে কাজ শুরু করেন। সব মাকে শ্রদ্ধা জানাতে একটি দিবস প্রচলনের লক্ষ্যে সচেষ্ট হন তিনি।

১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় আনা তার মায়ের স্মরণে অনুষ্ঠান করেন। একই বছর মার্কিন কংগ্রেস মা দিবসকে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব নাকচ করে। তবে তাতে দমে যাননি আনা। তিনি তার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মা দিবস পালিত হতে থাকে।

অবশেষে আনার প্রচেষ্টা সফল হয়। ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। দিনটি সরকারি ছুটি ঘোষিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দেখাদেখি পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে। ক্রমেই দিবসটি ঘিরে বাণিজ্য শুরু হয়। এতে দিবসটির মূল চেতনা লঙ্ঘিত হয়। মর্মাহত হন আনা। দিবসটির বাণিজ্যিকীকরণের তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।

আরেক ইতিহাস থেকে জানা যায় মা দিবসের’প্রচলন শুরু হয় প্রথম প্রাচীন গ্রীসে। সেখানে প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ‘রিয়া’ যিনি ক্রোনাসের সহধর্মিনী তার উদ্দেশ্য উদযাপন করা হতো। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় ‘মা দিবস’ পালিত হতো বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে। রোমানরা পালন করতেন ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে, তারা দিনটিকে উৎসর্গ করেছিলেন ‘জুনো’র প্রতি।

ষোল’শ শতাব্দী থেকে এই দিনটি যুক্তরাজ্যেও উদযাপন করা হয় ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে। ইস্টার সানডের ঠিক তিন সপ্তাহ আগের রোববারে এটি পালন করেন তারা। নরওয়েতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববারে, সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, লেবাননে বসন্তের প্রথম দিন অর্থ্যাৎ ২১শে মার্চে এই দিনটি উদযাপিত হয়। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববার নরওয়েতে, মার্চের চতুর্থ রোববার আয়ারল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাজ্যে। আর বাংলাদেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার।


ঢাকা, রবিবার ১৪ই মে ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি 753 বার পড়া হয়েছে