bdlive24

কথাশিল্পের অমূল্য মানিক

শুক্রবার মে ১৯, ২০১৭, ১০:০৫ এএম.


কথাশিল্পের অমূল্য মানিক

বিডিলাইভ ডেস্ক: কালজয়ী কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তার ১০৯তম জন্মবার্ষিকী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী জুড়ে মানবিক মূল্যবোধের বিপর্যয়ের সময়ে বাংলা কথাসাহিত্যে যে কয়েকজন লেখকের হাতে নতুন বৈপ্লবিক ধারা সূচিত হয় মানিক বন্দোপাধ্যায় ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।

জন্ম:
১৯০৮ সালের ১৯ মে বর্তমান ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দুমকায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম। তার পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের বিক্রমপুরে। তার আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। ডাক নাম ছিল মানিক। লেখালেখি করতেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নামেই। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ঢাকার সেটেলমেন্ট বিভাগের সাব-রেজিস্ট্রার। মা নীরদাসুন্দরী দেবী ছিলেন গৃহিনী। তাদের ১৪ সন্তানের মধ্যে মানিক ছিলেন অষ্টম।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালে প্রবেশিকা এবং বাকুড়ার ওয়েসলিয়ান মিশন থেকে ১৯২৮ সালে আই.এস.সি পাশ করেন। এরপর কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন। পরবর্তীতে অনার্স পরীক্ষা না দিয়েই ইতি টানেন শিক্ষাজীবনের। সাহিত্য রচনাকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন।

কর্মজীবন:
১৯৩৯ সালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি প্রেস ও প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন যা কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৪৩ সালে মানিক কয়েক মাস একটি সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পরে ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। এ সময় থেকে তার লেখায় কমিউনিজমের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ১৯৪৬ সালে ভারতের দাঙ্গাবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৫৩ সালে প্রগতি লেখক ও শিল্পী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।

সাহিত্যকর্ম:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে অনার্সের ছাত্র ছিলেন সেময় ক্যান্টিনে একদিন আড্ডায় এক বন্ধুর সঙ্গে মানিক বাজি ধরেন তিনি তার লেখা গল্প বিচিত্রায় ছাপাবেন। ওই সময় কলকাতায় বিচিত্রা পত্রিকা ছিল অত্যন্ত বিখ্যাত এবং কেবল নামকরা লেখকেরাই তাতে লিখতেন। তার প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ বিচিত্রায় ছাপা হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই গল্পটি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নামটি পরিচিত হয়ে ওঠে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে। এরপর থেকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা পাঠাতে থাকেন মানিক।

মানিকের মা নীরদাসুন্দরীর আদিনিবাস ছিল পূর্ববঙ্গের গাউদিয়া গ্রামে। এই গ্রামটির পটভূমি তিনি রচনা করেন তার প্রসিদ্ধ উপন্যাস ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’।

জীবনের অতি ক্ষুদ্র পরিসরে তিনি রচনা করেন ৪২টি উপন্যাস ও দুই শতাধিক ছোটগল্প। পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাস দু’টি তার বিখ্যাত রচনা। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করেন। পদ্মা নদীর মাঝি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। ইংরেজি ছাড়াও তার রচনাসমূহ বহু বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

মৃত্যু:
শৈশবেই লেখক মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। যা ৪০ বছর পার হওয়ার পর জটিল আকার ধারণ করে। সর্বনাশা মৃগী রোগেই মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ১৯৫৬ সালে ৩ ডিসেম্বর মানিক বন্দোপাধ্যায় পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের জীবনবাদী শিল্পী। তার লেখাতেই প্রথম সমসাময়িক কালের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনের ট্রাজেডি ফুটে উঠে। নিম্নবিত্ত ও সর্বহারা মানুষের ক্ষয়ক্ষতি, মনুষ্যত্বের অপচয়, ক্লেদ-হতাশা ও দু:খ বেদনায় তার সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্বতন্ত্রধারায় চিরভাস্বর।


ঢাকা, মে ১৯(বিডিলাইভ২৪)// এস আর
 
        print

এই বিভাগের আরও কিছু খবর







মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.