সর্বশেষ
শুক্রবার ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোটার যন্ত্রণা

রবিবার, মে ২১, ২০১৭

1149228935_1495340294.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
১৯ মে, ২০১৭ তারিখে লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিল। সকালে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ওঠে। আর সরাসরি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বিকেলের পরীক্ষার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বলা হয়, পরবর্তীতে পরীক্ষার তারিখ জানানো হবে।

সরকারি হিসেবে, বাংলাদেশে প্রায় ২৬ লাখ শিক্ষিত বেকার রয়েছে। তারা নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। পাঁচ-দশটি খালি পদের বিপরীতে লাখ লাখ আবেদন করছে। আমাদের দেশে নিয়োগ পরীক্ষাগুলো অধিকাংশই ঢাকাতে অনুষ্ঠিত হয়। তাই প্রায় সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে হাজার হাজার বেকার ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকা তথা পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার প্রভূতি অঞ্চল থেকে ঢাকায় যাতায়াতে কমপক্ষে দুই হাজার টাকার বেশি লাগে। একটি দরিদ্র পরিবারে একজন বেকারের পক্ষে এ দুই হাজার টাকা যোগাড় করা যে কতোটা কষ্টকর, তা শুধু ভুক্তভোগীরাই উপলব্ধি করতে পারে।

এত কষ্টে ঢাকায় এসে যখন শোনে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল। পরবর্তীতে তারিখ জানানো হবে। তখন তাদের কেমন লাগে? শাসকেরা কখনো কি এ বিষয়টি ভাবে?

এমনিতেই মুক্তিযোদ্ধা কোটার কারণে বেকাররা চরম ক্ষুব্ধ, তার ওপর প্রশ্নপত্র ফাঁসের যন্ত্রণা যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। সরকার মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রতি এতোটা গুরুত্ব দিয়েছে যে, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা শতগুণ বেড়েছে।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল মহলের কাছে আরজি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের যন্ত্রণা আর সহ্য হয়না। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বৈষম্য ও বঞ্চণা, আর মানতে পারছিনা। দয়া করে বেকার যুব সমাজের যন্ত্রণা একটু দেখুন। প্রশ্নপত্র ফাঁস শক্ত হাতে দমন করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করুন। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোটা বৈষম্যের শিকার যুবসমাজের সফল জীবন গড়ার সুযোগ দিন।

সিরাজ এম আর মোস্তাক
শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা।

ঢাকা, রবিবার, মে ২১, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৯৩২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন