bdlive24

হুমায়ূন আহমেদের 'জোছনা ও জননীর গল্প'

শুক্রবার জুন ০২, ২০১৭, ১২:৩৯ পিএম.


হুমায়ূন আহমেদের 'জোছনা ও জননীর গল্প'

বিডিলাইভ ডেস্ক: 'জোছনা ও জননীর গল্প' বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে হুমায়ুন আহমেদ রচিত একটি উপন্যাস।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত তার নিজ জীবনের এবং নিকট সম্পর্কিত ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ব্যক্তির বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তিনি উপন্যাসিক আঙ্গিকে এই উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানসহ তৎকালীন কিছু উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ঘটনা তার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে উঠে এসেছে এই উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের শুরু হয়েছে নীলগঞ্জ স্কুলের আরবী শিক্ষক মাওলানা ইরতাজুদ্দীন কাশেমপুরিকে দিয়ে যিনি ঢাকায় তার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে আসেন।… তারপর শাহেদ আর আসমানীর মমতায় পরিপূর্ণ সংসার জীবনের গভীরে যেতে যেতে পাঠকের পরিচয় ঘটবে নিজের চেনা জগতের সঙ্গে। শাহেদের বড় ভাই ইরতাজউদ্দিন কাশেমপুরির ঢাকায় আসা, রাস্তা হারিয়ে ফেলা, ভুল ঠিকানা, পরিশ্রম আর ক্লান্তিতে বিপর্যস্ত জীবন অস্থির উত্তাল মিছিল স্লোগানমুখর ঢাকায় তার বিপন্ন জীবনবোধ শুরু করিয়ে দেয় এক মহাযাত্রার।

উপন্যাসের এক জায়গায় সংক্ষেপে হুমায়ুন আহমেদ বর্ণনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং হলের ছাত্রদের উপর চালানো বর্বরতার কথা। যদিও বিশদ বিবরণ নেই কোনো ঘটনারই, কিন্তু তাতেও যুদ্ধের ভয়াবহতার কোনো কমতি ছিলো না। খুব সহজ ভাষায় পাকিস্তানী হানাদারদের ৯ মাসের বীভৎসতার বর্ণনা দিয়েছেন।

উপন্যাসে এনেছেন নিজের পরিবারকেও। তার পিতা পিরোজপুর মহকুমার সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার ফয়জুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে থাকা অস্ত্রভাণ্ডার দিয়ে দেন সাধারণ মানুষকে। ৫ মে মিলিটারিরা হত্যা করে ফয়জুর রহমানকে। এরপর তার মা সন্তানদের নিয়ে বাঁচবার জন্য কীভাবে চেষ্টা করেন মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে তার বর্ণনাও রয়েছে।

কবি কলিমউদ্দিন নামে একজন যুবককে উপন্যাসের সূত্রধর হিসেবে দেখা যায়। শামসুর রাহমানের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া থেকে শুরু করে, মাঝেমধ্যে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রবেশ, শেষে আলবদর হয়ে ওঠা পুনরায় শান্তিকামী বাঙালি রূপধারণ অনেক চেনা ঘটনাকেই স্পষ্ট করে। একটি জাতির স্বাধীনতাযুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে আশ্রয় করে লেখা নানা কারণেই অত্যন্ত দুরূহ।

জোছনা ও জননীর গল্প উপন্যাসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অনন্য দলিলস্বরূপ তা বলা যায় নির্দ্বিধায়। এই গল্পের আরেকটি বড় চরিত্র শাহেদ, ২০ মার্চ রাতে যে বাড়িতে শাহেদ আশ্রয় নেয় কঙ্কন নামে একটি মেয়ে। মা-বাবাকে হারিয়ে ফেলেছে। পথভ্রষ্ট শিশু কঙ্কনকে রিফিউজি ক্যাম্পে নিয়ে যায় শাহেদ। অলৌকিকভাবে খুঁজে পায় তার স্বজনদের। বইটির সমাপ্তি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরেই।

শাহেদ ও নাইমুলকে ছাড়াও এই উপন্যাসে চরিত্র হয়ে আরো এসেছেন এসেছেন মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ইন্দিরা গান্ধী, ইয়াহিয়া খান, ভুট্টো, টিক্কা খান; অর্থাৎ সেই সময়কার সব শ্রদ্ধেয় ও নিন্দিত মানুষজন।

ভারতীয় বাহিনীর চরিত্ররা এসেছে যে যার ভূমিকায়। মুক্তিযোদ্ধারা এসেছেন, রাজাকাররা এসেছে। আরও এসেছে সমগ্র দেশের নানা স্তরের নানা রকম মানুষ। ছোটবড় ও ঐতিহাসিক এত চরিত্রের সমাহার আর কোনো বাংলা উপন্যাসে এভাবে এসেছে কি না, এত সার্থকভাবে চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বলে মনে হয়না।

‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসের সব ঘটনাই সত্যাশ্রয়ী। কখনো আত্মজৈবনিক উপাদান, কখনো যুদ্ধদিনের অভিজ্ঞতা, কখনো বা গ্রন্থপাঠ বা অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে উপাদান সংগ্রহ করে লেখক নির্মাণ করছেন আলোচ্য উপন্যাসের কেন্দ্রীয় কাহিনী।


ঢাকা, জুন ০২(বিডিলাইভ২৪)// এস আর
 
        print


মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.