bdlive24

প্রবাসে আমাদের শ্রমই আমাদের সুইস ব্যাংক!

শনিবার জুন ০৩, ২০১৭, ০৮:৫৬ এএম.


প্রবাসে আমাদের শ্রমই আমাদের সুইস ব্যাংক!

প্রবাসী ডেস্ক: জুলাই' ২০১৭ থেকে দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমাণ ১ লক্ষ ১ টাকা হতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক নির্ধারণ করেছে ১০০০ টাকা। অর্থাৎ চলতি মাসে ব্যাংকে (সরকারী ব্যাংক) কেউ ১ লক্ষ টাকা তিন মাস মেয়াদে এফডিআর করলে মেয়াদ শেষে ৪.৫০% হার সুদে মুনাফা পাবেন ১,১২৫ টাকা।

উৎস কর (সোর্স ট্যাক্স) হিসাবে এই ১,১২৫ টাকার ১৫% হিসাবে কাটা যাবে ১৬৯ টাকা এবং আবগারি শুল্ক ১,০০০ টাকা অর্থ্যাৎ (১৬৯+১,০০০= ১,১৬৯ টাকা)। আর তিন মাস পরে গ্রাহক এফডিআরের টাকা ফেরত পাবে ১০০,০০০+১,১২৫-১,১৬৯= ৯৯,৯৫৬ টাকা। অর্থাৎ গ্রাহক তিন মাস টাকা খাটানোর পর লাভ তো দূরের কথা উল্টো আসল হতে ৪৪ টাকা কম পাবে।

যদি এবার বেসরকারী ব্যাংক গুলো দিকে লক্ষ্য করি তাহলেও দেখা যাবে বেশির ভাগ বেসরকারী ব্যাংক গুলোর এফডিআর সুদের হার ও ৪.৫০%-৬% তাদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় হবে। বলতে চাই এটা আমাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের টাকা থেকে কেটে নেওয়া হবে যা অনেকটাই জুলুম আর রক্ত চুষে নেওয়ার সামিল।

এক জন প্রবাসী হিসেবে বলবো, ১ লাখ টাকায় ১ হাজার টাকা ট্যাক্স না কেটে আপনাদের সুইস ব্যাংকের একাউন্ট নাম্বার আমাদেরকে দিয়ে দেন, আমরা প্রবাসীরা সরাসরি সেইখানে মাসে মাসে জমা দিয়ে দেই। ব্যাংকের লেনদেনে ট্যাক্স না বাড়িয়ে বেসিক ব্যাংক থেকে আরো তিন হাজার কোটি টাকা বিনাশর্তে অফেরতযোগ্য বেনামে লোন দিয়ে দেন। সেই টাকা দেশের ১৬ কোটি জনগনের উপর দিয়ে ভাগ দেন কত টাকা ভাগে পড়ে সেটা জানান। সাধারন জনগণ তা দিয়ে দিবে সবাই সবার ভাগেরটা।

আপনারা যারা দেশে রাজনীতি করেন আর প্রবাসে এসে মাঝে মাঝে বড় বড় কথা বলেন আপনাদেরকে বলছি, দয়া করে দেশপ্রেমের নামক সিনেমা ডায়লগ গুলো বাদ দিন। সরাসরি বলেদেন যা যা আপনাদের দরকার। আপনারা হয়ো ভুলে গেছেন গত এক বছরে পাচার হওয়া ৭৩ হাজার কোটি টাকার দেশের জনগণই দিয়েছে। তারপরও বলবো ভ্যাট-ট্যাক্সের নামে এত টাকা না নিয়ে একটা স্পেসিফিক তারিখ দিয়ে দেন। হ্যাকারদের আইডি লিংকটাও দেন। প্রয়োজন ১৬ কোটি জনগন হ্যাকারের আইডিতে টাকা জমা দিয়ে দিবে।

মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপের মানুষগুলা হুন্ডিতে টাকা পাঠালে বেশি পাবে জেনেও ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দেশের রিজার্ভের রেকর্ড বাড়িয়েছে। তাদেরকে আপনার কি বলবেন? আমিতো বলবো তারাই আসল দেশপ্রেমিক, দেশের জন্য কিছু করলে তারাই করছে! তারাই হচ্ছে সত্যিকারের লাল সবুজের বাংলাদেশ। আমি বলবো আপনাদের মত রাজনৈতিক নেতারা না।

১ লাখ টাকার ফ্যানের নিচে বসে বসে, বিশ্বের সবচাইতে ব্যয়বহুল রাস্তা বানানোর কাজের টেন্ডার, এক ইশারায় ২ হাজার টাকার চালের বস্তা ৩ হাজার হয়, গ্যাসের বিল ৮০০থেকে ৯৫০, পড়াশুনার উপরে ট্যাক্স তারপরও সারা মাস খরচের পর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে পরিবারের জন্য কিছু টাকা ব্যাংকে জমা করার সেভিংস একাউন্ট চালানোর সেই রাস্তাও বন্ধ করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন আপনারা।

আবার বলছেন ভরসা রাখুন, চলতি মাসে জুলাইয়ের পর থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি ব্যাংকে জমা দিলে বা তুললে প্রতি লেনদেনে কমপক্ষে ২০০ টাকা আবগারী কর দিতে হবে।

অর্থাৎ ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ১ লাখ পর্যন্ত ২'শ টাকা, ১ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত ১ হাজার টাকা।

১০ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার টাকা সরকার কেটে নেবে। ভালই ''ভরসা রাখার'' কথা বলছেন! ভরসা রাখুন কথাটা বলা খুব সহজ। ফেসবুকের ফ্রেমে প্রোফাইল পিক বানিয়ে ফেলাটা ও অনেক সহজ। কিন্তু আপনাদের মনে রখা উচিত ভরসা রাখার ব্যবস্থা করা কঠিন, আসলে কি বলবো জগতে ''কঠিন'' কাজ কেউই করতে চায় না। সত্যি সত্যি ভরসা রাখার মতো কাজ যদি করতে পারতেন, তাহলে ২০০৯ সাল থেকেও ক্ষমতায় থাকার পরও ‘ভরসা রাখুন’ ফেসবুকের ফ্রেম বানানোর প্রয়োজন হতো না। ১৬ কোটি জনগণ তখন এক সাথেই বলতো নিজেরাই, “ভরসার অপর নাম আওয়ামী লীগ”।

আমরা যারা প্রবাসী, সবাই আমরা শ্রমিক। আপনাদের মত বড় রাজনৈতিক নেতা নই আমরা, প্রবাস থেকে চোখের ইশারায় আপনাদের মতো টাকা কামাতে পারি না। মনে রাখবেন প্রবাসে আমাদের শ্রমই আমাদের সুইস ব্যাংক!

পরিশেষে বলবো, আধুনিক আর ডিজিটাল যুগে এসেও পুরানো দিনের মত সিন্দুক পদ্ধতিতে নিজ বাসায় টাকা রাখার পদ্ধতিতেই আমাদেরকে ফেরত যেতে হবে মনে হচ্ছে।

রনি মোহাম্মদ,
প্রবাসী সাংবাদিক, পর্তুগাল থেকে


ঢাকা, জুন ০৩(বিডিলাইভ২৪)// পি ডি
 
        print

এই বিভাগের আরও কিছু খবর







মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.