bdlive24

দুই বছরেও শেষ হয়নি মামলার তদন্ত, পেনশন আটকা

শুক্রবার জুন ০৯, ২০১৭, ০৭:৪৫ পিএম.


দুই বছরেও শেষ হয়নি মামলার তদন্ত, পেনশন আটকা

বিডিলাইভ রিপোর্ট: মামলা হওয়ার দুই বছর হয়ে গেলো কিন্তু এখনও এসব মামলায় অভিযোগপত্র দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের এই খামখেয়ালীর কারনে পেনশন আটকে গেছে একটি পরিবারের। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে কষ্টে দিনাযাপন করছে একটি পরিবার। পুলিশ বলছে, আজ না কাল এই করে কেটে গেছে প্রায় দুইটি বছর। কিন্তু পুলিশের আজ কাল আর শেষ হচ্ছে না।

২০১৫ সালের ১১ জুন রাতে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার শিববাড়ী মোড়ে ইউরো বাংলা নামের একটি চাইনিজ হোটেলে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন রাতেই তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুইটি মামলা করে। মামলা নম্বর ৮৮/২০১৫ ও ৯০/২০১৫ এ দুই মামলার আসামি আবুল সালেহ। মামলার সময় তিনি বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় চাকরি করতেন। ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি ব্রেইন টিউমারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)মারা যান।

এ ব্যাপারে মৃত আবু সালেহের স্ত্রী আরিফা বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও জয়দেবপুর থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছি। কিন্তু জয়দেবপুর থানার পুলিশ আজ না কাল, কাল না পরশু করছে। আমার ছয় বছরের একটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে রয়েছে। পুলিশ এইসব মামলায় অভিযোগ পত্র কিংবা চুড়ান্ত প্রতিবেদন না দেওয়ার কারনে আমার স্বামীর পেনশন আটকে গেছে। ফলে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে কস্টে দিনপাত করছি।

একটি মামলার তদন্ত কত দিনে শেষ করতে হবে, তদন্তের সময়সীমার বিষয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এর ২৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোন পুলিশ কর্মকর্তা এই আইনের অধীন কোন মামলার তদন্ত কার্যবিধির ধারা ১৫৪ এর অধীন তথ্য প্রাপ্তি অথবা লিপিবদ্ধ করিবার তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে সম্পন্ন করিবেন।

২৪(২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে না পারেন, তাহা হইলে, মামলার ডায়রীতে লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অনধিক ত্রিশ দিন সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

২৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, যদি উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে না পারেন, তাহা হইলে উক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টের অথবা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের লিখিত অনুমোদনক্রমে, অতিরিক্ত অনধিক ত্রিশ দিন সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে বাংলাদেশের বাহিরে অন্য কোন দেশ হইতে সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করিবার প্রয়োজন হইলে উপ-ধারা (১) হইতে (৩) এ বর্ণিত তদন্তের সময়সীমা প্রযোজ্য হইবে না।

২৪(৪) ধারায় বলা হয়েছে, যদি উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অতিরিক্ত বর্ধিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে না পারেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে কারণ উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টকে অথবা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি পুলিশ কমিশনারকে কারণ উল্লেখপূর্বক ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করিবেন, এবং উল্লিখিত কারণ সন্তোষজনক না হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত হইবেন।

মামলা দুইটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের আসন্ন রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা ও নাশকতা করার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় আটককৃতদের কাছ থেকে ২৫টি পেট্রোলবোমা, কিছু জিহাদী বই, পত্রিকা ও সরকারবিরোধী বিপুল পরিমাণ লিফলেট উদ্ধার করার কথা উল্লেখ করা হয়।

গ্রেপ্তারের পরের দিন ১২ জুন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ১৬ জুন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত কারাগারে আটক জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা ও নাশকতা করার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্র সফল করতে ১১ জুন রাতে গাজীপুর জেলা শহরের শিববাড়ি মোড় এলাকায় ইউরো বাংলা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দেশের ১৯টি জেলার জামায়াত-শিবিরের বিভিন্নস্তরের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গোপন বৈঠকে বসে পরিকল্পনা করছিল এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাত পৌনে নয়টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশ জামায়াতের গাজীপুর মহানগর শাখার সেক্রেটারি খায়রুল হাসান ও মহানগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. সাদেকুজ্জামানসহ জামায়াত-শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতদের কাছ থেকে ২৫টি পেট্রোলবোমা, কিছু জিহাদী বই, পত্রিকা ও সরকারবিরোধী বিপুল পরিমাণ লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

জয়দেবপুর থানার পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল হাসান ও গাজীপুর সিটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. সাদেকুজ্জামানও রয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিগত হরতাল-অবরোধ চলাকালে গাড়ি ভাংচুর, গাড়িতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও নাশকতার মামলার আসামিও রয়েছে।

এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত মাহমুদুল হাসান বলেন, মামলা দুইটির তদন্ত প্রায় শেষের পথে। এখন ঊর্ধতন কর্মকর্তারদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন হলেই এইসব মামলার প্রতিবেদন অচিরেই আদালতে জমা দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক সহেলী ফেরদৌস বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর আমাদের পুলিশ সদর দপ্তরে অপরাধ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় পুরাতন মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। মামলার তদন্ত কত দিনে শেষ করতে হবে তাও নিদিষ্ট করে বলা রয়েছে। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিশ্চয় কোন যুক্তি রয়েছে। হয়ত তিনি মামলার রহস্য উন্মোচন করতে কাজ করছেন। অথবা তিনি এই মামলার ক্লু উধাঘটন করতে কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে মৃত আবু সালেহের আইনজীবী শরিফুল হাসান খান বলেন, আবু সালেহে মারা যাওয়ার পর আমরা তার নাম বাদ দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত বলেছেন, পুলিশই তদন্ত শেষে মৃত্যুজনিত কারনে অভিযোগ পত্র থেকে তার নাম বাদ দেবেন। তবে দীর্ঘ দিনে মামলার তদন্ত শেষ করতে না পারায় আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের শোকজ করেছিলেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।


ঢাকা, জুন ০৯(বিডিলাইভ২৪)// এস এ
 
        print

এই বিভাগের আরও কিছু খবর







মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.