সর্বশেষ
রবিবার ৯ই বৈশাখ ১৪২৫ | ২২ এপ্রিল ২০১৮

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'রাণু ও ভানু'

রবিবার, জুন ১১, ২০১৭

419096192_1497156337.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
'রাণু ও ভানু' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রচিত একটি উপন্যাস যা ২০০১ সালে জানুয়ারি মাসে আনন্দ পাবলিশার্স লিমিটেড থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।

কাহিনী সংক্ষেপঃ
প্রতিদিনই সারা দেশ থেকে শয়ে শয়ে চিঠি পান রবীন্দ্রনাথ। যথা সম্ভব সেগুলির উত্তরও দেন তিনি। একদিন একটি চিঠি পেয়ে নিতান্তই কৌতুক অনুভব করলেন কবি। রাণু নামের বারো বছরের এক বালিকা বারাণসী থেকে লিখেছে। এই বয়সেই সে কবির অনেক লেখা পড়েছে। তিনিই তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।

বালিকার অনুযোগ, কবি ইদানীং এত কম গল্প লিখছেন কেন? কবি সেই বালিকার চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন। সাংসারিক জীবনে রবীন্দ্রনাথ কোনদিন অপার শান্তি পাননি। হঠাৎই একদিন বহু রোগভোগের পর কবির প্রিয় জ্যেষ্ঠা কন্যা মাধুরীলতা মারা গেল।

ভেঙে পড়লেন কবি। সেদিনই অশান্ত মনে ভাড়া-করা গাড়িতে এলেন ভবানীপুরে। নম্বর মিলিয়ে একটি বাড়ির সামনে এসে চেঁচিয়ে ডাকলেন, রাণু! রাণু! তরতরিয়ে নেমে এল এক বালিকা। কবির চোখের পলক পড়ে না। এ কাকে দেখছেন তিনি? এ পরী না স্বর্গের অপ্সরা!

সেদিনই আটান্ন বছর বয়সী কবির সঙ্গে এই বালিকার এক অদ্ভূত সম্পর্ক রচিত হয়ে গেল। রাণু হয়ে উঠল কবির খেলার সঙ্গী, নব নব লেখার প্রেরণাদাত্রী, হারানো 'বউঠান'। আর রাণুর কাছে কবি প্রিয় ভানুদাদা। তার একান্ত আপন ভানুদাদা। কবির চীন ভ্রমনের সময় তার অগোচরে রাণুর বিয়ে ঠিক হয়ে গেল।

রাণু আজ স্যার রাজেন মুখার্জির পুত্র বীরেনের ঘরণী। দুটি সন্তানের জননী। কবি আজ বৃদ্ধ। কী পেলেন তিনি রাণুর কাছ থেকে জীবনের পড়ন্তবেলায়। সে কি শুধু 'চোখের জলে দুধের শোভা'? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কলমে এক অভিনব ও তুলনাহীন উপন্যাস।

লেখর পরিচিতি:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালে ৭ সেপ্টেম্বর অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এই সাহিত্যিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কবি। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক। তার কবিতার বহু পংক্তি সাধারণ মানুষের মুখস্থ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "নীললোহিত", "সনাতন পাঠক" ও "নীল উপাধ্যায়" ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

১৯৫৩ সাল থেকে তিনি কৃত্তিবাস নামে একটি কবিতা পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একা এবং কয়েকজন’ এবং ১৯৬৬ খ্রিস্টোব্দে প্রথম উপন্যাস ‘আত্মপ্রকাশ’ প্রকাশিত হয়।

তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হল ‘আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি’, ‘যুগলবন্দী (শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে), অর্ধেক জীবন, অরণ্যের দিনরাত্রি, অর্জুন, প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, মনের মানুষ ইত্যাদি।

শিশুসাহিত্যে তিনি "কাকাবাবু-সন্তু" নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি ভারতের জাতীয় সাহিত্য প্রতিষ্ঠান সাহিত্য একাডেমি ও পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর একাডেমির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১২ সালে ২৩ অক্টোবর হৃদযন্ত্রজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঢাকা, রবিবার, জুন ১১, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ২৬ বার পড়া হয়েছে