bdlive24

বাজেট গ্রহনযোগ্য নয়: বিএনপি

রবিবার জুন ১১, ২০১৭, ০৩:৪২ পিএম.


বাজেট গ্রহনযোগ্য নয়: বিএনপি

বিডিলাইভ রিপোর্ট: ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাবের ১১ দিনের মাথায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘বঞ্চনার বাজেট’ অভিহিত করে এটি জনগণের কাছে ‘অগ্রহনযোগ্য’ বলে মনে করছে দলটি।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আনুষ্ঠানিক এই বাজেট প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বাজেট বিশ্লেষণ করে বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কেবলমাত্র অলীক স্বপ্ন-কল্পনাই এই বাজেটের ভিত্তি।’

প্রস্তাবিত বাজেটে মানব উন্নয়ন খাত ও কৃষির মতো খাত উপেক্ষিত থেকেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রাধান্য পেয়েছে চোখ ধাঁধানো কিছু মেগা প্রকল্প। যেভাবে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে, ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এগুলোর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে; তার ফলে এসব প্রকল্পের উপযোগিতা কতদিনে উঠে আসবে এবং আদৌ উঠে আসবে কি না তাও অনিশ্চিত।’

তিনি বলেন, ‘জনগনের প্রতিনিধিত্বহীন পার্লামেন্টে যেখানে কোন জবাবদিহিতা নেই, সেই পার্লামেন্টে এই বাজেট পেশ করা হয়েছে। এখানে সরকারের দায় কোথায়? জনগণের কাছে সরকারের কোন দায়বদ্ধতা নেই বলেই এই বঞ্চনার বাজেট জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

নির্বাচনের আগে সরকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এগুলোকে নির্বাচনী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, জনগণের ওপরে করের বোঝা চাপিয়ে একটি গাণিতিক হিসেবের বাজেট হিসেবে এই বাজেট পেশ করা হয়েছে। সরকার এইসব প্রকল্পকে নির্বাচনী প্রচারনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। তারা বলতে চাইবে দেশের একমাত্র উন্নয়নকারী তারাই।

পরিসংখ্যানের তেলেসমতি ঘটিয়ে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের চমক দেখানো হচ্ছে দাবি করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘সরকার পরিসংখ্যান জনিত বিভ্রাট ঘটিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দেখানোর সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। প্রশ্নবিদ্ধ জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা এক ধরনের আত্মতুষ্টিজনিত রোগে ভুগছেন।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশে বাংলাদেশের এত বিরাট অংকের টাকা চলে যাচ্ছে অথচ সরকার একেবারেই নীরব। রহস্যজনকভাবে বিশাল অংকের এই টাকা ফিরিয়ে আনার কোন সরকারী উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না।’

বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘ব্যাংকে লুটপাট সরকারের পাশের লোক না হলে কেউ করতে পারে না। এতে সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে এটা পষ্ট। এই অর্থ লোপাট ও অর্থ পাচারের কোনো ঘটনার বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা আজো নেয়া হয়নি, যা রীতিমতো বিস্ময়ের ব্যাপার।’

বাজেটে প্রস্তাবিত ১৫% ভ্যাট দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘উচ্চহারে ভ্যাট আহরণের ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়বে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র মানুষ ভয়ানক দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে।’

ব্যাংকে আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এতে ব্যাংকিং সেক্টরে বিপর্যয় আসতে পারে।এর ফলে আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা রাখার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে। এ সময় ব্যাংক আমানতের ওপর বর্ধিত শুল্ক বাতিলসহ ব্যাংক ব্যবস্থার পরিপূর্ণ সংস্কার দাবি করেন তিনি।

দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে বলে সরকারের স্লোগানের জবাবে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের মহাসড়ক খানাখন্দকে ভরা। এর উপর দিয়ে চলতে গেলে পদে পদে দুর্ঘটনার আশংকা।’

বাজেটের কিছু কিছু প্রস্তাব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

তিনি বলেন, লোকের চোখে দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে গিয়ে, দ্বিগুন চারগুন অর্থ ব্যয় করে একদিকে সম্পদের অপচয় ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। প্রকল্প গ্রহনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে না। প্রকল্প ব্যয়েও স্বচ্ছতা নেই। এই বাজেট জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, পহেলা জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লক্ষ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন।


ঢাকা, জুন ১১(বিডিলাইভ২৪)// এস এ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.