সর্বশেষ
সোমবার ১০ই বৈশাখ ১৪২৫ | ২৩ এপ্রিল ২০১৮

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিক্ষা বিশ্বকাপে ফলবে

শুক্রবার, জুন ১৬, ২০১৭

1451429972_1497612356.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলাদেশের একটা ভালো সুযোগ ছিল। ভারতকে টপকে প্রথমবারের মত ফাইনালে যাওয়ার সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ।

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টিম টাইগার্স। যে জুটির বদৌলতে বাংলাদেশ ৩০০ রান ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। যদিও ভারতের মত ব্যাটিং লাইনের সামনে এ রান খুব একটা বড়সড় কিছু নয়। তবুও সেমির মঞ্চে ৩০০ প্লাস রান সত্যিই যে কোনো দলকে জয়ের পথে নিয়ে যাবে।

যেখানে পিচটা একেবারে ফ্ল্যাট, মানে রান সহায়ক। যে উইকেটে বোলারদের খুব একটা কিছু করার থাকে না। এমন কন্ডিশনে বাংলাদেশ ২৬৫ রান সংগ্রহ করে, যেটা মোটেও ভালো সংগ্রহ নয়। সংগ্রহটা আহামরি হয়নি বলে বোলিংটা আরও ভালো করা দরকার ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সেখানেও পারেনি। বোলাররা ভালো বল করেছে খুবই কম। উইকেট টেকিং বল হয়নি বললেই চলে। শিখর ধাওয়ান আর রোহিত শর্মা যেভাবে শুরু থেকেই ভারতে টেনে নিয়ে যায়, এককথায় দুর্দান্ত। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষাও ছিল অন্যরকম। যা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

বিরাট কোহলি আবারও প্রমাণ করল সে কতটা ভালো ক্রিকেটার, বিশেষ করে রান তাড়া করে জিততে। মাশরাফির হাত ধরে শেষমেশ এক উইকেট প্রথম উইকেট পেল বাংলাদেশ। কিন্তু বিরাট দাপটে আর লড়াইয়ে ফেরা হলো না টাইগারদের।

আমার মনে হচ্ছে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা বড় ম্যাচের চাপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারত যে জায়গায় সফল হয়েছে, কারণ ওরা এর আগেও এমন ম্যাচে লড়াই করেছে। ফলে তারা জানে কি করে চাপ কাটিয়ে খেলতে হয়। বড় কোনা আসরে এটাই বাংলাদেশ দলের জন্য প্রথম লড়াই ছিল। যে চাপটা তারা সহজভাবে নিতে পারেনি।

যখন আপনি কোনো টুর্নামেন্টের বড় আসরের ফাইনালে দিকে যাওয়ার চিন্তা করবেন, তখন অবশ্যই মাথা থেকে সব চাপ নামিয়ে ফেলতে হবে। মিডল অর্ডারেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মোসাদ্দেক হোসেন কেউই সেরাটা খেলতে পারেনি। বড় আসরে তাদের থেকে এমন চাওয়া ছিল না।

অনিয়মিত বোলার কেদার যাদব যেটা করেছে এটা সত্যিই ভাবনায় ছিল না। বাংলাদেশ যদি যাদবের বলগুলো দেখেশুনে খেলত। বলের গুণাগুণ বিবেচনা করে শট নিত, তাহলে খুব সহজেই ৩২০ রান সংগ্রহ করতে পারত মাশরাফিরা। অবশ্য এ সংগ্রহ কতটা অভয় দেবে ভারতের মত শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেটা বলা মুশকিল। তবে ক্রিকেট সবই সম্ভব।

কিন্তু এর মানে এই না যে, সব শেষ হয়ে গেছে। আগামী দিনে বাংলাদেশ আবারও এমন জায়গায় খেলবে, তখন আর বুঝতে অসুবিধা হবে না কি করে ম্যাচটা জেতা যায়। আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি তাদের অনেক দিয়েছে। এখান থেকে অনেক কিছু শিখেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটাররা দেখিয়েছেন কি করে বড় আসরের দলকে সেমিতে নিতে হয়। ভালো কিছু সময়, ভালো কিছু খেলা অবশ্যেই খেলেছে বাংলাদেশ। যেটা তাদের নিয়ে গেছে সেমির মত জায়গায়। আমি মনে করি, এটা ২০১৯ বিশ্বকাপের ভালো একটা রিহার্সাল। এই আসরের ক্ষত থেকেই শিক্ষা নেবে বাংলাদেশ। যে অভিজ্ঞতা কিংবা অর্জন আগামী দিনে বাংলাদেশকে আরও উজ্জ্বল সাফল্য এনে দেবে।

ফাইনালের মত জায়গায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অবশ্য রোমাঞ্চ ছড়াবে। আমার অভিমত, ফুটবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের চেয়ে কোনো অংশে কম যাবে না পাক-ভার লড়াইটা। একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ চলাকালে টিভির ভিউ অনেক দূর চলে যাবে।

আমার বিশ্বাস পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকবে ভারত। গেল কয়েকটা ম্যাচের দিকে তাকান, যেখানে ভারতই আধিপত্য করছে। ভারতীয় দলে একাধিক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আছে, ভালো বোলারের ঘাটতিও নেই। ফলে তাদেরকে আমি ফাইনালে এগিয়ে রাখছি। আমা করছি, ফাইনাল ফাইনালের মতেই হবে। হাড্ডাহাড্ডি একটা লড়াই দেখবো।

কলাম: হাবিবুল বাশার সুমন (সাবেক টাইগার দলনেতা)

-উইজডেন ইন্ডিয়া থেকে অনুবাদকৃত।

ঢাকা, শুক্রবার, জুন ১৬, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // ম. উ এই লেখাটি বার পড়া হয়েছে