সর্বশেষ
শুক্রবার ১০ই ফাল্গুন ১৪২৪ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সমরেশ মজুমদারের 'আট কুঠুরি নয় দরজা'

শনিবার ১৭ই জুন ২০১৭

782276382_1497671045.png
বিডিলাইভ ডেস্ক :
'আট কুঠুরি নয় দরজা' সমরেশ মজুমদার রচিত একটি জনপ্রিয় (মৌলিক থ্রিলার) উপন্যাস যা ২০০৩ সালে আনন্দ পাবলিশার্স লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয়।

'আট কুঠুরি নয় দরজা'র অর্থ কি?
আট কুঠুরি নয় দরজা মানে কিন্তু এখানে আটটি ঘর আর নয়টি দরজাকে বুঝানো হয় নি। তাহলে এখানে কি বুঝানো হলো?

মানুষের মোট গ্রন্থি আটটি। পিটুইটারি, থাইমাস, থাইরয়েড, প্যরা থাইরয়েড প্রভৃতি। এই শরীরটা বেঁচে আছে এই আটটি গ্রন্থির ভেতর দিয়ে হর্মোন সিক্রিয়েশন করার জন্য। আর এই আটটি গ্রন্থির সাথে যুক্ত শরীরের নয়টি দ্বার। আর তিনতলা হলো শরীরের মস্তিষ্ক, কোমর থেকে শরীরের ঊর্ধ্বভাগ এবং নিম্নভাগ। চোখ, মুখ, নাক, কান প্রভৃতি নয়টা দ্বার নিয়ে ছড়িয়ে আছে যা স্নায়ুশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে।

কাহিনী সংক্ষেপ:
এই দুর্দান্ত কৌতূহলপূর্ণ থ্রিলারের পটভূমি ভারতবর্ষের কাছাকাছি এক পাহাড়ী রাজ্য। একনায়কতন্ত্রী শাসন ব্যবস্থাধীন এই রাজ্যের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে তলে-তলে চলতে থাকে বিপ্লব সংগঠনের প্রয়াস।

আকাশলাল ছিল এই বিপ্লববাহিনীরই নেতা। প্রশাসনিক তৎপরতায় বিদ্রোহ দমিত হল; গা ঢাকা দিল আকাশলাল ও তার প্রধান সঙ্গীরা। পুলিশের জাল কেটে বেরুতে গিয়ে একে-একে নিহত হল আকাশলালের সঙ্গীরা। অবশেষে একদিন আকশলালও হল বন্দী।

পুলিশী হেফাজতে আকস্মিক মৃত্যু ঘটে গেল আকাশলালের। সম্ভাব্য জনরোষ ও উত্তেজনা এড়াতে চুপিচুপি কবর দেওয়া হল তাকে।

আশ্চর্য, কীভাবে যেন আবার একদিন ফিরে এল অমর বিপ্লবী আকাশলাল।

কীভাবে? আট কুঠুরি ও নয় দরজার কী সেই অনন্য রহস্য যার সহায়তায় মৃত্যুকেও জয় করল আকাশলাল?

তারপর?

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুরন্ত রহস্য-রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় ভরপুর ‘আট কুঠুরি নয় দরজা’। সম্পূর্ণ মৌলিক, তবু যে-কোনও রুদ্ধশ্বাস বিদেশী থ্রিলারকেও হার মানায় সমরেশ মজুমদারের কীর্তিময় কলমের এই কাহিনী।

লেখক পরিচিতি :
সমরেশ মজুমদার ১০ মার্চ ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা বাগানে। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল থেকে। তিনি বাংলায় গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে এবং মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

কর্মজীবনে তিনি আনন্দবাজার প্রকাশনার সাথে যুক্ত ছিলেন। গ্রুপ থিয়েটারের প্রতি তার প্রচন্ড আসক্তি ছিলো। তার প্রথম গল্প 'অন্যমাত্রা' লেখাই হয়েছিলো মঞ্চ নাটক হিসাবে, আর সেখান থেকেই তার লেখকজীবনের শুরু। তার লেখা অন্যমাত্রা ছাপা হয়েছিলো দেশ পত্রিকায় ১৯৬৭ সালে।

সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস 'দৌড়' ছাপা হয়েছিলো দেশ পত্রিকায় ১৯৭৬ সালে। তিনি শুধু তার লেখনী গল্প বা উপন্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী থেকে কিশোর উপন্যাস লেখনীতে তার জুড়ি মেলা ভার।

সমরেশ মজুমদারের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস গুলির মধ্যে সাতকাহন, তেরো পার্বণ, স্বপ্নের বাজার, উজান গঙ্গা, ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অনুরাগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অনেক অসাধারণ লেখনীর শব্দের এই রূপকার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৮২ সালে আনন্দ পুরষ্কার, ১৯৮৪ সালে সত্য আকাদেমি পুরষ্কার, বঙ্কিম পুরস্কার এবং আইয়াইএমএস পুরস্কার জয় করেছেন।

স্ক্রীপ্ট লেখক হিসাবে জয় করেছেন বিএফজেএ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির এওয়ার্ড। সমরেশ কলকাতা, তথা বাংলার সর্বকালের অন্যতম সেরা লেখক হিসাবে পাঠক মন জয় করেছেন।

ঢাকা, শনিবার ১৭ই জুন ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি 222 বার পড়া হয়েছে