সর্বশেষ
রবিবার ৯ই বৈশাখ ১৪২৫ | ২২ এপ্রিল ২০১৮

গুলশানে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে বিএমডব্লিউ গাড়ি আটক

রবিবার, জুন ১৮, ২০১৭

437007452_1497796714.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
রাজধানীর গুলশান থেকে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে 'প্রিভিলেজড পার্সন'-এর বিএমডব্লিউ গাড়ি  আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। আজ রবিবার সকালে গাড়িটি আটক করা হয়। গাড়িটি জাতিসংঘের ইউএনডিপির নিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা পরামর্শক নেপালি নাগরিক সন্তোষ ধুঙ্গানা ব্যবহার করতেন। গাড়িটিতে কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহার করা হয়েছিল। গাড়িটি বাংলাদেশে ‘প্রিভিলেজড পারসন’ কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা হয়েছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দার চলমান চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধ অভিযানের অংশ হিসাবে আজ রবিবার সকালে গুলশানের ১১৭ নম্বর সড়কের বাড়ি নম্বর ৯/সির প্রথম তলার শিহাব’স অ্যাট্রিয়াম থেকে গাড়িটি আটক করা হয়। বিএমডব্লিউ মডেলেল গাড়িটির রেজিস্টেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো অ-০০০৪৪৩। ২০০১ সালে গাড়িটি তৈরি হয়েছিল।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, বিআরটিএ-তে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে এটি ভুয়া বলে জানা যায়। ইন্টারন্যাশনাল রিলোকেশন এ্যাসিসটেন্স সার্ভিসেস ও কালাম রিয়েল এস্টেট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মো. সালমান কালাম নামের ব্যক্তির ফ্লাট থেকে গাড়িটি আটক করা হয়। আটকের সময় তিনি কোন আমদানি বা ক্রয় সংক্রান্ত দলিলাদি শুল্ক গোয়েন্দার তদন্ত দলকে দেখাতে পারেননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন গাড়িটি তার ভাড়াটিয়া নেপালি নাগরিক সন্তোষ ধুঙ্গানা ব্যবহার করতেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী জনাব ধুঙ্গানা জাতিসংঘের ইউএনডিপির নিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১৬ সালের প্রথমভাগে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এ ব্যাপারে ইউএনডিপির কর্মকর্তা মেজর শরীফ অবগত আছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শুল্ক গোয়েন্দার অভিযান চলাকালে সালমান কালাম মোবাইলে মেজর শরীফকে গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দা আটক করে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান এবং এই ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে বলেও তিনি মেজর শরীফকে অবহিত করেন।

গোপন সংবাদ অনুযায়ী, গাড়িটিতে কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহার করা হয়েছিল। গাড়ির চেসিস নম্বর সংগ্রহ করে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, গাড়িটি বাংলাদেশে ‘প্রিভিলেজড পারসন’ কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা হলেও পরবর্তীতে কাস্টমস আইনের বিধান অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে এটির নিষ্পত্তি না করে ধুঙ্গানা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। শুল্ক গোয়েন্দার নিকট আরো তথ্য ছিল যে, ধুঙ্গানা গাড়িটি অবৈধভাবে বর্তমান ব্যবহারকারী জনৈক ননপ্রিভিলেজড পারসনের কাছে হস্তান্তর করে এর মাধ্যমে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন, যা শুল্ক আইনে শাস্তিযোগ্য। শুল্ক গোয়েন্দার চলমান অভিযানের ফলে গাড়িটি প্রায় ছয়মাস যাবত গুলশানের ওই বাড়ির গ্যারেজে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে  শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান বলেন, একটি বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা, রবিবার, জুন ১৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // ই নি এই লেখাটি বার পড়া হয়েছে