bdlive24

ক্রিকেটের জন্য নৌবাহিনীর চাকরি ছেড়েছিলেন ফখর

সোমবার জুন ১৯, ২০১৭, ১২:২২ এএম.


ক্রিকেটের জন্য নৌবাহিনীর চাকরি ছেড়েছিলেন ফখর

বিডিলাইভ ডেস্ক: মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০০৭ সালে পরিবারের অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে চাকরি নিয়েছিলেন ফখর জামান। কিন্তু ক্রিকেটর নেশাটা যে আজন্ম! নৌবাহিনীতে থাকা অবস্থায়ও তিনি ক্রিকেট চালিয়ে গেছেন সময়-সুযোগে। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে এই ক্রিকেটের জন্যই তিনি নৌবাহিনীর চাকরি ছাড়েন।

তবে যতটা সহজে বলা হয়ে গেল, ফখর জামানের ক্রিকেটের জীবনের চাকা কিন্তু অত সহজে ঘোরেনি। কঠিন পরীক্ষা দিয়েই পাকিস্তানের ক্রিকেটে এসেছেন তিনি।

এসএসসি পাশের পরই বদলে যায় ফখরের জীবন। ক্রিকেট দুনিয়া ছেড়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নাম লেখান পাকিস্তান নৌবাহিনীতে। ২০০৭ সালে নাবিক হলেও ক্রিকেট থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হননি তিনি। মাঝেমধ্যেই খেলতেন নৌবাহিনীর আন্তঃবিভাগীয় টুর্নামেন্ট। সেখানেই তিনি নজরে পড়ে যায় নৌবাহিনীর ক্রিকেট একাডেমির কোচ আজম খানের। তার পরামর্শে নৌবাহিনীর শারীরিক প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি পরে।

ব্যস তাতেই শুরু ফখরের দ্বিতীয় যুদ্ধ। ক্রিকেটকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়াতেই হয়তো ২০১৩ সালে ছেড়ে দেন নৌবাহিনীর চাকরি। ভাগ্যও তার সহায় ছিল, সান্নিধ্য পেয়ে যায় পাকিস্তানের গ্রেট ইউনিস খানের। একই এলাকার ছেলে বলে ফখরকে ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ইউনিস। তার কথা মতো নেমে পড়েন ২২ গজের লড়াইয়ে। ঘরোয়া ক্রিকেটের পর পাকিস্তান সুপার লিগের (আইএসএল) দ্বিতীয় আসরেও আলো ছড়ান তিনি ব্যাট হাতে। সবশেষ আসরেও সচল রাখেন রানের চাকা।

আর এই ইংল্যান্ডের টুর্নামেন্ট দিয়েই অভিষেক হয় তার। তবে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে সুযোগ হয়নি এই ওপেনারের। আরেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদ খারাপ করায় সুযোগ পেয়ে যান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের ম্যাচে। আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দিয়ে শুরু করা এই মিশনে টানা দুই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নিজের সেই অর্জনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন আরও দূরে। দুর্দান্ত সব শটে খেলে যান ১১৪ রানের ঝলমলে ইনিংস।

একে শিরোপা নির্ধারণের মঞ্চ, তার ওপর আবার প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। দুটো একসঙ্গে হওয়াতেই সম্ভবত নিজের সেরাটা দেখিয়ে দিলেন পাকিস্তানি এই ওপেনার। ফাইনাল মঞ্চে বুক চিতিয়ে লড়াই করে তুলে নিলেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও।

সত্যিই ফখরের রাজত্ব মারদানের ছোট্ট শহর কাটলাং থেকে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা পাকিস্তানে। তার বাবা বলেন, “একটা সময় ফখর ছিল শুধু কাটলাংয়ের গৌরব, এখন সে ‘পাকিস্তানের ফখর’।”


ঢাকা, জুন ১৯(বিডিলাইভ২৪)// এস এইচ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.