bdlive24

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'মনের মানুষ'

শুক্রবার জুন ৩০, ২০১৭, ১১:৪২ এএম.


সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'মনের মানুষ'

বিডিলাইভ ডেস্ক: 'মনের মানুষ' উপন্যাসটিতে লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লালনের জীবনের মূলভাব ও আদর্শ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। লালন সবসময় প্রচার বিমুখ থাকায় তার সঠিক জন্ম ইতিহাস কিংবা তার জীবদ্দশার তথ্যাবলি তেমন একটা পাওয়া যায় না।

তবে তার বিভিন্ন গান যেমন “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে? লালন বলে জাতের কি রূপ দেখলাম না এই নজরে।” কিংবা “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়?” অথবা “মিলন হবে কত দিনে? আমার মনের মানুষের সনে” ইত্যাদি গানগুলোতে তার জীবনদর্শন অনেকটাই উপলব্ধি করা যায়।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার গানের বিশেষ ভক্ত ছিলেন। মূলত তিনিই আধুনিক সমাজের সাথে লালনের গানের পরিচয় করিয়ে দেন। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে লালনের কখনও প্রত্যক্ষ আলাপ-পরিচয় হয়েছে বলে কোন প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি।

কাহিনী সংক্ষেপ:
কুষ্টিয়া অঞ্চলের একটি কায়স্থ (হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উপবর্ণ বিশেষ) পরিবারে জন্ম নেয় লালু নামের একটি ছেলে। শৈশব কালেই বাবাকে হারিয়ে মায়ের আঁচলে বড় হতে থাকে সে। প্রায় কিশোর বয়সেই করতে হয় বিয়ে। কাজে কর্মে কোন মন নেই। গানকে সে অনেক ভালোবাসে।

একদিন গঙ্গাস্নানের উদ্দেশ্যে একটি দলের সঙ্গে বহরমপুরে যাত্রা করে লালু। পথিমধ্যে বসন্ত রোগের কবলে পরতে হয় তাকে। সঙ্গী-সাথীরা তাকে মৃত ঘোষণা করে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়। তবে ভাগ্যের চরমলীলা খেলায় লালু প্রাণ ফিরে পায় এক মুসলমান মায়ের সেবায়।

এমন সময় তার সাথে পরিচয় হয় সিরাজ সাঁই নামক এক সাধকের সাথে। সুস্থ হয়ে যখন লালু তার আপন গৃহে ফিরে যায় তখন তাকে শুনতে হয় ধর্মচ্যুত হওয়ার অপবাদ। নিজের গর্ভধারিণী মাও যখন এই অপবাদ ছিটকে দিয়ে ঘরে ঠাই না দেয় তখন রাগে অভিমানে লালু চিরদিনের জন্যে গৃহত্যাগ করেন।

গৃহত্যাগের পরে লালু এক জঙ্গলে নিজের আবাসস্থল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিজের অতীতের সব কিছু মাটি চাঁপা দিয়ে লালু থেকে লালন নামে তার নতুন জীবন শুরু করে। এরকম একটি প্রেক্ষাপট দিয়েই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার ‘মনের মানুষ’ উপন্যাসটি রচনা করেছেন।

লেখক পরিচিতি:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বিংশ শতকের শেষার্ধে আবিভুর্ত একজন প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক। ২০১২ সালে মৃত্যুর পূর্ববর্তী চার দশক তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা-ব্যক্তিত্ব হিসাবে সর্ববৈশ্বিক বাংলা ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন।

বাংলাভাষী এই ভারতীয় সাহিত্যিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কবি।

একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক। তার কবিতার বহু পংক্তি সাধারণ মানুষের মুখস্থ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "নীললোহিত", "সনাতন পাঠক" ও "নীল উপাধ্যায়" ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।


ঢাকা, জুন ৩০(বিডিলাইভ২৪)// এস আর
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.