bdlive24

‘বস-২’ সিনেমার রিভিউ

সোমবার জুলাই ০৩, ২০১৭, ০৬:৪৪ পিএম.


‘বস-২’ সিনেমার রিভিউ

বিনোদন ডেস্ক: বস-২: ব্যাক টু রুল

ধরণ: ক্রাইম এ্যাকশন থ্রিলার

পরিচালক: রাজেশ কুমার যাদব (বাবা যাদব) ও আব্দুল আজিজ

কাস্ট: জিৎ (সূর্য্য), শুভশ্রী (রুশা রয়), নুসরাত ফারিয়া (আইশা), ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত (বিদ্যুৎ সিভালকার), অমিত হাসান (প্রিন্স শাহনেওয়াজ হুসেইন)

নামকরণ: ২০১৩ এর বস-বর্ন টু রুল এর সিক্যুয়েল বা ধারাবাহিক গল্প হিসেবে ছবির নাম বস রিটার্ন্স বা বস ওয়ান্স এগেইনও রাখা যেত। তবে বস-২: ব্যাক টু রুল নামটাই পারফেক্ট ছিল।

কাচিস (কাহিনী+চিত্রনাট্য+সংলাপ):

বস এর প্লেইন সিক্যুয়েল হিসেবে বস এর কাহিনী যেখানে শেষ হয়েছে বস-২ এর কাহিনী সেখান থেকেই শুরু হয়েছে। তবে এর মাঝে বিরাট প্লটহোল রয়ে গেছে। কারণ বস সিনেমাতে সূর্য্য বিজনেস ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সারা ভারতজুড়ে তার সাম্রাজ্য ছড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বস-২ তে এসে দেখা গেল “সূর্য্য ফাউন্ডেশন” এর জন্য সূর্য্যকে আবার নতুন করে সব প্রতিষ্ঠা করতে হচ্ছে। দুই ছবির মাঝখানে এমন কি ঘটেছিল যার কারণে সূর্য্যকে বস এর পুনরাবৃত্তি করতে হয়েছে সেটা স্পষ্ট করা হয়নি।

বস সিনেমার গল্প হুবহু কপি হলেও চিত্রনাট্যের ভিন্নতার কারণে বস-২ কে মৌলিক গল্পের ছবি বলেই মনে হবে। তবে এটা অনস্বীকার্য যে এই ছবির গল্পের থিম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রথমার্ধ তামিল মুভি সিভাজি এবং দ্বিতীয়ার্ধ ইন্দোনেশীয় মুভি দ্য রেইড এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

সংলাপগুলো মোটামুটি ভাল ছিল এবং অন্য সবার চেয়ে ভরাট কণ্ঠের অধিকারী জিতের মুখে সাধারণ সংলাপগুলোও গাম্ভীর্যপূর্ণ মনে হয়েছে। তবে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী প্রিন্স শাহনেওয়াজ হুসেইন চরিত্রে অমিত হাসান ও বাংলাদেশের পুলিশদের মুখে আঞ্চলিক সংলাপ বলিয়ে বোঝানো হয়েছে বাংলাদেশের জনগণ শুধুমাত্র অশুদ্ধ ও “বাঙ্গাল” ভাষাতেই কথা বলে। যা বাংলাদেশের বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর জন্য অপমানজনক।

টীমওয়ার্ক:

নিঃসন্দেহে এই ছবির প্রধান চরিত্র বস সূর্য্য ওরফে জিৎ একজন জাত অভিনেতা এবং একথা এই সিনেমার ক্ষেত্রেও সত্য। তবে এর চেয়েও চরম সত্য এই যে, বস সিনেমায় জিৎ “সূর্য” চরিত্রে এর অরিজিনাল মুভি “বিজনেসম্যান” এর মহেশ বাবুর রাফ এন্ড টাফ আউটলুক আর ডায়লগ ডেলিভারি স্টাইল প্রায় হুবহু ফলো করেছিলেন বলে হয়তো চরিত্রটির গভীরতা ফুটিয়ে তোলা সহজতর হয়েছিল। কিন্তু “মৌলিক” স্ক্রিপ্টের জন্য হয়তো বস-২ তে চরিত্রটির স্বকীয়তা বজায় ছিল না।

শুভশ্রী গাঙ্গুলীর করা রুশা চরিত্রটির গুরুত্ব তুলনামূলক কম হলেও পারফর্ম্যান্স ভাল ছিল। ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের সর্বাপেক্ষা চ্যালেঞ্জিং (এবার রোমান্স ছাড়াই নাচগান সাথে এ্যাকশন) চরিত্র আইশা’কে ফুটিয়ে তুলতে নুসরাত ফারিয়া যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন এবং তা জারি রাখলে ভবিষ্যতে এর চেয়েও ভাল করবেন বলে আশা করা যায়।

বিদ্যুৎ সিভালকার চরিত্রে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত বরাবরের মত ভাল কাজ উপহার দিলেও এ্যাকশন দৃশ্যে তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ খুবই দুর্বল ছিল। এছাড়া প্রিন্স শাহনেওয়াজ হুসেইন চরিত্রে অমিত হাসান, মেয়র গোপীনাথ চরিত্রে সুপ্রিয় দত্ত ও পুলিশ কমিশনারের চরিত্রে চিরঞ্জিত চক্রবর্তীসহ বাকি সকলেই নিজেদের চরিত্রের ধরণ ও ব্যাপ্তি অনুযায়ী ভাল কাজ উপহার দিয়েছেন। তবে দুঃখের ব্যাপার বরাবরের মত এই যৌথ প্রযোজনার সিনেমাতেও বাংলাদেশের শিল্পীরা অবহেলিত হয়েছেন। মূল্যহীন ও নামমাত্র চরিত্রে নাদের চৌধুরী ও সুষমার উপস্থিতি সেই কথারই প্রমাণ দেয়।

এ্যাকশন সিনেমা নির্মাণে পরিচালক রাজেশ কুমার যাদব ওরফে বাবা যাদব বরাবরের মত যত্ন নিয়ে কাজ করেছেন। তবে বেশকিছু বিষয়ে তার আরো হোমওয়ার্ক করার দরকার ছিল বলে প্রতীয়মান।

কারিগরি:

সিনেমাটির সবচেয়ে পজিটিভ কারিগরি দিক হচ্ছে সিনেমাটোগ্রাফি ও লোকেশন সিলেকশন। লাইটিং কোয়ালিটি ভাল ছিল, তবে কর্তৃপক্ষের উচিৎ ছিল মফস্বলের সিনেমা হলগুলোর কথা মাথায় রেখে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের লাউডনেস একটু সীমিত রাখা, কারণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের আধিক্যের কারণে অনেক সংলাপ স্পষ্ট শুনতে ও বুঝতে সমস্যা হয়েছে। এরাঞ্জমেন্ট, সেটআপ, গেটআপ, মেকআপ, স্পেশাল এফেক্টসহ আনুষঙ্গিক কারিগরি দিকগুলো ভাল ছিল, তবে কিছুক্ষেত্রে ভুল পরিকল্পনার কারণে এগুলো অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করে স্বাভাবিকতা নষ্ট করা হয়েছে। (যেমন বাংলাদেশের মাজারের প্রেক্ষাপটে আফগানি স্টাইল ও পোশাকে “ইয়ারা মেহেরবান” গানটি।) দুঃখের ব্যাপার বাংলাদেশী কারিগরি প্রপঞ্চ যে এই সিনেমাতে ১০%ও ব্যবহার করা হয়নি।

বিনোদন:

ক্রাইম এ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার ছবিগুলোতে সাধারণত রোমান্স ও কমেডির পরিমাণ কম থাকলেও বিনোদনের কোটা পূরণ করে এ্যাকশন আর গল্পের থ্রিল বা টুইস্ট। এই সিনেমাতে বেশিরভাগ টুইস্ট পূর্ব থেকে অনুমেয় হলেও এ্যাকশন দৃশ্যগুলো ছিল প্রশংসনীয়। বিশেষ করে চেজিং সিকোয়েন্সগুলো ছিল দুর্দান্ত। তবে সেই তুলনায় ক্লাইম্যাক্সের ফাইটিং সিকোয়েন্স যথেষ্ট দুর্বল ও ব্যাকডেটেড ফর্মুলার ছিল। রোমান্টিক, টাইটেল আর আইটেম; এই তিন ধাঁচের মোট তিনটি গান সিনেমাতে আছে। যেগুলো বস ফ্রাঞ্চাইজিফ্রাঞ্চাইজি বা জিৎ গাঙ্গুলীর কম্পোজিশন হিসেবে আহামরি কিছু না। কোরিওগ্রাফি মোটামুটি ভাল হলেও সঙ্গীতায়োজনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের কলাকুশলীদের উপেক্ষা করার ব্যাপারটি আপত্তিজনক।

বস টু ছবিটি কেন দেখবেন:

এ্যাকশন থ্রিলার মুভি, জিৎ/শুভশ্রী/ফারিয়া বা ভারতীয় বাংলা সিনেমা (যেখানে দুয়েকজন বাংলাদেশী শিল্পীকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়); এগুলোর যেকোন একটি আপনার ভাল লাগলে সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখতে পারেন। আশা করি আমাদের সিনেমার কর্তাব্যক্তিরা ভবিষ্যতে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্মান জানাবেন বাংলাদেশকেও। নাই মামার চেয়ে যেমন কানা মামা ভাল, তেমনি দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়ালও ভাল।


ঢাকা, জুলাই ০৩(বিডিলাইভ২৪)// জেড ইউ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.