bdlive24

যেখানে টাকার খেলা সেখানে শত্রুতার কি প্রয়োজন?

সোমবার জুলাই ০৩, ২০১৭, ১১:২২ পিএম.


যেখানে টাকার খেলা সেখানে শত্রুতার কি প্রয়োজন?

বিডিলাইভ রিপোর্ট: ৩ জুলাই ২০১৭, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। লেখক,কবি ও কলামিষ্ট ফরহাদ মাজহারের শ্যমলীর বাসার নিচে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। সেখানে রয়েছে অনেক গণমাধ্যমকর্মীরাও। কাউকেই ফ্লাটের ভেতর ঢুকতে দেওয়া হচ্ছেনা। তবে কৌশল করে হক গার্ডেনের চার তলায় গেলাম ফরহাদ মাজহারের বাসায়।

বাসার ড্রয়িং রুমে বসে আছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন নারী পুরুষ। তাদের সবারই মন খারাপ। সেখানে কনেস্টেবল রতন নামের একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। ক্লান্তিতে তিনি মাঝেমধ্যে ঘুমিয়ে পড়ছেন। এরপর উঠেই আবার নড়াচড়া দিয়ে বসছেন। যতই ক্লান্তি থাকুক না কেন দায়িত্ব পালনতো করতেই হবে।

মাঝে মোড়া নিয়ে বসে আছেন ফরহাদ মাজহারের স্ত্রীর বোন। যারা বাসাতে আসছেন তিনিই তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করছেন। তবে তার অপহরণের ব্যাপারে কোন কথা বলছেনা কেউই।  প্রায় ষাটোর্ধ্ব একজন ভদ্রলোক বসে রয়েছেন মোড়ার উপরে। তার নাম জানতে চাইলে তিনি তা বলতে অস্বীকার জানালেন। তিনি নিজেকে ফরহাদ মাজহারের বন্ধু বলেই পরিচয় দিলেন। তিনি মিরপুর এক নম্বরে বাস করেন। আগে বাংলাদেশ পাট গবেষনা ইনিস্টিটিউটে চাকরি করতেন। এখন অবসরে আছেন।

কোন শত্রুতার বশত কেউ এই কাজ করছেনা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা তাকে নিয়ে গেছে তারাতো টাকা চেয়েছে। যেখানে টাকার খেলা সেখানে শত্রুতার প্রয়োজন আছে?

কবি ফরদাহ মাজহারের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুধারামপুর থানার সদরেই। তার এক ছেলে আর এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। স্ত্রী ফরিদা আক্তারকে নিয়ে তিনি শ্যামলীর ১ নম্বর হক গার্ডেনের চতুর্থ তলায় বসবাস করতেন।

ফরহাদ মাজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তারও একজন এনজিও কর্মী। তার অপহরণের ঘটনায় তিনি বেশ ভেঙ্গে পড়েছেন। বিভিন্ন শুভাকাঙ্খীরা এসে তাকে স্বান্তনা দিয়ে চলে যাচ্ছেন। তবে তাদের ফ্লাটে ঢোকার ব্যাপারে বেশ কঠোর রয়েছে নিচের দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে উপর থেকে যাদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন কেবলমাত্র তারাই যেতে পারছেন।

ড্রয়িংরুমে ঢোকার পরে শোনা গেল ফরিদা আক্তার ওয়াশরুমে গেছেন। পরে তাদের পড়ার রুমে ঢুকে দেখা গেলো তিনি অনেকটাই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। দেখা হওয়ার পর তিনি শুধু বললেন দোয়া করবেন। এর থেকে বেশি কিছু চাওয়ার নেই। তখন তার পাশে থাকা আরেকজন ভদ্রলোক বললেন আপনারা এখন যান। ওনার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। এরপর ওনার ফ্লাট থেকে বেরিয়ে আসলাম।

ফ্লাট থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে আমাদের সঙ্গে একজন মধ্য বয়সী নারীও বেরিয়ে এলেন। তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি উর্বর নামের একটি বেসরকারী সংস্থায় কাজ করি। ভাবীর সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জানতে পেরেছি, ভোর চারটার সময়ে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এর ঠিক আধাঘন্টা পর ফোন আসে। ওই ফোনে বলা হয় ৩৫ লাখ টাকা দেন, উনি আমাদের কাছেই আছে। তখন ওনার স্ত্রী ফরিদা আক্তার বলেন কোথায় টাকা দেব, কার কাছে টাকা দেব। এরপরই ফোনের লাইন কেটে দেওয়া হয়। এর ঠিক আধাঘন্টা পরে আবারও ওই নম্বর থেকে ফোন আসে। প্রায় ৩৫ সেকেন্ড কথা বলে ফোনের লাইন কেটে দেয়। তখন অবশ্য ৩৫ লাখ টাকা থেকে ১৫ লাখ কমিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় অপরহরণকারীরা। এর মধ্যে লিফট নিচে নেমে গেলো। ওই ভদ্রমহিলা একটি সিএনজিতে চড়ে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।


ঢাকা, জুলাই ০৩(বিডিলাইভ২৪)// ই নি
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.