bdlive24

'নবাব' সিনেমার রিভিউ

মঙ্গলবার জুলাই ০৪, ২০১৭, ০৬:৩৮ পিএম.


'নবাব' সিনেমার রিভিউ

বিনোদন ডেস্ক: নবাব

ধরণ: কপ এ্যাকশন থ্রিলার

পরিচালক: জয়দীপ মুখার্জী ও আব্দুল আজিজ

কাস্ট: শাকিব খান (রাজীব চৌধুরী ওরফে নবাব), শুভশ্রী গাঙ্গুলী (দিয়া ব্যানার্জি), মেঘলা মিজান মুক্তা (মেঘলা দাসগুপ্ত), অপরাজিতা আধ্য (মুখ্যমন্ত্রী অনন্যা চ্যাটার্জি), খরাজ মুখার্জী (ডেপুটি চীফ মিনিস্টার অভয় সরকার), অমিত হাসান (কালীচরণ), সাগ্নিক চ্যাটার্জি (এসিপি মাসুদ আখতার), রজতাভ দত্ত (পুলিশ কমিশনার গৌতম দাসগুপ্ত)

নামকরণ:

আপনি যদি শখ করে আপনার ল্যাংড়া ছেলের নাম “রোনালদো” বা কালো মেয়ের নাম “সুন্দরী” রাখেন, তাহলে আপনাকে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না। কিন্তু সিনেমার নামকরণ করার ক্ষেত্রে কিছু প্রটোকল অবশ্যই মানতে হয়। নবাব নাম শুনে যেকেউ ধরে নেবে সিনেমার প্রধান চরিত্রে রুপদানকারী শাকিব খানের নাম ছবিতে নবাব থাকে বলেই ছবির নাম নবাব। সবার ধারণা সত্য। তবে সিনেমাটিতে নায়কের চরিত্রটির মূল নাম ছিল রাজীব চৌধুরী। শুধু নায়িকাই তাকে কয়েকবার অজ্ঞাত কারণে অজ্ঞাতনাম “নবাব” বলে ডাকে, আর তাতেই সিনেমার নাম “নবাব”!!! মূলত বাংলাদেশী দর্শকদের কাছে সহজতর, আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করার জন্যই সিনেমার নাম “নবাব” রাখা হয়েছে বলে অনুমেয়। কারণ সিনেমার গল্পে নবাব নাম বা শব্দটির কোন বিশেষত্ব বা প্রভাব নেই।

কাচিস (কাহিনী+চিত্রনাট্য+সংলাপ):

ছবির মাত্র এক-তৃতীয়াংশই বলিউডের মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট আমির খানের 'বাজি' সিনেমা থেকে নেওয়া হয়েছে। বাকি একাংশ একই নায়কের 'সারফারোশ' ও শেষাংশ কপি করা হয়েছে বলি বাদশাহ শাহরুখ খানের সিনেমা 'বাদশাহ' এর শেষাংশ থেকে।

সিনেমা মুক্তির আগে শাকিব খান বলেছিলেন, এই ছবিতে তিনি পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের পুলিশদের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং এতে বাংলাদেশি পুলিশদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা হয়েছে। এটা এযাবতকালের অন্যতম মিথ্যাচার। কারণ সিনেমাটিতে তার চরিত্র পুলিশ অফিসার শ্রী রাজীব চৌধুরী থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব চরিত্রই পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক। এক কথায় পুরো গল্পের স্থান, কাল, প্রেক্ষাপট প্রায় শতভাগই পশ্চিমবঙ্গের। যেখানে বাংলাদেশি আছে কিন্তু বাংলাদেশ নেই। এই না হলে যৌথ প্রযোজনা।


টীমওয়ার্ক:

গল্পের প্রয়োজনেই বড় পরিমাণের কলাকুশলী প্রয়োজন হয়েছে এবং প্রায় প্রতিটা ছোট-বড় চরিত্রই জ্বলে উঠে গল্পে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পেয়েছেন। সবচেয়ে পজিটিভ ব্যাপার হচ্ছে প্রায় সবগুলো চরিত্রের শিল্পীরাই এই সুযোগ কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন। বলাবাহুল্য সিনেমার নাম ভূমিকায় তথা নবাব চরিত্রে থাকা শাকিব খান এর আগে একাধিক সিনেমায় পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করলেও এই সিনেমার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসার রাজীব চৌধুরীর চরিত্রটি তাকে নতুন লুকের পাশাপাশি নিজেকে নতুন আঙ্গিকে মেলে ধরার সুযোগও দিয়েছে এবং তিনি সুযোগ হেলায় হারান না সেটা আবারও প্রমাণিত।

শুধু নায়কের সাথে রোমান্স, নাচগান আর গ্ল্যামার প্রদর্শন করা সাধারণ নায়িকা নয়, এই সিনেমায় নায়িকা ক্রাইম রিপোর্টার দিয়া ব্যানার্জির চরিত্র ছিল তার চেয়েও বেশি কিছু এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলী তাতে সফলকাম হয়েছেন বলা চলে। ডেপুটি চীফ মিনিস্টার অভয় সরকারের চরিত্রে খরাজ মুখার্জীর সাবলীল অভিনয় প্রমাণ করেছে তিনি শুধু কমেডি নয়, সবধরনের চরিত্রের ভেতরেই ঢুকতে পারেন।

অন্যসব চরিত্রের ভিড়ে যে চরিত্রটি দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে সেটা হলো এসিপি মাসুদ আখতার। সাগ্নিক চ্যাটার্জির দুর্দান্ত অভিনয় এই চরিত্রটিকে দর্শকমনে গেঁথে দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া রজতাভ দত্ত, অপরাজিতা আধ্য, বিশ্বনাথ সরকার, অমিত হাসান, মেঘলাসহ বাকি সকলেই নিজ নিজ চরিত্রের ধরণ ও ব্যাপ্তি অনুযায়ী ভাল কাজ উপহার দিয়েছেন।

যৌথ প্রযোজনার দৃষ্টিকোণ থেকে রুপকভাবে বাংলাদেশের শিল্পীদের ভূমিকা:

অমিত হাসান- একজন ইনডোর সন্ত্রাসী।
রেবেকা- একজন জিন্দা লাশ।
মেঘলা- একজন বলির পাঠি।
ডা. বাবু- একজন সন্ত্রাসী যে ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই শহীদ হয়ে যায়।
বাকিরা নাম না জানা।

তার মানে এক কথায় শাকিব খান বাদে পুরো সিনেমাতে বাংলাদেশি অন্যকোন শিল্পীরা কোন গুরুত্বই পাননি। কারণ নির্মাতাগোষ্ঠী জানেন এক শাকিবের স্টারডমই যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় বাংলাদেশের কোটা পূরণ করতে যথেষ্ট। এটা প্রায় সকলেই জানেন যে পরিচালক হিসেবে এই সিনেমায় আব্দুল আজিজ সাহেবের ভূমিকা কতটুকু। অন্যদিকে 'শিকারি'র সফলতার পর জয়দীপ সাহেবকে নিয়ে প্রত্যাশা একটু বেশিই ছিল এবং তিনি প্রত্যাশা পূরণে তিনি মোটামুটি সফল। তবে অনেক ছোটখাটো বিষয়ে যত্ন নিতে গিয়ে তিনি যে বড়সড় বিষয়গুলোতে ভুল করেছেন।

কারিগরি:

সম্ভবত কাস্টিং এ খরচ বেশি হয়ে যাওয়ায় কারিগরি দিকগুলোতে বাজেট কিছুটা কম খাটানো হয়েছে। তবে এরেঞ্জমেন্ট মোটামুটি ভাল ছিল। বিশেষ করে সেট ও ম্যানপাওয়ার ম্যানেজমেন্ট, গেট আপ, মেক আপের কাজ ভাল লেগেছে। সিনেমাটোগ্রাফি ও লাইটিং কোয়ালিটি ভাল হলেও সাউন্ড কোয়ালিটি আরো ভাল হতে পারত। লোকেশন আহামরি তেমন কিছু ছিল না। এ্যাকশন দৃশ্যগুলো প্রাণহীন থাকায় তেমন স্পেশাল এফেক্টের কাজও চোখে পড়েনি। সিনেমার শেষাংশের শুটিং যে দয়া করে বাংলাদেশে করা হয়েছে সেটা স্পষ্ট বোঝা গেছে।

বিনোদন:

তিনটি সিনেমা থেকে বাছাই করে থ্রিলিং অংশগুলো নিলে গল্পে যে কিছুটা সাসপেন্সের বিনোদন পাওয়া যাবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এটাও স্বাভাবিক যে যারা ঐ তিনটি সিনেমা আগে দেখেছে তাদের জন্য এই 'সাসপেন্স' হবে অস্বস্তিকর। স্যাড, রোমান্টিক, ড্যান্সিং, ও আইটেম ; এই চার ধাঁচের ৪টি গান ছিল এবং এক কথায় গানগুলো ও কোরিওগ্রাফি অসাধারণ ছিল। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আরো ভাল হতে পারত। এ্যাকশন দৃশ্যগুলো এ্যাকশন সিনেমাপ্রেমীদের হতাশ করবে। তবে সব মিলিয়ে বিনোদনের মসলা মোটামুটি মানের ছিল।

ছবিটি কেন দেখবেন:

উপরে উল্লেখিত তিনটি হিন্দি সিনেমা না দেখে থাকলে আপনি নবাব দেখে আনন্দ পাবেন। আরো নতুন, আরো ভিন্নধর্মী শাকিব খানকে পাবেন। আর সর্বপরি ঈদে বিনোদনের অন্যতম খোরাক পাবেন।


ঢাকা, জুলাই ০৪(বিডিলাইভ২৪)// জেড ইউ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.