bdlive24

চিরচেনা বাঁধন থেকে ঝরে পড়ল একটা জুটি

শুক্রবার জুলাই ২১, ২০১৭, ১০:০৪ পিএম.


চিরচেনা বাঁধন থেকে ঝরে পড়ল একটা জুটি

কাহহার সামি: ভাঙ্গা গড়ার খেলা যেন এখন শোবিজ অঙ্গনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। শুধু শোবিজ নয়, যে কোন মানুষের জন্য বিচ্ছেদ একটা কষ্টের ব্যাপার। আর সেটা যদি হয় বহু দিনের সাজানো সংসার।

এখনো শোবিজ অঙ্গনের কিছু কিছু যুগল আছেন যারা হাতে হাত রেখে যুগ যুগ ধরে সংসার অতিবাহিত করছেন। বছরে পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছে সুখে শান্তিতে। আর এ সুখের ঘরে যখন তুষের আগুন লাগে তখন তা নিভানো খুব কষ্ট স্বাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এমনি এক ঘটনা ঘটে তাহসান-মিথিলার সুখের নীড়ে।

তাহসান-মিথিলা

২০০৬ সালের ৩ আগস্ট ভালোবেসে সংসার শুরু করেছিলেন এ তারকা দম্পতি। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল জন্ম নেয় তাদের একমাত্র সন্তান আইরা। বছর দুয়েক ধরে এই শিল্পী দম্পতির সংসারজীবন ভালো যাচ্ছিল না-এমন গুঞ্জন ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।

বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে তাহসান বলেন, ‘এ দেশের মানুষ পর্দায় আর পর্দার বাইরে আমাদের জুটি হিসেবে ভালোবেসেছেন, সে জন্য আমরা ধন্য। কিন্তু সমাজ কি বলবে এই ভয়ে অভিনয় করে সারা জীবন কাটিয়ে দিতে হবে আমাদের দু’জন এই ব্যাপারটার সঙ্গে একমত নই।’ মিথিলা বলেন, ‘ আমাদের বিবাহিত জীবন দীর্ঘ ১১ বছরের। ১৪ বছর ধরে একজন আরেকজনকে চিনি। বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত আসলে হঠাৎ করে নিইনি। আমাদের বোঝাপড়ায় অনেক দিন ধরে সমস্যা হচ্ছিল। ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বও প্রকট ছিল। জীবন নিয়ে শুরুতে একধরনের পরিকল্পনা ছিল, সময়ের সঙ্গে তা বদলে গেছে। তারপরও এত বছরের সম্পর্ক তো আর এত সহজে কেউ ভেঙে ফেলতে চায় না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কারণ, আমাদের একটি সন্তান আছে। দুই বছর ধরে আলাদা থাকলেও সন্তান আর সংসারের কথা ভেবে আমরা একসঙ্গে কাজ করে ভালো থাকার চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত আমরা বুঝতে পেরেছি, সম্পর্কটা আর টিকবে না।’

শোবিজে এখনো অনেক তারকা জুটি আছেন তাদের আইডল হিসেবে নিতে পারেন, যারা শোবিজে নতুন সংসার পাতার কথা ভাবছেন। এমন কয়েকটি জুটিন কথা তুলে ধরা হল।

আলী যাকের-সারা যাকের: মঞ্চের আলোয় আলোকিত আলী যাকের ও সারা যাকের এ দুই ব্যক্তিত্ব জীবনের প্রথম দিকে খুব স্বল্পসময়ের মধ্যেই বন্ধু বনে যান। পরিচয়ের পর চুপিসারে একে অন্যকে নিজের প্রিয় বই উপহার

দিতেন। মনের অজান্তে দিনে দিনে বন্ধুত্ব থেকে একসঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেন তারা। অতঃপর তারা সুখের নীড় রচনা করে এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন।

আলমগীর ও রুনা লায়লা : এক সময়ের সিনেমার পর্দা কাঁপানো শক্তিমান অভিনেতা আলমগীরকে এখন সিনেমাতে তেমন দেখা না গেলেও সুকন্ঠি গায়িকা রুনা লায়লা বর্তমানে গানের পাশাপাশি বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে কাজ করছেন।

জাহিদ হাসান-মৌ: দর্শকপ্রিয় তারকা দম্পতি জাহিদ হাসান-সাদিয়া ইসলাম মৌ। তারা সংসার জীবনে বেশ সফল। তাদের প্রথম পরিচয়ের একটি গল্প রয়েছে। জাহিদ হাসান তখন টেলিভিশনের শীর্ষ অভিনেতা। অন্যদিকে মৌ শ্রেষ্ঠ মডেল ও নৃত্যশিল্পী। ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান `ইত্যাদি`তে তারা প্রথম একসঙ্গে কাজ করেন। এতে তারা `আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে` গানে পারফর্ম করেন। শুটিংয়ের সময়ই নাকি তাদের সম্পর্কের সূচনা ঘটে! প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জাহিদ হাসান বলেন, ‘যখন এ নিউজগুলো ছাপা হয়, তখন আমাদের মধ্যে ততটা গভীর সম্পর্ক ছিল না। বরং এসব নিউজ আসার পর আমি ভেবেছি, আমাদের একটা গুড রিলেশন হলে কেমন হয়! কারণ তখন সারাক্ষণ এ ব্যাপারটা মাথায় থাকত।’

হাসান ইমাম-লায়লা হাসান: দাম্পত্য জীবনের ৫২ বছর পার করে দিয়েছেন তারকা দম্পতি সৈয়দ হাসান ইমাম ও লায়লা হাসান। ৩০ জুন ছিল তাদের বিবাহবার্ষিকী। ১৯৬৫ সালের ৩০ জুন পারিবারিক আয়োজনে এ তারকাজুটি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে হাসান ইমাম বলেন, ‘আমার সংসার ও সন্তানদের আগলে রেখে এক সফল জীবনের পথে এগিয়ে নিতে লায়লার অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমরা দুজনই এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ আছি। আগামী দিনগুলোও যেন এভাবে পার করতে পারি, সবার কাছে সে দোয়া চাই।’

নাঈম-শাবনাজ: ১৯৯০ সালে বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম তার নতুন চলচ্চিত্র `চাঁদনী`র জন্য দুজন নতুন মুখ বাছাই করেন। প্রথম ছবিতেই তারা জুটি হিসেবে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়েই ঘনিষ্ঠ হন তারা। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনা ভেঙে ১৯৯৬ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এ জুটি। তাদের ঘরে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে সংসার আর ব্যবসা নিয়ে তাদের সময় কাটছে।

আবিদা সুলতানা-রফিকুল আলম: দেশীয় সঙ্গীতের দুই শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আবিদা সুলতানা ও রফিকুল আলম। গান গাইতে এসে তারা একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হন। এরই সূত্র ধরে ভালোলাগা, ভালোবাসা; অতঃপর বিয়ে। একই ছাদের নিচে তারা বসবাস করে দেশের সঙ্গীতপিপাসুদের এখনো গান শুনিয়ে মুগ্ধ করে চলছেন।

ওমর সানি-মৌসুমী: দেশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সুখী দম্পতি চিত্রনায়ক ওমর সানি ও মৌসুমী। ইতোমধ্যেই তারা দাম্পত্য জীবনের ২০ বছর পূর্ণ করেছেন। `দোলা` চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তাদের পরিচয় হয়েছিল। সে সময় তাদের মধ্যে ভালোলাগা তৈরি হয়।

বিপাশা হায়াত-তৌকীর আহমেদ: জাহিদ হাসান-মৌয়ের মতো তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াতও জুটি হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তারকা দম্পতি হিসেবে তারা তরুণ প্রজন্মের কাছে রোল মডেল হয়ে আছেন। বর্তমানে তৌকীর আহমেদ অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণকাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, বিপাশা হায়াত ছবি আঁকা ও লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

রামেন্দু মজুমদার-ফেরদৌসী মজুমদার: তারকা দম্পতি রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদার নাট্যাঙ্গনে ঈর্ষণীয় দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো। ১৯৬৫ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর থেকেই তাদের মধ্যে বিয়ের ভাবনা জোরালো হতে থাকে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে ধর্মের বেড়াজাল পেরিয়ে একে অন্যের গলায় মালা পরানো সত্যিই কঠিন ছিল। তার পরও শত বাধা ডিঙিয়ে ১৯৭০ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

ইনামুল হক-লাকী ইনাম: ড. ইনামুল হকের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। অভিনয়ের সূত্র ধরে, এ নাট্যযুগলের পরিচয়; অতঃপর বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের মধ্যে কখনই টানাপড়েনের ঘটনা ঘটেনি। শুধু স্বামী-স্ত্রী নয়; তারা ব্যক্তি জীবনেও ভালো বন্ধু। তাদের সংসারে দুই মেয়ে রয়েছে। তারা হচ্ছেন হৃদি হক ও পৈ্রতি হক। তাদের দুই জামাতা লিটু আনাম এবং সাজু খাদেমও অভিনয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।


ঢাকা, জুলাই ২১(বিডিলাইভ২৪)// জেড ইউ
 
        print


মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.