সর্বশেষ
শনিবার ৬ই মাঘ ১৪২৪ | ২০ জানুয়ারি ২০১৮

রক্তাক্ত বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস, উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা

মঙ্গলবার ২৫শে জুলাই ২০১৭

402041802_1500922990.jpg
প্রবাসী ডেস্ক :
কানাডাতে বসবাসরত অনেকের সন্তান এবং নিকট আত্মীয় বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে লেখাপড়া করে। হঠাৎ সবুজ ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের দুই গ্রূপের রাজনৈতিক পেশিশক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতার বলি হলেন খালেদ আহমেদ লিটু। কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেন। যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা এক আতঙ্কের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন।

এই বিয়ানীবাজারের তরুণরা হয়তো জানেনা তাদের এই প্রিয় বিয়ানীবাজারে গর্ব করার মতো অনেক শিক্ষাবিদ এবং মেধাবী রাজনৈতিক মানুষের জন্ম হয়েছিল। তারা শুধু বিয়ানীবাজরকেই সম্মানিত করেননি, করেছেন গোটা বাংলাদেশকে। নানকার বিদ্রোহের সূত্রপাত হয় এই বিয়ানীবাজারে। প্রখ্যাত লেখক অজয় ভট্টাচার্য ছিলেন বিয়ানীবাজারের লাউতার সন্তান এবং নানকা বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা| তার গৌরবময় নেতৃত্বের কথা “হিস্ট্রি এন্ড হেরিটেজ অফ সিলেট” বইটিতে প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক জনাব ডঃ শরীফ উদ্দিন আহমেদ। তাছাড়া ডঃ শরীফ উদ্দিন আহমেদ তার বিখ্যাত গবেষণামূলক বই 'ঢাকার ৪ শত বৎসর' বই লিখতে গিয়ে বার বার বিয়ানীবাজারের সন্তান রায় বাহাদুর দুলাল চন্দ্ৰ ১৮৮৭ সালে মিউনিসিপাল ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন। ১৮৮৭ সালে দুলাল চন্দ্র ছিলেন সিলেটের নির্বাচিত প্রথম মিউনিসিপ্যাল চেয়ারম্যান।

একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী ঢাবি শিক্ষক, প্রখ্যাত দার্শনিক ড: গোবিন্দ চন্দ্র দেব ছিলেন বিয়ানীবাজারের সন্তান| ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয় বিয়ানীবাজার থেকে। যার নেতৃত্বে ছিলেন মহিয়ষী নারী সুহাসিনি দাস, যিনি ছিলেন বিয়নিবাজারের কৃতি সন্তান। প্রবাসী বিয়নিবাজারবাসীর দাবি আজ যারা গৌরবময় বিয়ানীবাজারের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কলেজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে-বিদেশে যে আলোচনার ঝড় বইছে তা সম্বন্ধে প্রবাসী বিয়ানীবাজারের মন্ট্রিয়লে বসবাসরত বিশিষ্ট জনের মতামত তুলে ধরা হল।
 
৮০'র দশকের বিয়ানীবাজার কলেজের সাবেক মেধাবি ছাত্র, বর্তমান নর্থ আমেরিকার বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক, গবেষক এবং সমাজসেবক জনাব আব্দুল হাছিব বলেন, আমাদের প্রিয় বিয়ানিবাজার কলেজের কাম্পাস ছিল লেখাপড়া, সাহিত্যচর্চা এবং খেলাধুলার জন্য এক সুন্দর মনোরম পরিবেশ। আজ কলেজের ক্যাম্পাসে যখন দেখি কলমের বদলে তরুণ শিক্ষার্থীরা হাতে তুলে নেয় মরন অস্ত্র এবং গুলি করে হত্যা করে খালেদ আহমেদ লিটুকে, তখন কি আর ভাল থাকা যায়। হৃদপিণ্ডে ছুরি বসালে হাত-পা ভাল থাকবে আশা করাটা বোকামি।

বিয়ানীবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং সিলেট জেলা সমিতি মন্ট্রিয়ল কানাডার সভাপতি জনাব আব্দুল হাই বলেন, বর্তমান বিয়ানীবাজার কলেজের অস্থির রাজনীতি আমাদেরকে পীড়া দেয়।
 
বিয়ানিবাজার কলেজের ৯০'র দশকের স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দলনের সাবেক ছাত্রনেতা সিলেট জেলা সমতির সাধারণ সম্পাদক এনাম আহমেদ বলেন, বিয়ানীবাজার কলেজের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক, যা কখনো কল্পনা করা যায় না।

বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আসলাম মনে করেন, প্রিয় সবুজ ক্যাম্পাস যারা রক্তে রঞ্জিত করেছে এবং বিয়নিবাজারের গৌরবময় রাজনৈতিক ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হোক।

আব্দুস সবুর
মন্ট্রিয়ল প্রতিনিধি

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫শে জুলাই ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // ই নি এই লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে