সর্বশেষ
সোমবার ৮ই শ্রাবণ ১৪২৫ | ২৩ জুলাই ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী চিকিৎসক এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল

শুক্রবার, জুলাই ২৮, ২০১৭

104202952_1501221097.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী চিকিৎসক। তিনি ১৮২১ সালে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে জন্মগ্রহণ করলেও ১১ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। নিউইয়র্কে এসে তার বাবা ব্যবসায়ে সফল হতে পারলেন না এবং কিছুদিন পর তার বাবা মারা যান।

পরিবারের হাল ধরতে এলিজাবেথ শিক্ষকতা শুরু করলেন। কিন্তু তিনি এতে তৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। তিনি মানবতার সেবার জন্য আরও বিস্তৃত পরিসরে কিছু করতে চাইছিলেন।

ডাক্তার হওয়ার কামনাঃ
এলিজাবেথ প্রিয় বন্ধু মেরি গোনাল্ডসন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায়। রক্ষণশীল সেই সমাজের গোনাল্ডসন তাকে বোঝাতে থাকেন, তিনি যদি এ অবস্থায় একজন নারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় তাহলে তার কষ্টটা কম অনুভব করতেন।

তিনি এলিজাবেথকে এও বোঝাতে থাকেন, ‘এলিজাবেথ, চিকিৎসক হওয়ার জন্য মেধা, ব্যক্তিত্ব ও পরিশ্রম করার মনমানসিকতা তোমার আছে। তুমি চিকিৎসক হওয়ার চেষ্টা কর। এতে বহু মানুষ উপকৃত হবে।’

এক পর্যায়ে এলিজাবেথ ব্ল্যাকওয়েল মনস্থির করলেন যে তিনি চিকিৎসক হবেন।

প্রতিবন্ধকতাঃ
ব্রিটিশ আমলেও একজন নারী হিসেবে ডাক্তারি শাস্ত্রে অধ্যয়ন করা তার জন্য সহজ কাজ ছিল না। ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা পরিবারের সদস্যদের কাছে বললে, তারা ওই ইচ্ছাকে সাধুবাদ জানালেও এলিজাবেথের পক্ষে যে ডাক্তার হওয়া অসম্ভব তাও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।

কারণ সেই সময়ও ডাক্তারি শাস্ত্রে পড়াশোনা করা অনেক ব্যয়বহুল এবং তখন পর্যন্ত কোনো নারী ওই পেশায় ছিলেন না। কিন্তু এত কিছুর পরও কোনো কিছুই বাধা হয়ে আসতে পারেনি এলিজাবেথের সামনে। এ কথা না বললেই নয় যে, সেই সময় তিনি মোট ১২টি ডাক্তারি স্কুলে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু নারী হওয়ার কারণে প্রত্যেক জায়গা থেকেই তিনি হয়েছিলেন প্রত্যাখ্যাত।

প্রত্যাশা পূরণের পথেঃ
এলিজাবেথ কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী নন। তিনি গভার্নেসের দায়িত্ব নিয়ে ‘ডক্টর জন ডিক্সন’ নামের এক চিকিৎসকের বাড়িতে থাকতে শুরু করলেন। এতে তার অর্থের জোগাড় হচ্ছিল। পাশাপাশি সেই ডাক্তারের কাছ থেকে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের নানা বিষয় শিখছিলেন। এ বাড়ি থেকেই গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষার ওপরও দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এলো। এলিজাবেথ ৬ নভেম্বর ১৯৪৭ সালে নিউইয়র্কের জেনেভা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলেন। কিন্তু নারী শিক্ষার্থী বলে শুরুতে তাকে বেশ প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে সময় পার করতে হল। কিন্তু প্রচণ্ড পরিশ্রম, একাগ্রতা, মেধা দিয়ে তিনি মেডিকেল কলেজে তার অবস্থান দৃঢ় করেন।

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ফিলাডেলফিয়াতে রোগী দেখার সুযোগ পান। তিনি ‘টাইফাস’-এর ওপর থিসিস তৈরি করেন। তার এ থিসিস ‘বাফেলো মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়।

২৩ জানুয়ারি ১৮৪৯ সালে জেনেভা মেডিকেল কলেজ থেকে এলিজাবেথ ‘ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি’ অর্জন করেন। এরপর এলিজাবেথ ফ্রান্সের ‘লা মেটারনিটি’ নামক হাসপাতালে ও পরে লন্ডনে ‘বার্থলোমিও’ হাসপাতালে বেশ কিছুদিন নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

কর্মজীবনঃ
১৯৫১ সালে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। নিউইয়র্কে ফিরে প্র্যাক্টিস শুরু করতে গিয়ে তিনি আবার নানা সামাজিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। তিনি শত প্রতিকূলতার মধ্যেও অসহায় নারী ও শিশুদের জন্য ছোট পরিসরে একটি ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালনা করতেন।

কিছুদিন পর তিনি কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়ে কিছুটা বড় পরিসরে ‘নিউইয়র্ক ইনফারমারি ফর ইনডিজেন্ট উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন’ নামে একটি হাসপাতাল চালু করেন। সঙ্গে ছিলেন তার কাছে প্রশিক্ষিত দুই বোন এমিলি ও মেরি।

তাছাড়া তিনি নিজের অর্থ ও নানা উদারপন্থী মানুষের সহায়তায় ৯টি অনুষদ ও ১৫ জন ছাত্রী নিয়ে ১৯৬৮ সালে ‘উইমেন্স মেডিকেল কলেজ অফ দ্য নিউইয়র্ক ইনফারমারি’ নামের হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার কর্মজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘যুক্তরাষ্ট্র স্যানিটারি কমিশন’ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিলেন।

এরপর তিনি তার হাসপাতালের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তার জন্মভূমি লন্ডনে পাড়ি জমান। পরবর্তী সময়ে তার একজন ছাত্রের তৈরি লন্ডনের একটি মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করেন। বাকি জীবন এ মহীয়সী নারী ইংল্যান্ডেই কাটিয়েছেন। ১৮৭৭ সালে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর নেন।

১৯১০ সালের ৩১ মে মৃত্যুবরণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী চিকিৎসক।

অবদানঃ
১৮৯৫ সালে এলিজাবেথ প্রথম ডাক্তারি শাস্ত্রের ওপর একটি বই প্রকাশ করেছিলেন। ডাক্তারি শাস্ত্রে পড়তে আগ্রহীদের কথা যতটা চিন্তা করে তিনি ওই বই লিখেছিলেন তারচেয়েও বেশি বইটিতে মেটাফিজিক্স নিয়ে আলোকপাত করেছিলেন।

তার মৃত্যুর অনেক পর ব্রিটিশ অধ্যাপকরা এলিজাবেথের মেটাফিজিক্স নিয়ে বইগুলো পড়েন। সেই বইয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার প্রিয় বিষয় হল ইতিহাস এবং মেটাফিজিক্স।’ আমাদের এই যে শরীর, তা মূলত অনেক গড়নের সন্নিবেশ।

ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ২৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ১০৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন