bdlive24

আ. লীগের সঙ্গে জোট করতে ইসলামী দলগুলোর তোড়জোড়

শনিবার জুলাই ২৯, ২০১৭, ১১:০৯ এএম.


আ. লীগের সঙ্গে জোট করতে ইসলামী দলগুলোর তোড়জোড়

বিডিলাইভ ডেস্ক: বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে আসা বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে মিলে নতুন একটি জোট করছেন, যা ভোটের হিসাবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দশম সংসদ নির্বাচনের পর এসব ইসলামী দলগুলো বিএনপি ছেড়েছে। সমঝোতা করে ক্ষমতাসীন দলের ‘নৌকা’ প্রতীকেই ভোট করার অভিপ্রায় এই জোটের উদ্যোক্তাদের।

এই প্রক্রিয়ার সমন্বয় করছেন গণতান্ত্রিক ইসলামিক মুভমেন্ট নামে একটি দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম খান, যিনি এক সময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা ছিলেন।

তিনি বলেন, ১০টি ইসলামী মূল্যবোধ ও সমমনা দলকে নিয়ে নতুন জোটের ঘোষণা আসবে। “জোটের নাম হবে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স অথবা বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এই জোট কাজ করে যাবে।”

ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য মিছবাহুর রহমান চৌধুরী নতুন এই জোটের চেয়ারম্যান হচ্ছেন। নূরুল ইসলাম খান বলেন, জোটবদ্ধ হতে চলা এই দলগুলোর নেতারা আগামী নির্বাচনেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় চান।

জোটের শীর্ষ নেতাদের জন্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২০টি আসনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

দলগুলো হলো-

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন- আমির, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান আমীরে শরীয়ত।

বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট- চেয়ারম্যান, মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

গণতান্ত্রিক ইসলামিক মুভমেন্ট- চেয়ারম্যান, মো. নূরুল ইসলাম খান।

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)- চেয়ারম্যান, আলমগীর মজুমদার।

বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি- চেয়ারম্যান, আব্দুর রশিদ প্রধান।

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী)- চেয়ারম্যান, হাসরত খান ভাসানী।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)- চেয়ারম্যান, আ. মালেক চৌধুরী।

জমিয়তে হিজবুল্লাহ বাংলাদেশ- নেতৃত্বে মাওলানা শাহ মোস্তাকিম বিল্লাহ সিদ্দিকী ও মেজো পীর শর্শীনা দরবার শরীফ।

পিপলস জাস্টিস পার্টি- চেয়ারম্যান, ব্যারিস্টার এম হায়দার আলী।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- মহাসচিব, কাজী আবুল খায়ের।

এই দলগুলোর বেশিরভাগই আগে বিএনপি ঘরানার ছিল বলে জানান নতুন জোট প্রক্রিয়ার সমন্বয়কারী নূরুল ইসলাম। “এগুলো এক সময় চার দলীয় জোটের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। কিন্তু দশম সংসদ নির্বাচনের পরে জোট থেকে বেরিয়ে অনেকে আলাদা এলায়েন্সও করেছে।”

এই প্রক্রিয়ায় থাকা দুই থেকে তিনটি দল আওয়ামী লীগ সমর্থক হলেও আগে কোনো জোটে ছিল না। তাছাড়া স্বাধীনতাবিরোধী মুসলীম লীগ ভেঙে কয়েক টুকরা হওয়ার পর ‘নজুন প্রজন্ম’ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানান তিনি।

নূরুল ইসলাম বলেন, “বলা যায়, বিএনপি জোট ছেড়ে আসা দলগুলোকে সঙ্গী করেই একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমরা নতুন প্ল্যাটফর্ম করতে যাচ্ছি, যারা নৌকার সঙ্গে সমঝোতা হলে তাদের ভোট বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারব।”

২০% ভোটের হিসাব-নিকাশ

নূরুল ইসলাম খান জানান, ছয় মাস আগেই তারা এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এ বিষয়ে চূড়ান্ত বৈঠক হবে আজ শনিবার। এ বৈঠক থেকেই জোটের নাম ঠিক করে অগাস্টের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে তাদের কথা হচ্ছে বলে জানান নূরুল। আওয়ামী লীগকে সমর্থনের বিষয়ে ১১ বছর আগে শেখ হাসিনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

এই ইসলামী দলগুলোর সারা দেশে মোট ভোটের প্রায় ২০ শতাংশ রয়েছে দাবি করে নূরুল বলেন, “আমরা ইসলামী মূল্যবোধকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এর সিংহভাগ ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে পারব। সিগন্যাল পেলে আমরাও মাঠে নেমে পড়ব। আশা করি, সমর্থন দৃশ্যমান করতে পারব।”

তবে এখনও নতুন জোটে নাম না লেখানোর কথা জানিয়ে দলটির মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বলেন, “ইসলামী জোটে ডাকার জন্য অনেকে যোগাযোগ করছে। কিন্তু ভোটের তো এখনও দেড় বছর বাকি। আরও দেখতে হবে। দেশে তো শুধু দুটি জোট-১৪ দল ও ২০ দল। এর বাইরে কেউ থাকবে না। জোটের অভিজ্ঞতাও ভালো না, জাতির ক্ষতি হয় এতে।”

তিনি বলেন, “গত পাঁচ বছরে ১০টি জোট হয়েছে, কারও অস্তিত্ব নেই। নতুন জোটের কী হবে তা সময়ই বলবে। অনেক হিসাব-নিকাশ ও দর কষাকষির বিষয় রয়েছে।”
২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে ৪০টি নিবন্ধিত দল অংশ নিতে পারবে, সেই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সুযোগ রয়েছে।

সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম



ঢাকা, জুলাই ২৯(বিডিলাইভ২৪)// আর কে
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.