bdlive24

প্রকৃতির মাঝে হারাতে ঘুরে আসুন 'শ্রীমঙ্গলের লালমাটি টিলা'

শনিবার জুলাই ২৯, ২০১৭, ০২:২১ পিএম.


প্রকৃতির মাঝে হারাতে ঘুরে আসুন 'শ্রীমঙ্গলের লালমাটি টিলা'

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির দেশ শ্রীমঙ্গল। চা শিল্পের জন্য শ্রীমঙ্গলের সুনাম ও পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২শ কি.মি. দূরত্বে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রকৃতির আদুরে কন্যা, সুবিশাল পাহাড়ের পাদ দেশে আর হাইল-হাওরের পিঠে ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ উপজেলা শ্রীমঙ্গলের অবস্থান। শ্রীমঙ্গলের আয়তন ৪২৫.১৫ বর্গকিলোমিটার।

প্রকৃতির সুরম্য নিকেতন শ্রীমঙ্গলে চা বাগানের পর চা বাগান ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। এদিক ওদিক তাকালেই চোখে পড়ে সবুজ বনানী আর বর্ণিল সব পাখি। চা বাগান, লেক, হাওর, উঁচু-নিচু পাহার, ঘন জঙ্গল, খনিজ গ্যাসকূপ আর আনারস, লেবু, পান, আগর ও রাবার বাগান দিয়ে সাজানো অদ্ভুত সুন্দর এই স্থানটির নাম শ্রীমঙ্গল। যার সৌন্দর্যের কথা বলে শেষ করা যাবে না। চতুর্দিকে রয়েছে দর্শনীয় স্থান। যত বেশী বেড়ানো যায় ততই নতুন জায়গার সন্ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে বিভিন্ন মনোরম সৌন্দর্যের স্থান সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত এমনি এক সবুজের সমারোহ মনোরম দৃশ্য রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি লালমাটি টিলা। এটা একটি পাহাড়ি টিলা যা শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগানে অবস্থিত। এই পাহাড়ে প্রতিদিন শতশত মানুষের ভিড়ে জায়গাটি হয়ে ওঠে কোলাহলপূর্ণ। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদভারে হয়ে ওঠে মুখরিত।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সবুজের লীলাভূমি লালমাটি টিলায় পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রাখতে পারে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় এ সম্ভাবনাময় পাহাড়ী জনপদে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠলে অধ্যুষিত অঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি অনেক লোকের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হবে।

এ টিলায় রয়েছে চোখ ধাঁধানো মনোমুগ্ধকর সবুজের সমারোহ। রয়েছে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন প্রজাতির লতা ও বৃক্ষ ছিল। টিলার মাটি লালমাটি,একারণেই টিলাটি লালমাটি টিলা হিসেবে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। লালমাটি টিলার উপড়ে সনাতন ধর্মালম্বীদের একটি মন্দিরও রয়েছে। স্থানীয় অনেকে কালি মা টিলা বলে থাকেন।

সৃষ্টিকর্তার অপরুপ সৃষ্টি লালমাটি টিলা ভ্রমণ পিপাসু যেকোনো মানুষকে মুগ্ধ করবে। এখানে আসলে যে কেউ কিছুক্ষণের জন্য হলেও হারিয়ে যাবে প্রকৃতির কোলে। টিলার উপড়ে ওঠলে মনে হয় পাহাড় যেন দূর আকাশের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এখানে সারাক্ষণ বিরাজ করে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচির মিচির আওয়াজ। এর চার পাশের দৃশ্য ভ্রমণ পিয়াসীদের মুগ্ধ করে তুলবে সারাক্ষণ। এ টিলার উঁচু চূঁড়ায় কোথাও সমতল ভূমি আবার কোথাও টিলার সমাহার।

আরো দেখা যাবে ওপারের সীমানায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। পায়ে হেটে চারদিকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আছে মনোরম পাহাড়ি পরিবেশ। দেখা যাবে বিরাট এলাকা জুড়ে আছে আকাশ মনি, বেলজিয়াম, ইউক্যালিপটাস, রাবার গাছ, ওষুধী গাছ ও কড়ই ছাড়াও নানা জাতের লতাগুল্ম আর বাহারি গাছ-গাছালি যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে এ টিলার পাহাড়ে উঠে এলে দূরের আকাশকেও কাছে মনে হয়। সবুজ ও হালকা নীলের নৈসর্গিক এই দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। শীত কালে অনেক পর্যটক এ টিলার সৌন্দর্য অবলোকন করতে ভীড় জমায়।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রতিদিনই এখানে শতাধিক দর্শনার্থীরা বেড়াতে আসেন। শুক্রবার,শনিবার সবচেয়ে বেশী লোকজন এখানে আসেন। এখানে মন্দির থাকায় হিন্দু ধর্মালম্বীরা বেশী আসেন।

এলাকাবাসী জানান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি লালমাটি টিলায় পর্যটনকেন্দ্র করা গেলে স্থানীয়রা উপকৃত হতেন। এলাকাবাসী মনে করে, এ বিষয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এই পাহাড়ি জনপদে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত অঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

যেভাবে যাবেন :
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়া বাগানের গেইট সেখান থেকে বাম দিকের রাস্তা দিয়ে আরো দেড় কি. হাটলেই দেখা যাবে লালমাটি টিলাটি।


ঢাকা, জুলাই ২৯(বিডিলাইভ২৪)// জে এস
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.