সর্বশেষ
শুক্রবার ১০ই ফাল্গুন ১৪২৪ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বি. চৌধুরীর বাড়িতে নতুন জোট নিয়ে আলোচনা

2017-08-03 11:05:07

1165548685_1501736707.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের অংশ হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট  প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসভবনে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন।

বুধবার রাতে বি চৌধুরীর বারিধারার বাড়িতে এই বৈঠকে ছিলেন এইচ এম এরশাদের ভাই জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

এর আগে গত ১৩ জুলাই রাতে রবের উত্তরার বাসায় বি চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী, মান্না, সুব্রত চৌধুরীরা এক হয়েছিলেন, যাতে বাগড়া দিয়েছিল পুলিশ।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে তৃতীয় জোট গড়ার কথা বলে আসা এই রাজনীতিকদের বুধবারের বৈঠকে আগের ব্যক্তিদের সঙ্গে জি এম কাদেরকেও দেখা গেল, যার দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশীদার।

বি চৌধুরীর বাড়ির তৃতীয় তলায় বৈঠকের এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বৈঠকের মধ্যমনি হয়ে ছিলেন বি চৌধুরী; এক সোফায় রবের পাশেই বসেন জি এম কাদের।  

জি এম কাদের বলেন, “একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি (বি চৌধুরী) তিনি গণ্যমান্য ব্যক্তি, তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সেজন্য আমি এসেছি। অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” জাতীয় পার্টি নতুন জোটে অংশ নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বক্তিগত আমন্ত্রণে এখানে এসেছি। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে আলাদা জোট আছে।

বি চৌধুরী বলেন, “যারা দেশ নিয়ে ভাবে, দেশের কথা চিন্তা করে, তারা সবাই এক সঙ্গে বসেছিলাম।” বিকল্পধারার এক নেতা বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বি চৌধুরী। সেইসঙ্গে কিছু আলোচনাও হয়। “দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক জোট করা যায় কি না, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।”

বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীও বৈঠকে ছিলেন। আ স ম রবের সঙ্গে তার স্ত্রী তানিয়া রবও ছিলেন। কাদের সিদ্দিকী ঢাকার বাইরে থাকায় বৈঠকে ছিলেন না বলে বিকল্প ধারার ওই নেতা জানান।

রাত সাড়ে ১১টায় বৈঠক শেষে মান্না বলেন, “আমরা কিছু একটা করব। তবে এটা এখনই প্রকাশ করতে পারছি না। সময় হলেই জানতে পারবেন।” এই ধরনের আরও বৈঠক আরও অনেকের সঙ্গে তারা করবেন বলে জানান আ স ম রব।

বি চৌধুরীর ছেলে মাহী বলেন, “রাজনীতিকদের একজনকে আরেকজনের সহ্য করতে না পারার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছি আমরা।” বি চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী ও রব ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এনডিএফ জোট গঠন করেছিলেন। বিএনপির মতো তারাও ওই নির্বাচন বর্জন করেন।

বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পরও নানা নাটকীয়তার পর সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এরশাদ; তবে ভাই জি এম কাদের ভোট বর্জনের পক্ষেই ছিলেন।
ওই নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসন নিয়েছিল, সেই সঙ্গে মন্ত্রিত্বও নিয়েছিল; যাতেও আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন কাদের।

ওই নির্বাচনের পর এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ হন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা। এরশাদ নিজে হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। কিছু দিন পর ভাই জি এম কাদেরকে দলে নিজের উত্তরসূরি ঘোষণার পর বিরোধিতার মুখে কিছুটা পিছু হটতে হয় এরশাদকে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে ‘বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ে তোলার কথা বলছেন বি চৌধুরী, মান্না, রবরা।

জাতীয় পার্টিও এককভাবে নির্বাচন করবে বলে এখন পর্যন্ত বলে আসছেন এরশাদ, তবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচিত। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জোটের পরিসর বাড়াতে চাইছে। অন্যদিকে জোটগত নির্বাচন নিয়ে এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।


ঢাকা, 2017-08-03 11:05:07 (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে