bdlive24

খুশকি দূর করার কার্যকরী ঘরোয়া উপায়

বৃহস্পতিবার আগস্ট ০৩, ২০১৭, ০৪:৪৮ পিএম.


খুশকি দূর করার কার্যকরী ঘরোয়া উপায়

বিডিলাইভ ডেস্ক: খুশকির সমস্যায় নারী-পুরুষে ভেদ নেই। খুশকি নিয়ে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী কিংবা যুবক-যুবতী—সবাইকে দেখা যায় ফুসফাঁস করতে। চুলের খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অনেকের কাছেই যেন অসাধ্য! কিন্তু নানা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ঘরে বসেই বেয়াড়া খুশকির লাগাম টেনে ধরতে পারেন আপনি।

প্রথমত খুশকির কারণ

মাথার ত্বক থেকে সাদা দানাদার শুষ্ক বস্তুর উপস্থিতিই খুশকি। যদিও এটি সীমিত পরিমাণে খুব স্বাভাবিক। তবে মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি ভীষণ অস্বস্তিকর। অনেকেই শুষ্ক ত্বক, তৈলাক্ত ত্বক, খাদ্যাভ্যাস, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং হতাশাকে খুশকির জন্য দায়ী করেন।

জলপাই তেল
খুশকির সমস্যা দূর করতে জলপাই তেল বা অলিভ অয়েলের ব্যবহার নানা দেশে খুবই জনপ্রিয়। নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহারে খুশকি কমে। কারণ জলপাই তেল প্রাকৃতিকভাবেই ভালো ময়েশ্চারাইজার এবং ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে বা ত্বকের আর্দ্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে।

নিমপাতা দিয়ে প্রতিষেধক

গরম পানিতে দুই মুঠ নিমপাতা সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে নিমপাতা ভেজানো পানি দিয়ে মাথার চুল ধুয়ে ফেলুন। চাইলে নিমপাতা বেটে মাথায় লাগাতে পারেন।

নিমপাতা বাটা মাথায় লাগিয়ে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন তারপর ধুয়ে ফেলুন।

সময়: সকালে গোসলের আগে এটা ব্যবহার করতে পারেন। তবে যদি সম্ভব হয় তবে সারা রাত মাথায় লাগিয়ে রাখুন ও সকালে ধুয়ে ফেলুন।

যেভাবে কাজ করে: নিমপাতা কেবল চুলকানি দূর করে না। পাশাপাশি এটা খুশকি সৃষ্টিকারী ফাঙ্গাসকেও ধ্বংস করে।

শ্যাম্পু করা
এটা কোনো ঘরোয়া প্রতিকার নয়। তবে এর মাধ্যমে আপনি মাথার ত্বককে খুশকি মুক্ত রাখতে পারবেন। শ্যাম্পু করার পর যদি ভালো ভাবে চুল না ধোয়া হয় তবে মাথার ত্বকে মৃত কোষ ও তেল জন্মে যার ফলে খুশকি সৃষ্টি হয়। তাই যদি আপনি হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করেন ও পরে কন্ডিশনার লাগান তাহলে খেয়াল রাখবেন যেন তা কোনোভাবেই মাথার ত্বকে না লাগে।  

নারিকেল তেল

প্রয়োজন- নারিকেল তেল, খাঁটি টি ট্রি তেল।

পদ্ধতি: পাঁচ টেবিল-চামচ নারিকেল তেলে পাঁচ থেকে ১০ ফোঁটা খাঁটি টি ট্রি তেল মেশান।

নিয়মিত মাথায় তেল মালিশ করার মতো করে এটি মালিশ করুন। চুলের আগা পর্যন্ত এই তেল মালিশ করার প্রয়োজন নেই।

যদি আপনার মাথার জন্য আরও বেশি তেলের প্রয়োজন হয় তবে খেয়াল রাখবেন যেন এদের অনুপাত ঠিক থাকে।

সময়: রাতে এই তেল মালিশ করুন এবং সকালে তা ধুয়ে ফেলুন। যদি সময় স্বল্পতা থাকে তাহলে গোসলের আধ ঘণ্টা আগে এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

যেভাবে কাজ করে- নারিকেল তেলে আছে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান যা ফাঙ্গাস ধ্বংস করতে ও খুশকি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। টি ট্রি তেল চুলকে উজ্জ্বল করে।

লেবুর রস

প্রয়োজন: লেবুর রস ও পানি।

করণীয়: দুই টেবিল-চামচ তাজা লেবুর রস নিয়ে তা মাথার ত্বকে মালিশ করুন ও এক মিনিট অপেক্ষা করুন।

এরপর এক চা-চামচ লেবুর রস এক কাপ পানিতে মিশিয়ে তা দিয়ে চুল ভিজিয়ে নিন।

খুশকি চলে না যাওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

সময়: ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন গোসল করার আগে এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

যেভাবে কাজ করে  

তাজা লেবুর রসে থাকে অ্যাসিড যা খুশকি সৃষ্টিকারী ফাঙ্গাস দমনে সাহায্য করে। এটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হওয়ায় এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাছাড়া এর সুগন্ধ আপনাকে সারাদিন সতেজ রাখবে।

টক দইয়ের হেয়ার মাস্ক

প্রয়োজন: টক দই ও হালকা শ্যাম্পু

পদ্ধতি: সামান্য টক দই নিয়ে তা গাজানো বা ফার্মেন্টেশনের জন্য দুএকদিন খুলে রাখুন। এরপর মাথার ত্বকে লাগিয়ে এক ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এরপর মৃদু কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

সময়: গোসল করার এক ঘন্টা আগে এটা ব্যবহার করুন।

যেভাবে কাজ করে
টক দইয়ের অম্লিয় উপাদান খুশকি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। আর চুল উজ্জ্বল ও মসৃণ হতে সাহায্য করে।

মেথি-তেল
সাধারণ নারকেল তেলের সঙ্গে মেথি মিশিয়ে কয়েকদিন বোতলে রেখে দিন। নিয়মিত এই মেথি মেশানো তেল মাখুন মাথায়। রাতে মেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহারে মাথার চুল ও ত্বক দুইই ভালো থাকবে। খুশকি থেকেও রেহাই পাবেন।


ঢাকা, আগস্ট ০৩(বিডিলাইভ২৪)// এ এম
 
        print


মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.