সর্বশেষ
রবিবার ১২ই ফাল্গুন ১৪২৪ | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ঘরের রং আপনার জীবনের রংও নির্ণয় করছে

শুক্রবার ৪ঠা আগস্ট ২০১৭

1525710944_1501839220.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আপনি কি কখনো এই বিষয়টা ভেবে দেখেছেন যে কেন কঠোর পরিশ্রম এবং ইতিবাচক সব ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আপনি আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছেন না? বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার জীবনের ঘটনাপ্রবাহ আপনার চারপাশে থাকা রঙ দ্বারাও প্রভাবিত হয়।

আপনার বাসা-বাড়িতে সুখী রঙ থাকার মানে হল আপনি নিজেও মৌলিকভাবে সুখী এবং এই রঙ আপনার জীবনে এমন সব পরিবর্তন সাধন করে যা আপনার জন্য বয়ে আনে অনাবিল আনন্দ ও সুখ।

অন্যদিকে, আপনার বসতবাড়ির রঙ যদি অসুখী হয় তাহলে তা আপনার জীবনে সুখ না এনে বরং আপনাকে আরো দুঃখের দিকে ঠেলে দিবে।

সমসাময়িক বাস্তুশাস্ত্র মতে, বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের চাহিদার সঙ্গে যদি সামঞ্জস্য বিধান না করে আমাদের চারপাশের পরিবেশের রঙ করা হয় তাহলে তা প্রতিনিয়ত আমাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অনেক বাধা-বিপত্তি এবং সমস্যার সৃষ্টি করে। যখন আমাদের চারপাশের রঙগুলোকে যথাযথভাবে এবং অন্য রংয়ের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়িয়ে স্থাপন করা হয় তখন সেগুলো সুখী ও আশীর্বাদপূর্ণ শক্তি নিঃসরণ করে যা একজনের জীবনে সুখ-শান্তি ও আনন্দ বয়ে আনতে পারে।

এমনকি প্রতিটি রঙ আলাদা-আলাদাভাবে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে এমন ভিন্ন ভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা সৃষ্টি করে যা ওই ব্যক্তির উপর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রভাব ফেলে। এমনকি রঙগুলো এদের স্থাপনের দিক অনুযায়ীও ব্যক্তির উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

জেনে নিন ঘরের রঙ কিভাবে আপনার জীবনকে প্রভাবিত করছে-

ঘরের ফার্নিচার, সাজসজ্জা এবং অন্যান্য স্থানান্তরযোগ্য বস্তুতে বা ঘরের দেয়ালের পূর্বদিকে সবুজ আর পশ্চিম দিকে হলুদ রঙ থাকলে তা মন থেকে একাকীত্বের বোধ দুর করে। তেমনিভাবে বসতবাড়ির উত্তর ও উত্তরপূর্ব অঞ্চলে সবুজ রঙ থাকলে তা রোগ প্রতিরোধক ভূমিকা পালন করে।

বসত ঘরে সবুজ, নীল এবং নীলাভ সবুজ রঙ থাকলে তা মস্তিষ্কে উদ্দীপনা যোগায়, ইতিবাচক চিন্তা করতে উৎসাহিত করে এবং হাসি-তামাশার মধ্য দিয়ে সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ঘটায়। বসতবাড়ির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পূর্বদিকে এই রঙগুলো ব্যবহার করলে তা মন ও আত্মাকে সজীব এবং সতেজ করে তোলে।

তেমনিভাবে ঘরে সুবজ ও হলুদ রংয়ের শেড থাকলে তা মনে প্রশান্তির ভাব ছড়িয়ে দেয় এবং দৈনন্দিন জীবন-যাপনে ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন বসত ঘরের পূর্ব পাশে সবুজ রঙ আর দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে হলুদ রঙ ব্যবহার করা হয় তখন তা বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কৌতুহলোদ্দীপক এবং খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করতে উৎসাহ যোগায়। এতে একাকীত্ব এবং অবসাদও দূর হয়।

ধুসর রঙকে বলা হয় উষ্ণ এবং ভদ্র। বসতবাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের দক্ষিণ দিকে এই রঙ ব্যবহার করা হলে তা সৃষ্টিশীলতা ও জ্ঞান চর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এর মধ্যে নীলাভ টোন থাকলে তা যোগাযোগ দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার নির্দেশক হয়ে ওঠে।

আর পশ্চিম দিকে ধুসর রঙ করা হলে তা পেশাগত জীবনে সৃষ্টিশীল কার্যক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করে। এর সঙ্গে যদি একটু হালকা লাল রঙের টোন থাকে তাও মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় যার ফলে কর্মক্ষেত্রে কাঙ্খিত দক্ষতা দেখানো সম্ভব হয়।

লাল, গোলাপি, বেগুনি এবং হালকা কমলা রঙের শেড ভালোবাসার রঙ হিসেবে বিবেচিত। কোনো দম্পতির যৌথ বেডরুমের উত্তর-পূর্ব দিকের উত্তর দিকে এই রঙ অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলেও তা ওই দম্পতির মাঝে ভালোবাসা আরো মজবুত করে। যার পরিণতিতে তাদের দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি বজায় থাকবে।

ঢাকা, শুক্রবার ৪ঠা আগস্ট ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি 222 বার পড়া হয়েছে