bdlive24

লাইলীর মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন: চিকিৎসক

শনিবার আগস্ট ০৫, ২০১৭, ০৪:২৬ পিএম.


লাইলীর মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন: চিকিৎসক

বিডিলাইভ রিপোর্ট: রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বনশ্রী এলাকায় রহস্যজনকমৃত্যুর শিকার গৃহকর্মী লাইলী আক্তারের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

আজ রোববার বেলা পৌনে চারটার সময়ে তার এ ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ নিহত লাইলী আক্তারের লাশের ময়না তদন্ত করেন। বেলা তিনটার সময়ে তার ময়না তদন্ত শুরু হয়। প্রায় পৌনে এক ঘন্টা শেষে বিকাল পৌনে চারটার সময়ে ময়না তদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, নিহত লাইলী আক্তারের মাথায় ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর আগে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা তা পরীক্ষার জন্য তার ভিসেরা ও ভাজাইনলের পরীক্ষার জন্য মহাখালী রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তার ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে বনশ্রীর চার নম্বর সড়কে জি ব্লকের একটি বাসায় গৃহকর্মী লাইলী আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। লাইলীকে হত্যার অভিযোগ এনে তার পরিবার ও এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই বাড়িতে হামলা চালায় এবং সড়কে গাড়ি ভাঙচুর করে। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক দফা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। গৃহকর্ত্রী গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়রা ফাঁসির দাবি জানিয়ে মিছিল বের করেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে এই ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহত লাইলী আক্তারের ভাসুর শহিদুল ইসলাম একটি মামলা করেছেন। তিনি এই মামলায় তিনজনকে আসামি করেছেন। মামলাটির তদন্ত করছেন খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক মনজুর রহমান।

অপর মামলাটি করেছেন খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক মনজুর হোসেন। তিনি নিজেই মামলাটির তদন্ত করছেন। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারশজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় স্থানীয়দের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় কর্তব্য কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব মামলায় ইতোমধ্যে গৃহকর্মী লাইলী আক্তারের গৃহকর্তা মাঈনুদ্দীনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে খিলগাঁও থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন- গৃহকর্ত্রী শাহনাজা ও বাড়ির ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেন টিপু। গতকাল শুক্রবার রাতে মাঈনুদ্দিন ও বাড়ির ম্যানেজার তোফাজ্জ্বল হোসেন টিপুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শনিবার দুপুরে গৃহকর্ত্রী শাহানাজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

খিলগাঁও থানার ডিউটি অফিসার মনসুর আহমেদ তিনজনের গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গৃহকর্তা মইনুদ্দিন বলছেন, লাইলী বাসায় কাজ করতে আসার পর বাড়ির একটি ঘরে ঢুকে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। পরে দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাইলীকে পাওয়া যায়।

লাইলী বনশ্রীর পাশে হিন্দুপাড়া বস্তিতে থাকতেন। তার ছোট দুই সন্তান রয়েছে। নিহত লাইলী আক্তারের স্বামী নজরুল ইসলাম ভারতের কারাগারে বন্দী।


ঢাকা, আগস্ট ০৫(বিডিলাইভ২৪)// জে এস
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.