সর্বশেষ
সোমবার ১লা শ্রাবণ ১৪২৫ | ১৬ জুলাই ২০১৮

মাছ ও ডালের দাম কমেছে, মাংসের দাম চড়া

রবিবার, আগস্ট ৬, ২০১৭

558384897_1502001967.jpg
চট্টগ্রাম ব্যুরো :
নগরীতে কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজির বাজার স্থির। এবার মাংসের বাজারে দম বেড়েছে, কমেছে মাছ ও ডালের বাজারে। মাছের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় দেখলেও মাংসের বাজারে ক্রেতা শূন্য। হাতেগোনা কয়েকজন। তাও মাংস নিচ্ছেন দরদাম করে। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়ে গরুর মাংস প্রতিকেজি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা কয়েকদিন আগে বিক্রি হয়েছিল ৫০০ টাকায়।

আজ রোববার নগরীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

কাজীর দেউরী কাঁচাবাজারে মাংস কিনতে আসছেন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা। মাংসের বাজারে গিয়ে দেখে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা তিনদিন আগে ৫০০ টাকায় নিয়ে ছিলাম। প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজার তদারকির অভাবে ইচ্ছেমতো মাংসের দাম বাড়াচ্ছে। রমজানে বাজার মনিটরিংয়ের ফলে দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে ছিল। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং না থাকায় এ অবস্থা।

রিয়াজউদ্দিন বাজারে মাংসের দোকানি ইছহাক মিয়া জানান, এ সপ্তাহে গরুর দাম একটু বেশি। কম দামে যখন গরু কিনেছি তখন মাংসের দাম কম ছিল। বেশি দামে গরু কিনায় প্রতিকেজিতে ১৫০ টাকা বেড়েছে। এ দাম আর কমবে না। বরং বাড়তেই থাকবে।

এছাড়াও খাসির মাংস ও দেশি মুরগির দামও বেড়েছে। গেল সপ্তাহে খাসির মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭২০ টাকায়। দেশি মুরগি গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ৩৮০ বিক্রি হয়েছি। এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা। ফার্মের মুরগি ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কমেছে মাছের বাজারে। ইলিশ মাছে ১০০ টাকা কমে কেজিপ্রতি ৬০০ ও ৭০০ টাকা, রুই মাছ ২৫০ টাকা, কাতলা মাছ ৪০০ টাকা, গুইল্লা মাছ ৮০০ টাকা, বাটা মাছ ৪০০ টাকা, কই মাছ ফার্মের ১৫০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ১৪০ টাকা, আকারভেদে চিংড়ি মাছ ২৮০ থেকে ৮০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যা তিন-চারদিনের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে।

চকবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. জাফর জানান, সাম্প্রতিক চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার কারণে দেশি মাছের দাম বেড়েছিল। কিন্তু এ সপ্তাহে মাছের যোগান ঠিক থাকায় দাম কমেছে।

কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু ১৮ টাকা, পটল ৩০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৩৫ টাকা, শসা ২৫ টাকা, বেগুন ৩৫ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ২৫ টাকা, কচুরলতি ৩০ টাকা, পটল ৩০, লাউ ৪০, তিঁতকরলা ৫০, ধনেপাতা প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও লালশাক, কলমিশাক, পাঠশাক ও পুঁইশাক প্রতি আঁটি ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রিয়াজউদ্দিন বাজারে সবজি বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে নতুন পণ্যও আসতে শুরু করেছে। সামনে আরও দাম কমতে পারে।

এছাড়াও ১৫ দিনের ব্যবধানে মুগ ডালের দাম কমেছে কেজিতে ২০ টাকা এবং মসুর ডালে কমেছে কেজিতে ১৫ টাকা। যা কয়েকদিন আগে মুগ ডাল ১৩৫ টাকা ও মসুর ডাল ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্যের সরবরাহ বেশি থাকায় ডালের দাম কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

চকবাজারের মুদি দোকার ব্যবসায়ী তানভির জানান, পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ বেশি থাকায় ডালের দাম কমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে। সামনে আরও কমতে পারে।

ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ৬, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন