bdlive24

আগুনের ব্যবচ্ছেদ

আগুন কী (পর্ব-১)

মঙ্গলবার আগস্ট ০৮, ২০১৭, ০৩:১৫ পিএম.


আগুন কী (পর্ব-১)

বিডিলাইভ ডেস্ক: আদি মানবেরা আগুন আবিষ্কার করেছিলো লক্ষ লক্ষ বছর আগে। ক্রমান্বয়ে মানুষ আগুন নিয়ন্ত্রণ করে খাবার ঝলসে খেতে, তাপ ও আলো পেতে, এবং শিকারীদের দূরে রাখতে শিখলো। আগুন মানব জীবনে এত বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো যে কিছু মানুষ আগুনের পূজা পর্যন্ত করতো।

প্রাচীন গ্রীকদের ধারণা ছিল, আগুন চারটি মৌলিক উপাদানের একটি যা দিয়ে জগতের সব কিছু গঠিত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, আগুন মৌলিক তো নয়ই বরং আগুনের বিজ্ঞান যথেষ্ট জটিল। আগুনের শিখায় শত শত জটিল বিক্রিয়া ঘটতে থাকে এবং জটিল যৌগ উৎপন্ন ও পরিবর্তিত হতে থাকে। আজকে জেনে নেয়া যাক আগুন আসলে কি।

আগুন কি:
আমরা জানি, অক্সিজেনের (অথবা, অন্য কোনো জারক) সাথে কোন কিছুর বিক্রিয়া হওয়াকে combustion বা দহন বলা হয়। এটি একটি exothermic প্রক্রিয়া। অর্থাৎ এই বিক্রিয়ায় শক্তি নির্গত হয়। যখন কোনো জ্বালানি অক্সিজেনের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ পায় তখন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়াটি হলো complete combustion.

আবার আমরা এটাও জানি যে, পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট দুরত্বের ও নির্দিষ্ট শক্তির কিছু কক্ষপথে অবস্থানে করে। ইলেকট্রনগুলো পরিবেশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করে উপরের কক্ষপথে যেতে পারে। এই অবস্থা স্থায়ী নয় তাই ইলেকট্রনগুলো আবার নির্দিষ্ট শক্তির তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বিকিরণ করে নিচের কক্ষপথে ফিরে আসে। এই তরঙ্গগুলো দৃশ্যমান আলোর সাথে মিলে গেলে আমরা সেই রঙের আলো দেখতে পাই। পরমাণুগুলো কাঁপতে থাকে, তাই আমরা তাপ পাই।

আবার পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পরমাণুগুলো তাপে উত্তেজিত হলেও আমরা আগুন পাই। কারণ, সব উত্তপ্ত কণা আলো বিকিরণ করে। আগুন জ্বালাতে মূলত তিনটি জিনিস প্রয়োজন- জ্বালানি, জারক (অধিকাংশ ক্ষেত্রে অক্সিজেন) আর তাপ। জ্বালানী আর অক্সিজেন সবসময় পাশাপাশি অবস্থান করলেও পর্যাপ্ত তাপের অনুপস্থিতিতে জ্বলে ওঠে না।

প্রাথমিকভাবে এই তাপের যোগান দেয়া হয় ম্যাচের বারুদ ম্যাচবক্সে ঘষে উত্তেজিত করে আথবা লাইটারের পাথরে পাথর ঘষে। পরবর্তীতে chain reaction এর মতো উৎপন্ন তাপ বাকিটা জ্বালানিকে নিঃশেষ করে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাথমিক তাপ দেয়ার প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ কক্ষ তাপমাত্রায়ই বিক্রিয়া হয়ে যায়। যেমন, পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট আর গ্লিসারিন মেশালে। আবার কখনো আলো বা, বিদ্যুৎ দরকার পড়ে। সর্বোপরি, বিক্রিয়াগুলো হতে হবে দ্রুত। এমনকি ধাতুতে জং পরা বা খাবার হজম হওয়াও এক প্রকার দহন। কিন্তু এত ধীর প্রক্রিয়া যে আগুন জ্বলে ওঠে না।

আরও জানতে পড়ুন


ঢাকা, আগস্ট ০৮(বিডিলাইভ২৪)// জে এইচ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.