সর্বশেষ
শুক্রবার ১০ই ফাল্গুন ১৪২৪ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

উড়ে আসা টিনে প্রাণ হারালেন ব্যাংকার রাসেল

2017-08-12 13:15:42

486321397_1502522142.jpg
চট্টগ্রাম ব্যুরো :
কর্মস্থল খুলনা থেকে ছুটি নিয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় নিজ বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। তার জন্য মা ছাড়াও বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন সদ্য বিদেশফেরত বড় ভাই শিমুল দাশ। কিন্তু ঘরে ফেরার পথে এক মিনিটের ঝড়ে উড়ে আসা টিনের চালার নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান রাসেল।

মাসখানেক আগে বেসরকারি একটি ব্যাংকের হিসাব বিভাগে কর্মকর্তা পদে যোগ দেন রাসেল দাশ (২৬)। গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মেরিনার্স সড়কের ফিশারিঘাট এলাকায় এক মিনিটের ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে আসা টিনের চালার আঘাতে নিহত হন রাসেল। একই ঘটনায় আহত হন আরো দুই পথচারী।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাসেলের মামা সাধন চন্দ্র দে বলেন, খুলনা থেকে রাতের গাড়িতে করে গতকাল সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছান তার ভাগনে। এরপর অন্য গাড়িতে করে ফিশারিঘাটে এসে, সেখান থেকে হেঁটে পটিয়ার বাস ধরতে নতুন ব্রিজের দিকে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়েন। তিনি বলেন, রাসেলের চাচাতো বোনের বিয়েও ছিল।

রাসেল পটিয়ার ভাটিখাইন এলাকার প্রবাসী রণজিৎ দাশের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাসেল মেজ। গত ৯ জুলাই তিনি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের খুলনার দৌলতপুর শাখায় অফিসার (ক্যাশ) পদে যোগ দেন। এক মাস পর ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। চাকরির পাশাপাশি চট্টগ্রাম কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (স্নাতকোত্তর) থেকে মাস্টার্সের পরীক্ষার্থী ছিলেন তিনি। মূলত পরীক্ষায় অংশ নেয়া ও মাকে দেখতেই বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল আবু তালেব বলেন, পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ প্রচণ্ড বাতাসে মেরিনার্স সড়কের পাশের কয়েকটি ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। টিন এবং ঘরের কাঠামো বেশ কিছুটা দূরে রাস্তার ওপর পড়ে। টিনের নিচে চাপা পড়েন তিন পথচারী। এক মিনিটের এই ঝড় ছিল। আকস্মিক এ ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন সবাই। পরে টিন সরিয়ে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত অপর দুজন হলেন সৈয়দুল হক (৬০) ও আবদুল খালেক (৪০)। তাদের মধ্যে সৈয়দুল হক ফিশারিঘাট এলাকায় মাছের ব্যবসা করেন। আবদুল খালেক বোয়ালখালীর বেঙ্গুরা এলাকা থেকে চট্টগ্রাম শহরে একটি কাজে আসছিলেন। দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। মাথায় আঘাত পাওয়া এই দুজনের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে চিকিৎসক জানান।

গতকাল দুপুর ১২টায় সরেজমিনে দেখা যায়, উড়ে আসা ছিন্নভিন্ন টিন রাস্তার পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। সড়কের পাশের টিনের ঘরগুলো চালা শূন্য। পাঁচটি ঘরের মধ্যে দুটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, পাঁচটি ঘরের একটিতে কয়েকজন শ্রমিক থাকতেন। ঝড়ের সময় তারা ঘরেই ছিলেন। তাদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

হঠাৎ এই ঝোড়ো হাওয়া কেন জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের কোথাও কোথাও তীব্র বেগে বাতাস বইছে ও ঝড় হচ্ছে। ফিশারিঘাটে ওরকমই মৌসুমি ঝড় হতে পারে।

ঢাকা, 2017-08-12 13:15:42 (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে