সর্বশেষ
শুক্রবার ৮ই আষাঢ় ১৪২৫ | ২২ জুন ২০১৮

ধর্মপাশায় পানিবন্দি ১০টি ইউনিয়ন

রবিবার, আগস্ট ১৩, ২০১৭

603656511_1502619305.jpg
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টি ফলের উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের ৫০হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। সেই সাথে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার অর্ধশতাধিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার জন্য স্থগিত করা হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় সাময়িক পরীক্ষা।

জানা যায়, সপ্তাহব্যাপী ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দফায় দফায় নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ধনু নদী দিয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সেইসাথে স্থানীয় অন্যান্য নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধর্মপাশায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ রুপ নিয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার মধ্যনগর এলাকার চামরদানী ইউনিয়নের সাজদাপুর, কাহালা, দরাপপুর, নওগাঁ আবিদনগর। জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদে হরিপুর, সানবাড়ি, শেখের গাঁও, চানপুর, দুর্গাপুর। সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিন ইউনিয়নে ঘুলুয়া, রাজাপুর, দৌলতপুর, মামুদনগরসহ বিভিন্ন গ্রামের ঘর-বাড়ি-রাস্তাঘাট- হাটবাজার,স্কুল মাদ্রাসা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্যাপক ভাবে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটেছে। তাই জনজীবনে নেমে এসেছে চরম র্দুভোগ ও হতাশা। অনাকাংখিত বন্যার কারণে নানামুখী সমস্যার মধ্যে পড়েছে বন্যা কবলিত সাধারণ মানুষ। টানা বৃষ্টির ফলে হাওর অঞ্চলের কেটে খাওয়া মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহার অর্ধাহারে দিনানিপাত করছেন। এভাবে পানি বৃদ্ধি হলে ঘর বাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে হাওর বাসীরা।

যাতাযাত রাস্তা প্লাবিত হওয়ার কারণে অনেকেই খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছেনা এমনটাই জানালেন চামরদানী ইউনিয়নের সাজদাপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল শিকদার ও শুসেন সরকার। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক নানা ব্যাধি। হাটবাজারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাময়িক চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার মানুষেরা।

সর্বোপরি খাদ্য সংকট, রোগব্যাধি, যোগাযোগে ব্যাঘাত, গোটা চামরদানীসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের। পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্যে প্রভাব পড়েছে। সব মিলিয়ে জন-জীবন চরম আকার ধারণ করেছে।

সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিন ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের কষ্ট লাঘব করার উদ্দেশ্যে এখনও পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন,এনজিও বা কোন সামাজিক সংগঠন বন্যা কবলিত এলকার মানুষের পাশে এগিয়ে আসেনি। গতকাল শনিবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের কান্দা পাড়া বাজার ব্রীজ সংলগ্ন জায়গায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে রাস্তার অনেক জায়গা ভেঙ্গে তার উপর প্রায় ২ ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

মেউহারী সরকারি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি জানান, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাতের কারণে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম।

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহম্মেদ জানান, যদি বৃষ্টি এভাবে চলতে থাকে তা হলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৪৫০০হেক্টর চাষকৃত রুপা আমন জমি ও
২৮০ হেক্টর বীজতলা সহ বিভিন্ন প্রকার রবিশস্য এর জমি পাহাড়ী ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিবে।

পাউবোর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস জানান, লাগাতার বৃষ্টিপাত পাহাড়ি ঢল এবং ভারতের বরাক উপত্যকায় পানি বাড়ায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীসহ অন্যান্য নদীতে পানি আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৭ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না বলেন,আমার নির্বাচনী এলাকার পানিবন্দি বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে এসেছি। আমার এলাকা বন্য কবলিত মানুষ গুলোর জন্য উপজেলা প্রশাসন এগিয়ে আসার জন্য জোরদাবী জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন খন্দকার বলেন, আমি স্ব-স্ব এলাকার চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করব।

ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ১৩, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন