bdlive24

দিনাজপুরে বন্যায় ১৪ জনের মুত্যু: সেনা মোতায়েন

রবিবার আগস্ট ১৩, ২০১৭, ১১:৩৩ পিএম.


দিনাজপুরে বন্যায় ১৪ জনের মুত্যু: সেনা মোতায়েন

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরে ভয়াবহ বন্যায়হ একই পরিবারের তিন শিশুসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পানিতে ডুবে ৯ জন, দেয়াল চাপায় দু’জন এবং সাপে কেটে ৩ জনের মৃত্যু হয়। এদিকে বাঁধ রক্ষা ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে সেনা মোতায়েন করেছে জেলা প্রশাসন। সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একসাথে কাজ করছে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় বন্যার কারণে জেলায় পানিতে ডুবে, দেয়াল চাপায় এবং সাপে কেটে ১৪ জনের মুত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দিনাজপুর সদরে ৩ জন, বিরলে ৫ জন, কাহারোলে ৪ জন, নবাবগঞ্জে ১ জন এবং বীরগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কাহারোল উপজেলার ঈশ্বরগ্রামে ভেলা উল্টে একই পরিবারের তিন শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। বন্যার কারণে ঈশ্বরগ্রাম থেকে কলার ভেলায় চড়ে পার্শ্ববর্তী বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামে তিন সন্তান ও প্রতিবেশীর এক সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসছিলেন আবদুর রহমানের স্ত্রী সোনাভান বেগম। এসময় ভেলা উল্টে একই পরিবারের তিন শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। এরা হলো- বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রাামের আবদুর রহমানের মেয়ে চুমকি (১৩) শহিদ আলী (১০) ও সিয়াদ (৭) এবং প্রতিবেশী সাঈদ হোসেনের ছেলে সিহাদ (৭)।

এছাড়া প্রবল বর্ষণে রোববার সন্ধায় কাহারোল উপজেলা পল্লীতে দেয়াল চাপা পড়ে আরোদা রানী দাস (৫০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। আরোদা রানী দাস কাহারোল উপজেলার ৬নং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ দাসপাড়া গ্রামের সুধীর চন্দ্র দাসের স্ত্রী বলে জানা গেছে। কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আলী সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া বন্যায় রোববার আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুর শহরের দক্ষিণ বালুবাড়ী এলাকার আবদুল হাকিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৫) ঘরে বন্যার পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান।

বালুবাড়ী ঢিবিপাড়া এলাকার এনামুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান (১৫) তলিয়ে যাওয়া রাস্তার পাশে খালে পড়ে মারা যান। সদর উপজেলার মির্জাপুর এলাকার আবদুল গফফারের ছেলে আবু নাইমও (১৩) বন্যার পানিতে পড়ে মারা যান। সদর উপজেলার দরবারপুর গ্রামের মেহের আলীর ছেলে চাঁন মিয়া (৫৫) আতঙ্কে বন্যার পানিতে পড়ে যান। বিরল উপজেলার মালঝাড় এলাকার বাবলু রায়ের স্ত্রী দিপালী রায় (৩২) নিজ বাসায় সর্পদংশনে মারা যান।
 
এছাড়াও আরো একজন সর্পদংশনে এবং দু’জন পানিতে ডুবে মারা গেছে। নবাবগঞ্জে সর্পদংশনে একজন এবং বীরগঞ্জে সেতু থেকে পড়ে পানিতে ডুবে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে দিনাজপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জেলার সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভেঙে গেছে দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধসহ বেশ কয়েকটি নদীর বাঁধ। বাড়ি-ঘর ডুবে গিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় সাত লাখ মানুষ। রোববার দুপুর থেকে বৃষ্টি থেমে গেলেও ঢলে নেমে আসা পানিতে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা, ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি  হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। গৃহহীন এসব মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন বাঁধ, উঁচু এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে। জেলার দুই হাজার ৯৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই বানভাসী মানুষের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।

দিনাজপুর সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা না হলেও বন্যাদুর্গত এলাকায় বানভাসী মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আশ্রয় নেয়ায় সেগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী ফয়জুর রহমান জানান, জেলার সব নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পুনর্ভবা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই নদীর পানি ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তোড়ে শহরের মাহুতপাড়া তুঁতবাগান এলাকায় দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধের ৫০ মিটার ভেঙে গেছে। এছাড়াও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেই বাঁধ সংস্কারে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। বিজিবি বাঁধটি সংস্কারে ব্যর্থ হওয়ায় দুপুরে বাঁধ সংস্কার এবং বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। মেজর তৌহিদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ৫২ জন সদস্য বাঁধ সংস্কার ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে।

বন্যায় দিনাজপুরের অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়ক পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় দিনাজপুর জেলার সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। হিলি স্থলবন্দর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। পাবর্তীপুর-পঞ্চগড় রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। যা মৌসুমের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এক লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ৬৭ মেট্রিক টন চাল বন্যা দুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যার্তদের জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম ভেঙ্গে যাওয়া শহর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন ও বন্যায় দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।


ঢাকা, আগস্ট ১৩(বিডিলাইভ২৪)// ই নি
 
        print

এই বিভাগের আরও কিছু খবর






মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.