bdlive24

মহাসড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

সোমবার আগস্ট ১৪, ২০১৭, ১২:৩৬ পিএম.


মহাসড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

মুনিরুজ্জামান মুনির, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: নিজস্ব মাথা গুজার ঠাঁই নেই বলে ভূমিহীনরা মহাসড়ক ঘেঁষে বসতবাড়ি স্থাপন করে বসবাস করে আসছে। এভাবে বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তারা বসবাস করছে। কারণ তাদের যাবার আর কোন জায়গা নাই। এতে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ, বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা।

এসব ব্যাপারে তেমন কারো মাথা ব্যাথা না থাকলেও সম্প্রতি বগুড়ার ওমরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়  নাটোরগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে ঘুমান্ত কিশোরী ইতি খাতুন নিহত হওয়ার পর কিছুটা ভাবতে বাধ্য করছে সবাইকে।

বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক। মহাসড়কের দু’পার্শ্বে ভূমিহীনরা বসতবাড়ি স্থাপন করে বসবাস করে আসছে। কিন্তু তাদের জীবনের নেই কোন নিরাপত্তা।

মহাসড়কের দু’পার্শ্বেই বন বিভাগের গাছ লাগানো রয়েছে। এর মাঝে আবার ভূমিহীন মানুষের বসতবাড়ি। যেখানে অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করতে হয় তাদের। মহাসড়কের পার্শ্বে বসতি গড়ে ওঠায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। এই অবস্থা দীর্ঘদিনের।

মহাসড়ক দিয়ে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় বাস-ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পার্শ্বে উল্টে যায়। আবার কোন সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পার্শ্বে বসত ঘরে ঢুকে পরে।

ভুমিহীন মানুষদের সরকারি খাস জায়গায় বসতবাড়ি স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো না বলে মনে করেন অনেকে।

সরেজমিনে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার ওমরপুর সড়ক পাড়ায় গিয়ে বসতিবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পরপরই তার সড়কের পার্শ্বে বেড়ার ঘর করে বসবাস শুরু করে। এই বসতিতে প্রায় একশ পরিবার রয়েছে। বর্তমানে তারা নন্দীগ্রাম পৌরসভার ভোটার।

তারা জানান, ‘আমরা জীবনের অনেক ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করছি। সারাদিন কাজকর্ম শেষে রাতে যখন পরিবার নিয়ে ঘুমাতে যাই তখন বুকের ভিতর আশঙ্কা কাজ করে, আর বার বার মনে হয় সকালে সুস্থ অবস্থায় জাগা পামু তো?’


সেখানে বসবাসকারী রাজু আহম্মেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, রাশেদ খন্দকার ও রফিকুল ইসলাম সাথে কথা বললে তারা জানান, ‘নিজেরদের কোন জায়গা না থাকায় আমার এখানে ঘর তৈরি করে বসবাস করছি। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করতে হয়। সরকার আমাদের জন্য গুচ্ছ গ্রামের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জীবনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতাম।’

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দীকি জুয়েল জানান, সরকারিভাবে তাদের বাসস্থানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্য তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পৌরসভা থেকে তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।


ঢাকা, আগস্ট ১৪(বিডিলাইভ২৪)// এস এ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.