সর্বশেষ
সোমবার ১১ই আষাঢ় ১৪২৫ | ২৫ জুন ২০১৮

'আত্মঘাতী সাইফুল শিবিরকর্মী, বাবা জামায়াত নেতা'

মঙ্গলবার, আগস্ট ১৫, ২০১৭

1580689871_1502794923.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াটের সদস্যরা। দুই দফা বিস্ফোরণ ও গুলির পর সেখানে খুলনা বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান শেষ বর্ষের ছাত্র সাইফুলের লাশ পাওয়া যায়।

পুলিশ বলছে, পান্থপথে অভিযানে আত্মঘাতী হওয়া ‘জঙ্গি’ সাইফুল ইসলাম এক সময় শিবিরকর্মী ছিলেন; আর তার বাবা খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িত।  খুলনার ডুমুরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাইফুলের বাবা আবুল খায়ের মোল্লাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “সাইফুল একজন নব্য জেএমবির সদস্য, তবে আগে শিবির করতেন। তার বাবা আবুল খায়ের মোল্লা একটি মসজিদের ইমাম। তিনি জামাতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছি।”

খুলনার ডুমুরিয়া থানা পুলিশ জানায়, সাইফুলদের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাঠি গ্রামে। তার বাবা আবুল খায়ের নোয়াকাঠির মাঠেরহাট মসজিদের ইমাম এবং ইউনিয়ন জামায়াতের কোষাধ্যক্ষ।

ডুমুরিয়ার ওসি মো. হাবিল হোসেন বলেন, “ঢাকায় সাইফুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমরা তার বাবাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। সাইফুলের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে।”

আবুল খায়েরের বরাত দিয়ে ওসি জানান, ‘পড়াশোনার কাজের কথা বলে’ গত ৭ অগাস্ট ঢাকায় যান সাইফুল। সর্বশেষ গত রোববার ফোনে সাইফুলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হয়। সে সময় বলেছিল, সোমবার খুলনা ফিরতে পারে।

পান্থপথের অভিযান শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হক বলেন, সাইফুল এক সময় মাদ্রাসায় পড়তেন, জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন।

তিনি “যারা বঙ্গবন্ধুকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছে, তারাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আজকে এই জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছিল।”

পান্থপথের ওই হোটেল থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ভবনে গিয়ে সকালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

আইজিপি বলেন, “ধানমণ্ডি বত্রিশ নম্বরকে কেন্দ্র করে আগস্টের মিছিলে তারা আত্মঘাতী বোমা হামলা করবে এবং শত শত লোক মেরে ফেলবে- এ ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল জঙ্গিরা।”

তিনি জানান, পুলিশ অভিযান শুরু করার পর জঙ্গি সাইফুল একটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই হোটেল কক্ষের দড়জা উড়িয়ে দেয়। পরে পুলিশ গুলি শুরু করলে সে সুইসাইড ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটায়। তাতে হোটেলের করিডোরের দেয়াল ধসে নিচে পড়ে যায়।


ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ১৫, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ৫৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন