bdlive24

পানির নিচে দেশ, দায় কার?

বৃহস্পতিবার আগস্ট ১৭, ২০১৭, ০৫:১৩ পিএম.


পানির নিচে দেশ, দায় কার?

বিডিলাইভ ডেস্ক: বানভাসিদের জন্য যারা ত্রাণ সামগ্রী উঠাচ্ছেন তাদের জন্য শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। আপনাদের এই উদ্যোগ প্রশংসার এবং প্রমাণ করে বাঙ্গালীরা সবসময় বিপদে একে অপরের। কিন্তু এই ছোট ছোট উদ্যোগ বন্যার্তদের সাময়িক কষ্ট লাঘব করলেও দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা বা স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতির ঘুম ভাঙা অাবশ্যক।

একটা ছেলে আর একটা মেয়ে সংসার বাঁধে একদিনে কিন্তু সংসার সাজাতে সময় নেয় সমগ্র জীবন। আর রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ ও খুলনা বিভাগের কিছু অঞ্চলের মানুষ শুধু সংসার বাঁধে, সাজাতে আর পারেনা। কারণ বন্যার আঘাত।

বন্যা ও অনাবৃষ্টির অনেকগুলো কারণের (উল্লেখিত ৩ অঞ্চলের) প্রধান কারণ দুইটি:
১. বাংলাদেশের মরণ ফাঁদ খ্যাত ফারাক্কা বাঁধ।
২. তিস্তার অসম পানি বণ্টন।

শুধু্ এই ২টি সমস্যার কারণে উক্ত অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন একদম অচল হয়ে পড়েছে। ৪৯টি ছোট নদী ধ্বংস হয়েছে। বাংলাদেশের বড় বড় নদী হারিয়েছে তার স্বাভাবিক গতি প্রবাহ ও নাব্যতা। কৃষি ও মৎস শিল্প একদম ধ্বংসের মুখে।

চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১৮ মাইল অদূরে ফারাক্কা বাঁধ ও লালমনিরহাটে তিস্তা অবস্থিত। তিস্তার ৬ টি ব্যারেজ(Barrage) ও ফারাক্কার বাঁধ, দুইটিই নির্মাণ করেছে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র ভারত সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে।

বাংলাদেশের জীবন প্রবাহ (Life Line) খ্যাত ফারাক্কা ও তিস্তা ব্যারেজের প্রায় ৬০টি মুখ বর্তমানে খোলা, যা দিয়ে লক্ষ লক্ষ কিউসেক পানি আমাদের দেশে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে বন্যা। মজার বিষয় খরার সময় তারা (ভারত) ১ ইঞ্চি পানিও না ছেড়ে তাদের চাষাবাদ স্বাভাবিক রাখে।

যখন কুচবিহার, শিলিগুড়ি, মালদাহ ও মুর্শিদাবাদে পানি বেড়ে যায় তখনই তারা বাঁধ খুলে দেয়। আর ভাটির দেশ বাংলাদেশ তখন পানির নিচে। আহ! হায়রে বন্ধু রাষ্ট্র।

সমাধানের উপায়:
১. কুটনৈতিক শক্তি (Diplomatic Power) কাজে লাগানো।
২. দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা।
৩. আন্তর্জাতিক আদালতের সাহায্য গ্রহণ।
৪. দুই দেশের মধ্যে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করণ।

৫. বাংলাদেশের সাথে ভারতের অনেক ব্যবসায়ীক লেনদেন ও চুক্তি বিদ্যমান। এসকল চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারতের উপর কৌশলে বল প্রয়োগ।

৬. বাংলাদেশের নদ-নদীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতকরণ।
৭. পার্শ্ব ক্যানেল বা খাল খনন ও সংস্করণ।
৮. নদীকে বর্জ্য মুক্তকরণ।
৯. সরকারের সদিচ্ছা ও বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রদর্শন।
১০. জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ।

উপসংহারে বলতে চাই, যারা বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী উঠিয়ে মহত্বের পরিচয় দিচ্ছেন তাদেরকে বলছি ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও বাংলাদেশে প্রবাহিত আন্তর্জাতিক নদী ও তার পানির ন্যায্য হিস্যা না হলে কয়েক বছর পর আপনাদের জন্যও ত্রাণ সামগ্রী উঠানো লাগবে।

লেখক: এস এ. আর ছিবগাতুল্লাহ,
মাস্টার্স, দর্শন বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।


ঢাকা, আগস্ট ১৭(বিডিলাইভ২৪)// কে এইচ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.