bdlive24

ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত চিরিরবন্দর ভূমি অফিস

বৃহস্পতিবার আগস্ট ২৪, ২০১৭, ০৪:০০ পিএম.


ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত চিরিরবন্দর ভূমি অফিস

বিডিলাইভ ডেস্ক: চিরিরবন্দর ভূমি অফিস এক সময় সেবাপ্রার্থীদের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম ছিল। হয়রানি ও ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বিস্তার। বর্তমানে সেখানে ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সেবা পাচ্ছে ভূমি মালিকরা।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করছেন। ভূমিসংক্রান্ত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে। বসার চেয়ার কিংবা বিশুদ্ধ পানীয়র ব্যবস্থাও রয়েছে চিরিরবন্দর উপজেলার প্রতিটি তহশিল অফিসে। ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং কর্মচারী-উমেদারদের অনিয়ম-জালিয়াতি ঠেকাতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। সঠিক সময়ে কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য সেখানে লাগানো হয়েছে বায়োমেট্রিক টাইম অ্যাটেনডেন্স মেশিন।

সরোজমিনে চিরিরবন্দর এসিল্যান্ড অফিস ঘুরে দেখা যায় সত্যিই পাল্টে গেছে সেখানকার চিত্র। জনগণকে সেবা দেয়ার জন্য সেখানে পরিবেশের অনেক উন্নতি ঘটেছে। নামজারি কিংবা মিস কেস করতে গিয়ে কিছুদিন আগেও সেবা প্রার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এখন এসিল্যান্ড অফিসেই বসার জন্য ওয়েটিংরুম ও প্রতিটি রুমে চেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চিরিরবন্দর সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো: মাশফাকুর রহমান যোগদানের পর তার নিজ উদ্যোগে প্রতিটি এসিল্যান্ড অফিসসহ তহশিল অফিসে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। তাছাড়া তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন।

এসিল্যান্ড অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলের রুমওয়াল ও বান্ডরি ওয়াল সংস্কারের মাধ্যমে চকচকে করা হয়েছে। সেবাপ্রার্থীদের বসার জন্য রাখা হয়েছে চেয়ার। অফিসের সামনে একচিলতে খালি জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে সেবাকুঞ্জ। সেখানে বেশ কিছু সেবাপ্রার্থী বসে আছে।

নশরতপুর থেকে সেবা নিতে আসা মামনুর রশিদ বলেন, গতবছর নামজারির আবেদন জমা দিতে এসে কত যে হয়রানি হয়েছি! এখন সাজানো-গোছানো অফিসে সহজেই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এসিল্যান্ড মো: মাশফাকুর রহমান নিজে বসে সেবা নিশ্চিত করছেন। এমনকি তিনি অফিস সময়ের বাইরেও সেবা দিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয় বন্ধের দিনেও ভুমি গ্রহীতাদের সেবা দিয়েছেন বলে জানা যায়।

তিনি অপেক্ষমাণ সেবাপ্রার্থীদের কাছে এসে জানতে চান, সেবা নিতে তাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না। তার এ আচরণে আমরা সত্যি অভিভূত। মান্ধাতা আমলের ভূমি সেবা বাদ দিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন এসিল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘সেবাপ্রার্থীদের নয়, ভূমি প্রশাসনকে মানুষের দরজায় গিয়ে সেবা দিতে হবে।

কাঠের ভাঙা চেয়ার-টেবিল, নড়বড়ে দরজা-জানালা আর ছেঁড়াফাড়া বই, রেজিস্ট্রার ও খাতাপত্র পাল্টে সব কিছু নতুন ও আধুনিকভাবে গড়ে তুলছেন তিনি। শধু তাই নয় সরকারি কিংবা অন্যের জমি বিক্রি করে দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। এ ধরনের জালিয়াত চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন অনেকেই। জমি কিনে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ ধরনের ঘটনা রোধ করার লক্ষ্যে চিরিরবন্দর এসিল্যান্ড সেখানে নিজস্ব সফটওয়্যার দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জমির মালিকানা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো জমিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত আছে কি না, সেটাও জানা যাচ্ছে। জমি কেনার আগে যে কেউ বিনা পয়সায় এসিল্যান্ড অফিসে এ ধরনের সেবা পাচ্ছে।

কথা হয় ভুমি অফিসে আসা সেবাপ্রার্থী মকবুল হোসেনের সাথে তিনি জানান, এক নিকটাত্মীয়র জমির সমস্যা নিয়ে এসেছেন। তার কথা শুনে এসিল্যান্ড তাৎক্ষণিক ভাবে সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে ফোন করে সমস্যার সমাধান করে দিলেন। এতে খুশি হয়ে মকবুল হোসেন বলেন, ‘একসময় আমরাও মাঠপর্যায়ে চাকরি করেছি। সবচেয়ে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হয়রানিমূলক কাজ হলো জমিজমার কাজ। কিন্তু বর্তমানে চিরিরবন্দর ভূমি প্রশাসন যে এতটা এগিয়ে গেছে, এখানে না এলে বুঝতাম না।



এদিকে ভূমি অফিসে আসা সেবাপ্রার্থীরা জানান, বর্তমান চিরিরবন্দর ভূমি অফিস আগের চেয়ে অনেক বেশি সেবাবান্ধব হয়ে উঠেছে। নামজারি ফাইল জমা দেয়া কিংবা মিস কেস দায়ের করার পর আর সেখানে নম্বর এবং পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। ফাইল জমা হওয়ার পরপরই সেবাপ্রার্থীর মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে নামজারি-মিস কেসের নম্বর এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজন বোধে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্যসেবা দেয়া হচ্ছে।



ঢাকা, আগস্ট ২৪(বিডিলাইভ২৪)// জে এস
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.