সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২২ মে ২০১৮

পাহাড়ি মাটি ও বিভিন্ন বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে কাপ্তাই লেক

বুধবার, আগস্ট ৩০, ২০১৭

1659526301_1504072803.jpg
কে.এম জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো :
প্রায় ১১ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর পানির আধার রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই লেকটি সমতলের কৃষি খাতকে হুমকির মধ্যে রেখেছে। ৫২ বছর আগে বাঁধ দিয়ে সৃষ্টি করা লেকটিতে প্রতিদিন পড়ছে হাজার হাজার টন পাহাড়ি মাটি ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। উপর থেকে অব্যাহত ভাবে নেমে আসা এসব বর্জ্যের কারণে লেকের গভীরতা উদ্বেগজনক হারে কমে গিয়ে পানির ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

কর্ণফুলী ও হালদা নদীর তীরবর্তী উপজেলার বাসিন্দারা বলেন, প্রতি বছর কাপ্তাই লেকের পানির চাপে সমতলের কৃষিখাত এখন হুমকির মধ্যে পড়েছে। কর্ণফুলী ও হালদা নদী হয়ে আসা এই পানিতে তলিয়ে দিচ্ছে হাজার হাজার একর কৃষিজমি। দফায় দফায় অনাকাংঙ্কিত পানির চাপে জমিতে আমন চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। স্রোতে ধসে যাচ্ছে এখনকার বহু রাস্তাঘাট।

জানা যায়, জন্মের পর থেকে কোনো সময় এই লেকের ড্রেজিং করা হয়নি। যুগে যুগে পলি পড়া অব্যাহত থাকায় লেকটি পানি স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

স্থানীয়রা বলেছেন বর্ষার মৌসুমে স্বাভাবিক বৃষ্টিতেও লেকটি টইটুম্বুর হয়ে পড়ে। অবস্থা বুঝে কর্তৃপক্ষ বাঁধের সুরক্ষায় বিভিন্ন সময় ১৬টি স্পিলওয়ে দিয়ে পূর্ণমাত্রা পানি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এই পরিস্থিতিতে পানির চাপে পড়ে কর্ণফুলী ও হালদার তীরবর্তী উপজেলা সমূহের লোকজন বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট পানির সাথে কাপ্তাই লেকের পানি যোগ হয়ে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী এলাকার কৃষিজীবিদের।

মৌসুমী বর্ষার পানির সাথে কাপ্তাই থেকে নেমে যাওয়া পানি যোগ হলে সমতলের কৃষি জমিতে দীর্ঘ সময় ধরে পানি কোমর পানিতে তলিয়ে থাকে। এই অবস্থার মধ্যে শত শত কৃষকদের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। চাষাবাদের উপযুক্ত সময়ে জমি থেকে পানি না নামার কারণে আমন চাষাবাদে যেতে পারে না। কৃষিজীবিদের মতে, এই সমস্যায় প্রতি বছর এসব উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে আমন চাষাবাদ করা হয় না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পার্ব্বত্য জেলার পাহাড়ের মধ্যেকার সমতল ভূমি এবং উপত্যকা ভরাট করে পানি সংরক্ষণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল এই লেক। রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই এই লেকটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম পানির আধার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যার উপড়িয়াংশের রয়েছে উঁচু ও মাঝারি ধরনের অসংখ্য পাহাড়। ওই এলাকার জনসাধারণের মতে মিঠা পানির এই লেকের বেশির ভাগ পাহাড় এখন বৃক্ষ শূন্য। নেড়া হয়ে পড়া পাহাড় গুলোতে এখন আধিবাসীরা করছে ঝুম চাষ।

অপরদিকে পাহাড়ি এলাকায় দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই পাহাড় টিলা কেটে গড়ে তোলছে নতুন নতুন বাড়ীঘর দোকান মার্কেটসহ ক্ষেত খামার। এই অবস্থার মধ্যে লেকে প্রতিদিন এসে পড়ছে হাজার হাজার টন মাটি ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার শফিউদ্দিন বলেন, বাঁধের ঝুঁকি কমাতে বর্ষায় সৃষ্ট অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিতে হয়।

আরো জানা যায়, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সরকার আমেরিকার অর্থায়নে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। নির্মাণ হয় ৬২ সালে। ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিযারিং কোম্পানি এবং ইউতাহ ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেট নামের দুটি প্রতিষ্ঠান ৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ ও ৫৪.৭ মিটার উচ্চতার এ বাঁধটি নির্মাণ করে। এই বাঁধের পূর্বাংশে ১৬টি স্পিলওয়ে (পানি নির্গমন পথ) সংযুক্ত রয়েছে। এ স্পিলওয়ে হয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক ফিট পানি নামতে পারে কর্ণফুলী নদীতে।

১৯৬০ সালে লেকের পানিকে কাজে লাগিয়ে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রথম দিকে দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট করা হলেও পরবর্তীতে ইউনিট সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় পাঁচটি। যা থেকে ২৩০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। সূত্র মতে, কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করার সময় ওই এলাকার ৫৪ হাজার একর কৃষি জমি ও সংরক্ষিত ২৯ বর্গমাইল বনাঞ্চলসহ ২৩৪ বর্গমাইল এলাকা পানি নিচে চলে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।

ঢাকা, বুধবার, আগস্ট ৩০, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ১৪১ বার পড়া হয়েছে