bdlive24

মৃত্যুঞ্জয়ী এক কণ্ঠসৈনিক আব্দুল জব্বার

বুধবার আগস্ট ৩০, ২০১৭, ০৩:১৫ পিএম.


মৃত্যুঞ্জয়ী এক কণ্ঠসৈনিক আব্দুল জব্বার

বিডিলাইভ ডেস্ক: ৭৯ বছর বয়সে আজ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো বর্ণাঢ্য এক সংগীত জীবনের। একাত্তরে কণ্ঠযোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে এবার স্থায়ীভাবে ঠাঁই নিলেন বাঙালির অন্তরে।

'তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়', 'ও রে নীল দরিয়া, আমায় দেরে দে ছাড়িয়া', 'সালাম সালাম হাজার সালাম' এমন বিখ্যাত গানের শিল্পী তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় কণ্ঠ দিয়ে যোদ্ধাদের জাগ্রত করেছেন তিনি।

সংগীতকে ভালোবেসেই জীবনের পথ চলেছেন তিনি। আব্দুল জব্বারের শিল্প জীবনের সূচনা ১৯৫৮ সালে বেতারে গান দিয়ে। এরপর তিনি একে একে অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায় যেমনি মিটিয়েছেন তেমনি তার প্রেমপ্রেয়সী মন থেকে উপচে পড়েছে অসংখ্য রোমান্টিক গান।

স্বাধীনতার পরে, জনপ্রিয় এই শিল্পী চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

৭ নভেম্বর, ১৯৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন এ শিল্পী। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত সালাম সালাম হাজার সালাম, জয় বাংলা বাংলার জয়সহ অনেক উদ্বুদ্ধকরণ গানের গায়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

তার গাওয়া তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, সালাম সালাম হাজার সালাম ও জয় বাংলা বাংলার জয় গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চ মাস জুড়ে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৯৬) ভূষিত হন।

প্রাথমিক জীবন:
আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

কর্মজীবন:
জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। তিনি ১৯৬২ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র সংগমের গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৬৮ সালে এতটুকু আশা ছবিতে সত্য সাহার সুরে তার গাওয়া "তুমি কি দেখেছ কভু" গানটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৬৮ সালে পীচ ঢালা পথ ছবিতে রবীন ঘোষের সুরে "পীচ ঢালা এই পথটারে ভালবেসেছি" এবং ঢেউয়ের পর ঢেউ ছবিতে রাজা হোসেন খানের সুরে "সুচরিতা যেও নাকো আর কিছুক্ষণ থাকো" গানে কণ্ঠ দেন।

১৯৭৮ সালে সারেং বৌ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে "ও..রে নীল দরিয়া" গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার প্রথম মৌলিক গানের অ্যালবাম কোথায় আমার নীল দরিয়া ২০১৭ সালে মুক্তি পায়। অ্যালবামটির গীতিকার আমিরুল ইসলাম। সুরকার গোলাম সারোয়ার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান:
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা যুগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সালাম সালাম হাজার সালাম ও জয় বাংলা বাংলার জয়সহ অংসখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

এছাড়া যুুদ্ধের সময়কালে তিনি প্রখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেন। তৎকালীন সময়ে কলকাতাতে অবস্থিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধাদের ক্যাম্প ঘুরে হারমোনি বাজিয়ে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেছেন যা মুক্তিযুদ্ধাদের প্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে সেসময় বিভিন্ন সময় গণসঙ্গীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি দান করেছিলেন।

পারিবারিক জীবন:
আব্দুল জব্বারের প্রথম স্ত্রী গীতিকার শাহীন জব্বার। যার গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী, ফাতেমা তুজ জোহরার মত জনপ্রিয় বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পীরা। তাদের সন্তান মিথুন জব্বারও একজন সঙ্গীতশিল্পী। জব্বারের দ্বিতীয় স্ত্রী রোকেয়া জব্বার মিতা যিনি ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা:
    # বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩)
    # একুশে পদক (১৯৮০)
    # স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬)
    # বাচসাস পুরস্কার (২০০৩)
    # সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-আজীবন সম্মাননা (২০১১)
    # জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার ।



ঢাকা, আগস্ট ৩০(বিডিলাইভ২৪)// কে এইচ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.