bdlive24

চোখের ছানি রোগ: করণীয়

মঙ্গলবার সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৭, ০৯:১৯ পিএম.


চোখের ছানি রোগ: করণীয়

বিডিলাইভ ডেস্ক: ছানি চোখের একটি অসুখ। পূর্ণ বয়ষ্কদের শত করা প্রায় ৮০ ভাগ অন্ধত্বের কারণ হচ্ছে এই ছানি। ইংরেজীতে ছানিকে ক্যাটার‌্যাক্ট বলা হয়। সাধারণ মানুষ ছানিকে চোখে পর্দা পড়া বলে জানে। চোখের মধ্যে কাঁচের মত একটি স্বচ্ছ বস্তু আছে যাকে লেন্স বলে। চোখের এই স্বচ্ছ লেন্স আস্তে আস্তে অস্বচ্ছ হয়ে যাওয়াকেই ছানি বলে। ছানি হলে দৃষ্টি শক্তি আস্তে আস্তে  কমে যায়। ছানি যে কোন বয়সেই হতে পারে।

রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ

চোখের দৃষ্টি শক্তি ধীরে ধীরে কমে যাবে
চোখে আবছা/কুয়াশা/ ঝাপসা দেখবে
ছানি পক্ক (মাচিউর) হলে দেখা যাবে না এবং একা একা চলা যাবে না
চোখের কালোমনি ধূসর/সাদা দেখা যাবে

চিকিৎসা

ছানির একমাত্র চিকিৎসা হল অপারেশন। সময়মত অপারেশ না করে দেরি করলে চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হতে পারে। কোন ঔষধ ব্যবহার করে কারণ লাভ নেই। দেশের জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছানি অপারেশন করা হয়। এই অপারেশনের মাধ্যমে চোখের অস্বচ্ছ লেন্সটাকে ফেলে দিয়ে তার বদলে অন্য একটি কৃত্রিম লেন্স দেওয়া হয়। এই লেন্স দেওয়া হয় ৩ টি উপায়ে-

অপারেশন +চশমা
অপারেশন+কণ্টাক্ট লেন্স
অপারেশন+ ইন্ট্রাকুলার লেন্স

ছানি অপারেশন

অপারেশনই হচ্ছে ছানির একমাত্র চিকিত্সা। বয়সজনিত কারণে ছানি পড়ার প্রথম দিকে ছানি অপরিপক্ক থাকে। তখন আলোক রশ্মির কিছু অংশ রেটিনাতে প্রবেশ করতে পারে। চশমা

দিয়ে দৃষ্টিশক্তি কিছুটা বাড়ানো যায়। এতে যদি রোগীর দৈনন্দিন কাজকর্মে কোন অসুবিধা না হয় তবে আরো কিছুদিন পরে ছানি অপারেশন করা যেতে পারে। কিন্তু চশমা দিয়েও যদি রোগী দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে না পারে, তবে অবশ্যই ছানি অপারেশন করতে হবে। একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে, ছানি পরিপক্ক না হলে অপারেশন করা যায় না। এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে যে কোন পর্যায়েই ছানি অপারেশন করা যায়। ছানি অপারেশন নির্ভর করে রোগীর পেশার উপর। ছানির জন্য একজন কৃষকের যদি দূরের দৃষ্টি খারাপ হয়, তার কাছের দৃষ্টি ভাল থাকলেও অপারেশন করা হয়। আবার একজন লাইব্রেরিয়ানের যদি ছানির জন্য কাছের দৃষ্টি খারাপ হয়, তার দূরের দৃষ্টি ভাল থাকলেও অপারেশন করা হয়।

 ছানি প্রতিরোধ

চোখের আঘাত, বিভিন্ন চোখের রোগ, ডায়াবেটিস, কোন কোন ওষুধ ইত্যাদি অল্প বয়সে ছানি পড়ার অন্যতম কারণ। এই কারণগুলি প্রতিহত করা যায়। সাধারণত: শিশু-কিশোরদেরই চোখের আঘাতে ছানি পড়ে বেশী। তাই সতর্ক থাকলে আঘাতজনিত ছানি পড়বে না। শিশুদের হাতে ধারালো কোন জিনিস দেয়া উচিত নয়। তাদের ধারালো খেলনা দিয়ে খেলতে দেয়া উচিত নয়। চোখের কোন অসুখ হলে সময় মত চিকিত্সা করালে অনেক ক্ষেত্রে ছানি পড়বে না। ডায়াবেটিস হলে চিকিত্সার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জন্মগত ছানি প্রতিরোধে গর্ভবতী মায়ের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। গর্ভবতী মাকে বেশী পরিমাণে বা দীর্ঘ দিন ধরে ষ্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করতে দেয়া উচিত নয়। গর্ভবতী মায়ের কোন অসুখ হলে তার উপযুক্ত চিকিত্সা করাতে হবে। নিয়মিত ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করাতে হবে।

ডাঃ চন্দ্র শেখর মজুমদার
সহযোগী অধ্যাপক
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল
শেরে বাংলা নগর, ঢাকা।


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৫(বিডিলাইভ২৪)// ম. উ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.