bdlive24

ব্লাড ক্যান্সার নিরাময়ে বিসিসিবি-দিশারীর যৌথ প্রচেষ্টা

শুক্রবার সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৭, ০১:০১ পিএম.


ব্লাড ক্যান্সার নিরাময়ে বিসিসিবি-দিশারীর যৌথ প্রচেষ্টা

বিডিলাইভ রিপোর্ট: কানাডার টরোন্টোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্লাড ক্যান্সার নিরাময়ে গত কয়েক বছর ধরে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ‘দিশারী’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন৷

ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্টেমসেল সংক্রান্ত সচেতনতাবৃদ্ধিসহ স্টেমসেল ডোনার সংগ্রহে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে এই সংগঠনটি৷

স্টেমসেল যেহেতু কমিউনিটি নির্ভর কর্মকাণ্ড, আর এটা নিয়ে একমাত্র দিশারী'ই বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কাজ করছে৷ তাদের এ সচেতনামূলক কর্মকাণ্ড টরন্টোর গন্ডি পেরিয়ে ক্যালগেরি এবং হ্যামিল্টনে ছড়িয়েছে৷

অল্প কিছু মানুষের এই মহান চেষ্টা সংগঠনটিকে আজ এমন শক্ত অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমানে তাদের সদস্য সংখ্যাও উল্লেখ করার মতো৷  লক্ষ্য  তাদের এ উদ্যোগ পুরো কানাডাতে ছড়িয়ে দেওয়া৷

স্টেমসেল বিষয়টি সহজে সবার বোধগম্য নয়, তাই এ বিষয়টি সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছেন ব্লাড ক্যান্সার নিরাময়ে কাজ করা সংগঠন দিশারী।

স্বল্প সময়ের পথ চলায় দিশারীর সাফল্যের পাল্লা বেশ ভারী। তাদের বিশ্বাস সেদিন হয়ত বেশি দূরে নেই, যখন স্টেমসেল প্রতিস্থাপন করে আমাদের কাছের মানুষটিকে মৃত্যুর কাছ থেকে ছিনিয়ে আনবে।

তবে তাদের পথ চলায় গতি আনতে এবার তাদের সাথে হাত মিলিয়েছে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগের সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক বিসিসিবি। দিশারীর সাথে ব্লাড ক্যান্সার নিরাময়ে কাজ করবে তারাও।

আর এ লক্ষে গত ২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার টরোন্টোর ঢাকা ক্যাফেতে অনুষ্টিত এক বৈঠকে বিসিসিবি পক্ষ থেকে শাহরিয়ার আহমেদ আর দিশারীর হয়ে সুমন এ নিয়ে এক সাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। এতে এ কর্মকাণ্ডে আরো গতি আসবে বলে তাদের বিশ্বাস।

দিশারী গত ৪ বছরে কানাডাতে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্তদের জন্য রক্তদান কর্মসূচির আওতায় ২00 জন দাতা সংগ্রহ করেছে। তবে বিসিসিবির ১৬ হাজার সদস্য দিয়ে দিশারীর এই প্রকল্পকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। সেটা উপলদ্ধি করেই বিসিসিবি নেতৃত্ব দিশারীর এই কার্যক্রমে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে যাতে তারা আগের চেয়ে আরও বেশি গতিতে এগিয়ে যেতে পারবে।

কানাডাতে চীনা এবং ভারতীয়দের জন্য রক্ত দাতা ব্যাংক খুব শক্তিশালী। সে ক্ষেত্রে সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটি এ বিষয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও এবার সে দুরত্ব ঘুছবে।

ক্যান্সারে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা যায়। তবে তার মধ্যে বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যায় ব্লাড ক্যান্সারে। আর এই ব্লাড ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় নতুন রক্তকনিকা তৈরি করা।

২০১১/২০১২ সালে সর্বপ্রথম এই ধারণা তাদের মাথায় আসে। কিন্তু উপায় হিসাবে এটি ‘ওয়ানম্যাচ’ নামক এক আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা সম্পন্ন করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে, দিশারী এগিয়ে এসেছে, কর্তারা এখন এর বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে।

একত্রে ২৫% ম্যাচ খুঁজে পাওয়া যায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর বাকি ৭৫% ম্যাচ আসে বাইরে থেকে। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ম্যাচটি বেশি আসে একই সম্প্রদায়ের থেকে।

এই প্রক্রিয়ায় টেকনিশিয়ানরা লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবেন। এতে ৫ মিনিটেরও কম সময় লাগবে। অর্থাৎ পরীক্ষার জন্য নমুনা হিসেবে তারা আপনার মুখ থেকে লালা নেবেন।

তারপর তারা ডাটাবেসে আপনার স্টেম সেল (আপনার লালা) রেকর্ড রাখবে। পরে যখন কেউ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে, তখন ওই নমুনা খোঁজ করবে। আপনার দেয়া রক্ত ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মেশিনে সংরক্ষণ থাকবে। পরে সেটা প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রদান করা হবে।

রক্ত দেয়ার ব্যাপারে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। কারণ প্রতি তিনমাস পর নতুন রক্তের সেল তৈরি হয়।


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৮(বিডিলাইভ২৪)// এস এ
 
        print

এই বিভাগের আরও কিছু খবর







মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.