bdlive24

বিমানের চেয়ে দ্রুত গতির ট্রেন বানাবে চীন (ভিডিও)

রবিবার সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭, ০৬:২৫ পিএম.


বিমানের চেয়ে দ্রুত গতির ট্রেন বানাবে চীন (ভিডিও)

বিডিলাইভ ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীন। আর আয়তনের দিক থেকে বড় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম এ দেশটির এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত যেতে সময় লাগে অনেক। তবে রেল যোগাযোগে অত্যাধুনিক সুবিধা যুক্ত হওয়ায় সময় কিছুটা কম লাগে।  

চীনের রাজধানী বেইজিং ও মধ্যচীনের শহর উহানের মধ্যে ব্যবধান ১১৫২ কিলোমিটার। বর্তমানে বেইজিং থেকে হাই স্পিড বা দ্রুতগতির ট্রেনে উহান পৌঁছাতে সময় লাগে ৫ ঘন্টা। তবে এই ১১৫২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া যাবে মাত্র ২০ মিনিটেই।

হ্যা, শুনতে অকল্পনীয় লাগলেও এমনই দ্রুত গতির ট্রেন তৈরির গবেষণা কাজ পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে চীন।

সম্প্রতি উহানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় চীন বাণিজ্যিক মহাকাশযান শীর্ষ ফোরামে, চীনের মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্পোরেশান (সিএএসসি) জানিয়েছে, সংস্থাটি এমন ধরনের সুপার ফাস্ট ট্রেন নিয়ে গবেষণা করছে এবং এ গবেষণা প্রকল্পের কাজ চলছে উহান শহরের জাতীয় মহাকাশযান শিল্প পার্কে।

প্রকল্পের কর্মকর্তা মাও খাই বলেন, তারা চীনের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সাথে সুপার হাইস্পিড ট্রেন নিয়ে মতবিনিময় শুরু করেছেন। এ ধরনের ট্রেন নির্মিত হলে, তা হবে নতুন প্রজন্মের পরিবহনযান। সুপারসনিক গতিতে এ ট্রেন ছুটবে, তবে সেটা ঠিক আমাদের এখনকার ট্রেনের মতো না; এ ট্রেন লাইনের উপরে বা আরও সঠিকভাবে বললে, টিউবের মধ্য দিয়ে রীতিমতো উড়বে!

প্রস্তাবিত এই সুপার ফাস্ট ট্রেনের গতি হবে বর্তমান হাই স্পিড ট্রেনের ১০ গুণ এবং সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের ৫ গুণ!

মাও খাই বলেন, এ ধরনের ট্রেন এমন এক পরিবেশে চলাচল করবে, যেখানে বাতাসের বাধা থাকবে না। এ ট্রেনের জন্য ম্যাগনেটিক লেভিটেশান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ফলে এ ট্রেন ঘর্ষণজনিত বাধার সম্মুখীন হবে না। তাই এই ট্রেনে গতি হবে প্রচণ্ড।

চীনে ইতোমধ্যেই ট্রেন চলাচলে ম্যাগনেটিক লেভিটেশান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে, নতুন ধরনের সুপার ফাস্ট ট্রেন চলবে পাইপের মধ্য দিয়ে, বায়ুশূন্য পরিবেশে। ১৯০৪ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী রবার্ট গড্ডার্ড এমন ধারণা প্রথম পেশ করেন যে, বায়ুশূন্য পাইপের মধ্য দিয়ে ট্রেন প্রচণ্ড গতিতে চলতে পারে।

মাও খাই বলেন, আগে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই বাস্তবে বায়ুশূন্য পাইপে ট্রেনলাইন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন অর্থ, প্রযুক্তি, শ্রম, ও চাহিদা আর কোনো সমস্যা নয়। চীনের আছে সুপার ফাস্ট ট্রেন তৈরির সব উপাদান।

সুপার ফাস্ট ট্রেনের ওপর আবহাওয়ার কোনো বিরূপ প্রভাব পড়তে পারবে না। এ ট্রেনে কোনো জৈব জ্বালানিও লাগবে না। এ ট্রেন সাবওয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

চীন মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্পোরেশান (সিএএসসি) একটি গবেষণা-গ্রুপ গঠন করেছে। দেশ-বিদেশের ২০টি গবেষণালয়ও এ প্রকল্পে অংশ নেবে। বর্তমানে গবেষণাদলের ২০০টি কৃতিস্বত্ব আছে।

চীনের প্রস্তাবিত সুপার ফাস্ট ট্রেনের গবেষণা প্রক্রিয়া তিনটি ধাপে বিভক্ত-
প্রথম ধাপ: ২০২০ সালের মধ্যে মূল প্রযুক্তি আয়ত্ত করা। ২০২৩ সালের মধ্যে গোটা ব্যবস্থার পরীক্ষা শেষ করা এবং ৬০০ কিলোমিটার/ঘন্টা গতির ও ১০০০ কিলোমিটার/ঘন্টা গতির যাত্রীবাহী ট্রেন উৎপাদন করা। আঞ্চলিক সুপার ফাস্ট ট্রেনের পরিবহন নেটওয়ার্ক স্থাপন সম্পন্ন করা।

দ্বিতীয় ধাপ: ২০২৭ সালের মধ্যে ২০০০ কিলোমিটার/ঘন্টা গতির ট্রেন নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করা এবং জাতীয় পর্যায়ে সুপার ফাস্ট ট্রেনের পরিবহন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা।

তৃতীয় ধাপ: ৪০০০ কিলোমিটার/ঘন্টা গতির ট্রেন নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করা এবং 'এক অঞ্চল, এক পথ' উদ্যোগসংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চলে সুপার ফাস্ট গতির ট্রেনের পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

বর্তমানে বিশ্বে তিনটি কোম্পানি ১০০০ কিলোমিটার/ঘন্টা বা তার চেয়ে বেশি গতির ট্রেন নিয়ে গবেষণা করছে। এগুলো হচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্রের 'এইচটিটি' ও 'হাইড্রোলুপ ওয়ান' এবং চীনের একটি কোম্পানি।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল, সিআরআই.সিএন


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১০(বিডিলাইভ২৪)// কে এইচ
 
        print

এই বিভাগের আরও কিছু খবর







মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.