bdlive24

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমিতি'র নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে

বৃহস্পতিবার সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:৫০ পিএম.


শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমিতি'র নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের অন্যতম প্রধান বানিজ্যিক নদীবন্দর আরিচা ঘাট কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী সংগঠন শিবালয় বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির কমিটি নির্বাচন আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে শিবালয় বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজকল্যাণ সমিতি’র কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণা।

নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রত্যেক প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের ভোট প্রার্থনার তৎপরতা ততোই বাড়ছে। কেউ কারো ছাড় দিতে নারাজ। সবাই জেতার আশায়, সকাল থেকে শুরু করে রাত ১১/১২ টা পর্যন্ত দ্বারে-দ্বারে ঘুরে ভোটারদের সাথে হাত মিলিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে শিবালয় বন্দর বাজার।

সরোজমিনে শিবালয় বন্দর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের অলিতে-গলিতে পোস্টার ছেয়ে গেছে। চারদিকে তাকালে চোখে পড়ে পোস্টার আর পোস্টার। ব্যবসায়ীদের দোকানে দোকানে প্রার্থীদের ছবি ও মার্কা সম্বলিত রঙিন কার্ডের ছড়াছড়ি। প্রার্থীদের লোকজন দলে দলে দোকানে-দোকানে ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলছেন। সারাদিন ঘুরাঘুরির পর রাতের বেলায় আরিচা ডাকবাংলা চত্তর এবং ৪নং ঘাট এলাকায় চলে ভোটের হিসাব-নিকাশ। গভীর রাত পর্যন্ত চলে ভোট বিশ্লেষন ও জল্পনা-কল্পনা।

এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চায়ের দোকানগুলো হয়ে ওঠেছে বেশ সরগরম। সন্ধ্যার পর ৪নং ঘাটের কাছে হোটেলগুলাতে ভীড় দেখা যায়। বাজারের সচেতন ভোটাররা জানান, ৪ নং ফেরীঘাট এলাকায় ভোট বেচা-কেনার ব্যাপারীদের আনাগোনা লক্ষ করা যাচ্ছে।

তারা আরো বলেন, চিহ্নিত ভোট বেচা-কেনার ব্যাপারীদের কারণে ভোটের মাঠে নোংরামির সৃষ্টি হচ্ছে। হ্যাজাক প্রতীকের এক প্রার্থীকে সন্ধ্যার পর ওরজিনাল হ্যাজাক জ্বালিয়ে রাখতে দেখা গেছে। কেউ কেউ লিফলেট ও কার্ড বিলি করছে। এছাড়া প্রত্যেক প্রার্থীরাই বাজারের লোকজনদের চা, পান, বিড়ি-সিগারেট দিয়ে আপ্যায়ন করাচ্ছেন। ভোটারদের মন জয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনকে ঘিরে এ যেন উৎসবের আমেজ চলছে শিবালয় বন্দর বাজার।

বাজারের উন্নয়ন, চোরের উপদ্রব প্রতিরোধসহ ব্যাবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য ১৯৭০ সাল প্রতিষ্ঠিত করা হয় ‘শিবালয় বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজকল্যাণ সমিতি”। অনেকেই এ সমিতি’র পরিচালনা এবং ব্যাবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য টাকা-পয়সা খরচ করে নির্বাচন করেন। কিন্তু বাজারের আশানুরূপ কোন উন্নয়ন হয়নি। এ বাজারের অনেক সমস্যা রয়েছে বলে জানান সাধারণ ব্যাবসায়ীরা।

এবারের নির্বাচন পরিচালনার জন্য শিবালয় বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতি’র উপদেষ্টা মন্ডলী তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিয়েছেন। উক্ত কমিশন ১৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছেন। কার্যকরী কমিটিতে মোট ২৫টি পদ রয়েছে।

এর মধ্যে প্রচার সম্পাদক পদে মো: সহিদুল ইসলাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ায় বাকী ২৪টি পদ ৪০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এরা হলেন সভাপতি দু’জন-মো: ইকবাল হোসেন প্রতীক (দোয়াত কলম), মো.আব্দুল লতিফ (চেয়ার)। সহ-সভাপতি তিনজন- মো. ইয়াকুব আলী শিকদার (মই), মো. চাঁন মিয়া (জাহাজ) ও মো. আব্দুল মালেক (ট্রাক্টর)। সাধারণ সম্পাদক দু’জন- খন্দকার বেলায়েত হোসেন (আনারস) ও মো.মাহফুজুর রহমান খান (মটর সাইকেল)।

যুগ্ম-সম্পাদক পাঁচজন-মো.আক্কাস আলী (কাঁস্তে), আশুতোষ সরকার (জগ), মো. দুলাল হোসেন (কলস), মো.শহিদুল ইসলাম (মোমবাতি) ও মো.হাফিজুর রহমান (তির ধনুক)। সাংগঠনিক সম্পাদক তিনজন-মো.আমির হোসেন (ঘোড়া), মো. এলাহী পনির ( সেলাই মেশিন) ও মো : হারুন অর রশিদ জুয়েল (কাপ-পিরিচ)।

কোষাধ্যক্ষ তিনজন- মো. আলমগীর (তালাচাবি), মো. জাহিদুল ইসলাম (রিক্সা) ও মো. মোজাহিদুল ইসলাম (আম)। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দু’জন- মো.আফজাল হোসেন (গোলাপ ফুল) ও মো. রুবেল মিয়া (ফুটবল)। সমাজ কল্যাণ সম্পাদক তিনজন-মো.আইয়ুব আলী লাভলু (তরবারি), মো. দেলোয়ার হোসেন দেলু (কাঁঠাল) ও স্বপন কুমার কুন্ডু (গাভী)। দপ্তর সম্পাদক দু’জন-মো: ইন্তাজ উদ্দিন (টেবিল) ও মো. রাজু হোসেন (বাস)।

কার্যনির্বাহী সদস্য ১৩ জনের মধ্যে ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, মো. আতিকুর রহমান (খাট), মো.আনোয়ার হোসেন (টিউবওয়েল), আল-আমিন (করাত), মো. ওমর আলী (ড্যাগ), কৃষ্ণচন্দ্র শীল (উড়োজাহাজ), মো. আব্দুল গফুর (বৈদ্যুতিক বাল্ব), মো: আবুল বাশার দর্জি (উট), মো. আবুল বাশার মাষ্টার (ট্রাক), মো. মাইনুল ইসলাম (বন্দুক), মো. মোখলেছুর রহমান( হ্যাজাক), মো. মোশারফ হোসেন লিটন (স্কুটার), মো. সাদেকুর রহমান (টেবিল ফ্যান), সোয়েব মোহাম্মদ লিটন (ঘুড়ি), মো: হানিফ মৃধা (লাটিম) ও মো.হাবিবুর রহমান (বক)।

বন্দরের কয়েকজন ব্যাবসায়ী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, নির্বাচন আসলেই আমাদের কদর বাড়ে। নির্বাচনের পর আমাদের খবর আর কউ নেয় না। বাজারের উন্নয়নের কথা তো ভাবাই যায় না। বাজার পাহারাদারদের নাকের ডগায় চুরি হয়ে যায়। মদ, গাঁজা, হিরোইন এবং ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাখোরদের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। চরম অবহেলার শিকার এ বাজারের ব্যবসায়ীরা।

বাজারের ব্যবসায়ীদেরক নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করতে হয়। প্রতি সদস্যকে প্রতি মাসে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। বাজারে মোট ১১১০ জন সদস্য রয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর স্থানীয় সরকার ইজারার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। শিবালয় ৩ নং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত-মোবারক হোসেন’র সময় কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে। তবে এখনও অনেক সমস্যা রয়েছে এ বাজারের।

উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রয়োজনীয় ড্রেনের সমস্যা, পরিষ্কার-পরিছন্নতার অভাব, রাস্তা ঘাট ভাঙ্গাচোরা, বাথরুম ও টিউবওয়েলের সমস্যা ইত্যাদি। শিবালয় বাজারে প্রবেশ করত এলজিইডির নির্মিত রাস্তাগুলো পুণঃসংস্কারের অভাবে বড়-বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। ড্রেনজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি নামলে আরিচা বাসস্ট্যান্ড থেকে লঞ্চঘাট রোডের থানার পশ্চিম ও উত্তর পাশের ওয়াল সংলগ্ন রাস্তা, বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪নং ঘাট পর্যন্ত রাস্তার বাম পাশে, ডাকবাংলা রোডের মাথায় কাঠপট্টি এলাকায় রাস্তার উপর বৃষ্টি নামলেই কাদা ও পানি জমে থাকে।

এছাড়া বন্দর এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে স'মিল গড়ে ওঠায় রাস্তার উপর ট্রাক দাড় করিয়ে কাঠের গুড়ি ওঠা-নামা করা হয়। অনেক সময় রাস্তার উপর কাঠ ফেলে রাখা হয়। ৪ নং ঘাট এলাকা থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার ওপর বিআরটিসি বাস দাড় করিয়ে রাখায় দোকানপাটগুলো চোখে পড়েনা। এতে পথচারীদের যাতায়াতে ভীষন অসুবিধা হয় এবং ব্যবসায়ীরও ক্ষতি হচ্ছে। এসব সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্যে বাজারের ব্যাবসায়ীরা কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

শিবালয় বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, বন্দর সমিতির তেমন কোন আয় নেই। চাঁদা কালেকশন করে যা আয় হয় তা দিয়ে যতটুকো সম্ভব উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি।


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৪(বিডিলাইভ২৪)// জে এস
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.