সর্বশেষ
শনিবার ৯ই আষাঢ় ১৪২৫ | ২৩ জুন ২০১৮

চীন নয়, রীতিমতো বাংলাদেশে ঝুঁকছে জাপানের বিনিয়োগ

জেট্রোর জরিপ

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭

1427353343_1506225106.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
চীনে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চীন থেকে চলে যাচ্ছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। তারা এশিয়াতে কম খরচে পণ্য উৎপাদনের জন্য নতুন ঠিকানা খুঁজছে। শ্রম খরচ সবচেয়ে কম বাংলাদেশে। এ কারণে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছেন। গত এক দশকে বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে।

এসব তথ্য ওঠে এসেছে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সাম্প্রতিক এক জরিপে।

জাপান সরকারের বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০০৮ সালে যে পরিমাণ বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে ছিল এখন সেই সংখ্যা বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা জাপানের কোম্পানির সংখ্যা ছিল ২৫৩। যদিও এ সংখ্যা চীন ও থাইল্যান্ডের পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। তবে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমাগতই বাড়ছে।

শ্রমিকের স্বল্প মজুরি, সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যয়, কম ব্যয়ে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করা সম্ভব বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা (সিইও) এমনটাই মনে করেন। সে জন্যই তারা বর্তমানে বাংলাদেশে অধিক হারে বিনিয়োগ করছেন।

জেট্রো ওভারসিজ রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা মারি তানাকা বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে সবার কাছে একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। দেশটিতে শ্রম খরচ জাপান ও পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক কম। ফলে এখানে কম খরচে অনেক বেশি পরিমাণ দক্ষ শ্রমিককে কাজে লাগানো যায়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৯টি দেশের মধ্যে জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সবচেয়ে কম বেতন পায় বাংলাদেশের শ্রমিকরা। এমনকি শ্রীলংকা, লাওস ও মিয়ানমারের থেকেও কম বলে জানিয়েছে জেট্রোর জরিপ। তবে কিছু কোম্পানি এদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নশীল বাজারের ওপরও নজর রাখছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বড় বড় কোম্পানি যেমন- হোন্ডা মোটর, রোহতো ফার্মাসিউটিক্যাল এবং অজিনোমোটো এখানে বিনিয়োগে বাজি ধরছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বেশির ভাগই কর্মক্ষম যুবক। পাঁচ বছরে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে দ্বিগুণ।

তানাকা আরও বলেন, বড় বড় কোম্পানিগুলো আশা করছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজার আরও বেশি উন্নত হবে। ২০০৮ সালে প্রথম জাপানের ইউনিক্লো অপারেটর বাংলাদেশে বিনিয়োগ শুরু করে। এরপর শুরু হয় বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ। পরে চীনে শ্রম খরচ বেড়ে যাওয়া এবং ২০১০ ও ২০১২ সালে চীন-জাপান সম্পর্ক অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশের দিকে আরও বেশি করে ঝুঁকে পড়ে তারা।

বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা ২৫৩টি কোম্পানির মধ্যে ৩০টি পোশাক ও চামড়া শিল্পের, ১৫টি অবকাঠামোগত উপাদানের এবং আরও প্রায় ১৫টি আইটি সেবার কোম্পানি।

সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশকে নিয়ে এখন রীতিমতো স্বপ্ন দেখছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। জাপানি ব্যবসায়ীদের কাছে ২০১৫ সালে ব্যবসার আস্থা সূচকে সবচেয়ে ওপরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সূচক ৭১, যেখানে ভারতের সূচক হচ্ছে ৪৮। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। এর বড় কারণ হল বাংলাদেশে শ্রমিকের মজুরি খুবই কম, মাসে সর্বোচ্চ ১১১ ডলার দিয়েই এ দেশের শ্রমিকদের কাজ করানো যায়, যা চীনে ১১০০ ডলার ও ভারতে ২৪০ ডলার।

জেট্রো বলছে, জাপানে ১০০ ডলারে যে পণ্য উৎপাদন করা যায়, বাংলাদেশে তা উৎপাদন করা যায় অর্ধেক দামে (৪৮ দশমিক ৭ ডলারে)। সংস্থাটি এটাকে বর্ণনা করেছে ‘একই পণ্য অর্ধেক দামে উৎপাদন’ হিসেবে।

জাপানের বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, বাংলাদেশে ব্যবসার ব্যয় বহুলাংশে কমানোর সুযোগ রয়েছে। জরিপে বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেছে জেট্রো। এর মধ্যে আছে জাপানে রফতানি বাড়ানো। এ জন্য বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি জাপানকে আকৃষ্ট করতে হবে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে পরামর্শ হচ্ছে, যেহেতু বাংলাদেশে বিনিয়োগে জাপানি ব্যবসায়ীদের আস্থা বেড়েছে, তাই তারা বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে তাদের অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে, বাংলাদেশে মুনাফার পরিবর্তে লোকসান হওয়ারও আশঙ্কা আছে।

২০১২ সালে যেখানে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ডলার, ২০১৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালে ৯ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের জাপানি বিনিয়োগ এসেছে।

ঢাকা, রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৪৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন