bdlive24

হতাশাগ্রস্ত শহরের শীর্ষে ঢাকা

শুক্রবার সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭, ০১:৩৩ এএম.


হতাশাগ্রস্ত শহরের শীর্ষে ঢাকা

বিডিলাইভ ডেস্ক: বিশ্বে সবচেয়ে শারীরিক ও মানসিক চাপের শহরগুলোর সপ্তম স্থানে আছে ঢাকা। তবে এশিয়ায় ঢাকার অবস্থান আরো খারাপ৷ মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই চাপ হতাশার সৃষ্টি করে৷ এই হতাশার কারণে অনেক নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

ডয়চে ভেল থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা জিপজেট মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, লৈঙ্গিক সমতাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে এই তালিকা তৈরি করেছে। তাদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে কম চাপের শহর জার্মানির স্টুটগার্ট।

১৫০টি শহরের উপর করা বৈশ্বিক এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৪৪, যা এশিয়ার মধ্যে খুব খারাপ। তবে ঢাকার চেয়েও বেশি চাপের মধ্যে আছে ইরানের তেহরান, আফগানিস্তানের কাবুল, নাইজেরিয়ার লাগোস। তালিকার সবশেষে, মানে সবচয়ে বেশি চাপের শহর হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাকের রাজধানী বাগদাদ।

তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চাপের শহর বাগদাদ৷ তারপরই রয়েছে যথাক্রমে কাবুল, লাগোস, ডাকার, কায়রো এবং তেহরান। ঢাকা রয়েছে সপ্তম স্থানে। সবচেয়ে চাপের শহরের সেরা দশের তালিকায় অষ্টম, নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে করাচি, মুম্বাই ও ম্যানিলা।

ঢাকার চেয়ে কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে ভারতের দিল্লি ও মুম্বাই।  তাদের অবস্থান যথাক্রমে ১৪২ ও ১৩৮। পাকিস্তানের করাচি আছে ঠিক ঢাকার উপরে, ১৪৩তম স্থানে। ঢাকা বিশ্বের অন্যতম চাপগ্রস্থ শহর হওয়ার পিছনে ছিল মূলত ট্রাফিক জ্যাম, ঘন জনবসতি ও দুষণ। এছাড়া ঢাকাবাসীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের র‌্যাংকিংও খুব ভালো নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ মালেক বলেন, ‘‘ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা যানজট। গাড়ি বেশি, সড়ক কম। ঢাকা একটা মেগাসিটি। এখানে অনেক লোকের বসবাস। এখানে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার, তা নেই। মার্কেটগুলো শহরে আরো চাপ তৈরি করছে। এর একটা প্রভাব আছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘দুযোর্গ দুই ধরনের৷ একটা প্রাকৃতিক এবং আরেকটা মানুষের সৃষ্টি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা অভ্যস্ত। এটা আমরা জানি কখন কী করতে হবে। কিন্তু মানুষের সৃষ্টি দুর্যোগের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি না সব সময়। তাই চাপ সৃষ্টি করে। আমরা এই শহরে যা আশা করি, তা পাই না। আবার একটি সমস্যার সমধান যত দ্রুত চাই, তা হয় না। এগুলো হতাশ করে৷ তাপরও মানুষ আশাবাদী। ঢাকা শহরের মানুষ আশা করে এসব সমস্যার সমাধান হবে।’’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম মনে করেন, ‘‘ঢাকা শহর নানা দিক দিয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। এটা বড় ধরণের মানসিক চাপে রাখছে ঢাকার অধিবাসীদের। তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। বাসা থেকে কর্মস্থলে যেতে যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় পথে থাকতে হয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকরা অনেক সুযোগ-সুবিধাই পায়না৷ তারপরও গ্যাস, বিদ্যুত, পানির দাম বাড়ছে, বাড়ছে হোল্ডিং ট্যাক্স। নগরবাসীর জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠছে।’’

এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে৷ অল্পতেই রেগে যাচ্ছে৷ রগচটা হয়ে পড়ছে। সামাজিক আচরণে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তরুণ বা কমবয়সিরা এই মানসিক চাপ বা হতাশা থেকে মাদকাসক্ত হতে পারে, অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে।’’

চাপ কম এমন বিবেচনায় শীর্ষ পাঁচটি শহরের তিনটি শহরই জার্মানির। স্টুটগার্ট প্রথম, হানোফার তৃতীয় এবং মিউনিখ রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি রয়েছে তালিকার ৮ নম্বরে৷ শীর্ষের বেশিরভাগ শহরই ইউরোপের। এশিয়ার মধ্যে কম চাপের শহর সিঙ্গাপুর। তাদের অবস্থান ৪২। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রয়েছে তালিকার ৮৪ নম্বরে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের অবস্থান ১১০ তম।


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২৯(বিডিলাইভ২৪)// জেড ইউ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.