bdlive24

মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পদ্ধতি খুঁজছেন গবেষকরা

রবিবার অক্টোবর ০১, ২০১৭, ০১:০৩ পিএম.


মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পদ্ধতি খুঁজছেন গবেষকরা

বিডিলাইভ ডেস্ক: মাচের চাহিদা সারা দুনিয়া ব্যাপী। মাছ ছাড়া বেঁছে থাকা কঠিন। গোটা বিশ্বে মানুষ প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি টন মাছ খায়। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে সমুদ্রে মাছ কমে আসছে। এমনকি কিছু প্রজাতি লোপ পেতে বসেছে। উত্তর সাগরও এর ব্যতিক্রম নয়।

তবে সে সমস্যা সমাধানে জার্মান গবেষকরা অ্যাকোয়াকালচারে টেকসই পদ্ধতিতে মাছ প্রতিপালনের মাধ্যমে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন।
 
কৃত্রিম ব্রিডিং বা প্রতিপালনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা চলছে। তবে প্রতিপালনের কোনো প্রক্রিয়া সবচেয়ে সফল হচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জার্মানির উত্তরে এক গবেষণা কেন্দ্রে এ সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
 
বিজ্ঞানীরা সেখানে মিষ্টি ও লবণাক্ত পানির মাছের প্রতিপালন ঘটাচ্ছেন। সেই জ্ঞানের  ভিত্তিতে তাঁরা মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত শিল্পশাখাকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উল্লেখ্য, আজ খাদ্য হিসেবে সব মাছের প্রায় অর্ধেকই আসে অ্যাকোয়াকালচার থেকে। তাই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের চাহিদাও বাড়ছে। কৃষিবিজ্ঞানী প্রো. কার্স্টেন শুলত্স বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বে বেড়ে চলা জনসংখ্যার কারণে মাছের চাহিদাও বাড়বে বলে আমরা ধরে নিতে পারি। শুধু মাছ ধরে সেই চাহিদা মেটানো যাবে না। এর জন্য অ্যাকোয়াকালচারে উত্পাদন আরও বাড়াতে হবে। এভাবে আমরা মাছের জোগানের গ্যারেন্টি দিতে পারি।’’
 
একসময় মাছকে মনে করা হতো অনুভূতিহীন প্রাণী। কিন্তু ধীরে ধীরে বিজ্ঞানীরা জানতে পারছেন যে, মাছেরও আছে নিজেদের সামাজিক জীবন। তারা শোক প্রকাশ করে, একসাথে শিকারে যায় এমনকি বিভিন্ন অদ্ভুত রকমের যৌন সম্পর্কেও জড়ায়। মাছের এই অজানা জীবন দেখতে হলে যেতে হবে সাগরের গভীরে।
 
গবেষকরা জানতে চান, কোন পরিবেশে মাছেরা সবচেয়ে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। পানির অবস্থাই বা কেমন থাকা উচিত এবং মাছদের ঠিক কতটা জায়গার প্রয়োজন রয়েছে? বিজ্ঞানীরা মাছদের ওজন ও আকার-আয়তন মাপেন। মনে রাখতে হবে, স্ট্রেস বা মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে মাছদের বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির ক্ষমতা কমে যায়।
 
মাছেদের খাদ্যও অন্যতম জরুরি বিষয়। সেই খাদ্যের কতটা শিরা ও ধমনি পর্যন্ত পৌঁছায়? এখনো পর্যন্ত অনেক অ্যাকোয়াকালচারে খাদ্য হিসেবে মাছ ও মাছের তেল খাওয়ানো হয়। ফলে দেখা যায়, যত মাছ খাওয়ানো হচ্ছে শেষ পর্যন্ত প্রতিপালনের মাধ্যমে তত মাছ উত্পাদন হচ্ছে না। গবেষকরা এই সমস্যার সমাধান খুঁজছেন। প্রো. শুলত্স বলেন, ‘‘আমরা নতুন ধরনের খাদ্য ও সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণা করছি। মূল্যবান ও সীমিত সম্পদ হিসেবে খাবারের মধ্যে মাছ ও মাছের তেলের অংশ কমানোর চেষ্টা করছি। এর বিকল্প সৃষ্টিও কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছি।’’
 
বিজ্ঞানীরা মাছের বদলে উদ্ভিদ পিষে তৈরি গোলা কাজে লাগাচ্ছেন। টার্বট মাছের তা পছন্দ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে মাছের বদলে উদ্ভিদ খাওয়ালে সেই খাদ্যকেও সমান পুষ্টিকর করে তোলা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
 
গবেষকরা রেপসিড ও সয়াবিন দিয়ে মাছের খাদ্য তৈরি করছেন। এই উদ্ভিদের মধ্যে যথেষ্ট প্রোটিন রয়েছে, যা মাছের বিকল্প হতে পারে। খাদ্য অথবা বায়োডিজেল উত্পাদনের সময় বর্জ্য হিসেবে এই উপকরণ পাওয়া যায়। সেটিকে নতুন করে এভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।
 
বিজ্ঞানীরা মাছের জন্য খাদ্যের মিশ্রণের উন্নতি ঘটিয়ে চলেছেন। কারণ একমাত্র সুস্থ মাছই ভালো আয়ের গ্যারেন্টি হতে পারে। প্রো. কার্স্টেন শুলত্স বলেন, ‘‘বিস্ময়কর ঘটনা হলো, নিরামিষ উপকরণ ব্যবহার করলে মাছের স্বাস্থ্য সাধারণত খারাপ হয় না। উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের কারণে মাছের মধ্যে কোনোরকম অস্বস্তি লক্ষ্য করা যায় না। এই খাবার খেলে মাছের ভালো বৃদ্ধি হয়, ভালো হজম হয়। স্বাদেও তারা কোনো তফাত পায় না। তাই আমরা কোনো বিবেকদংশন ছাড়াই এই মাছ ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে পারি।’’
 
মাছের সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিষ্কার পানিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবাণুর হাত ধরে জলাধারে দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। গবেষকরা তাই নিয়মিত পানির তাপমাত্রা ও উপাদান পরীক্ষা করেন।
 
অ্যাকোয়েরিয়ামে টেকসই মাছ প্রতিপালন সফল হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বড় শহর থেকে শুরু করে শুষ্ক এলাকায়ও এভাবে মাছ চাষ করা সম্ভব। সূত্র: ডয়েসেভেলে।


ঢাকা, অক্টোবর ০১(বিডিলাইভ২৪)// এস এ
 
        print

এই বিভাগের আরও কিছু খবর







মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.