bdlive24

অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্কও ধর্ষণ: ভারতের আদালত

বুধবার অক্টোবর ১১, ২০১৭, ০৩:০০ পিএম.


অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্কও ধর্ষণ: ভারতের আদালত

বিডিলাইভ ডেস্ক: ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আজ বুধবার এক রায়ে বলেছে, বিবাহিত স্ত্রীর বয়সও যদি আঠারো বছরের কম হয়, তার সাথে যৌন সম্পর্ক করলে, সেটাও ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় যে ধর্ষণের সংজ্ঞা রয়েছে, সেখানে একটি ছাড় দিয়ে বলা হয়েছে যে স্ত্রীর বয়স যদি ১৫ বছরের কম না হয়, তাহলে স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা হবে না।

অথচ, শিশুদের ওপরে যৌন নিগ্রহ রোধ আইন অনুযায়ী কোনও নারী ১৮ বছরের আগে শারীরিক সম্পর্কে সম্মতি দেওয়ার অধিকারী নন।

ধর্ষণ সংক্রান্ত আইন আর শিশু যৌন নিগ্রহ আইনের মধ্যে যে ফারাক ছিল, বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ে তা দূর হল বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

'ইন্ডিপেন্ডেন্ট থট' নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল যে, ভারতীয় দণ্ডবিধিতে ১৫ বছরের বয়সসীমা বেঁধে দিয়ে বিয়ের পরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জীবনের অধিকারের পরিপন্থী।

বৈবাহিক ধর্ষণ, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক কোন পর্যায়ে ধর্ষণ বলে চিহ্নিত হবে, তা নিয়ে ভারতে মত বিরোধ আর বিতর্ক চলছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির একটি ধারায় ধর্ষণের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে আর তার ঠিক পরের ধারাতেই ধর্ষণের সাজার কথা লেখা আছে।

কিন্তু বৈবাহিক ধর্ষণ কাকে বলা হবে, তার কোনও ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা নেই। যদিও পারিবারিক যৌন নিগ্রহ নিয়ে একটি পৃথক আইন ২০০৫ সাল থেকেই চালু রয়েছে।

অন্যদিকে হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেরই অপরের প্রতি কিছু কর্তব্য আছে। এর মধ্যেই রয়েছে শারীরিক সম্পর্কের অধিকারও। শারীরিক সম্পর্কে বাধা দিলে তাকে নিষ্ঠুরতা বলে আইন গণ্য করে যার ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদ চাওয়া যেতে পারে।

দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলার প্রেক্ষিতে জমা দেওয়া নিজেদের বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে যে 'বৈবাহিক ধর্ষণ' অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক কোনও ভাবে ধর্ষণের পর্যায় পড়তে পারে না। সেটা করা হলে বিবাহ নামক ব্যবস্থাটাকেই অস্থির করে তোলা হবে। স্বামীদের উত্যক্ত করার জন্য অনেক নারীই এরকম অজুহাত দিতে থাকবেন।

বুধবার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি মদন লোকুর এবং দীপক গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ অবশ্য মন্তব্য করেছেন, "আমরা বৈবাহিক ধর্ষণের বিষয়টির মধ্যে ঢুকতে চাইছি না। সেটা আইনসভার এক্তিয়ার যে, শারীরিক সম্পর্কে সম্মতির বয়স বাড়ানো হবে না কমানো হবে। কিন্তু পার্লামেন্টই যখন একটি আইনের ক্ষেত্রে স্থির করে দিয়েছে যে সম্মতির বয়স ১৮, তা হলে দণ্ডবিধিতেও সেই বয়সই থাকা বাঞ্ছনীয়।"

রায় দিতে গিয়ে আদালত এও মন্তব্য করেছেন যে, বাল্যবিবাহ ভারতে বেআইনি বলে অনেক আগেই ঘোষিত হয়েছে, তবুও প্রথাটা ৭০ বছর বন্ধ করা যায় নি। বাল্যবিবাহ রোধ আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নীচে কোনও মেয়েকে বিয়ে দেওয়া বেআইনি। তবুও বহু রাজ্যেই এই প্রথা চালু রয়েছে।

বাল্যবিবাহ রোধ নিয়ে প্রচার করে এমন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি বলছে, কম বয়েসী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়াটা যে শুধু স্বল্পশিক্ষিত বা গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত তা নয়। বহু শিক্ষিত, অর্থবান পরিবারও কম বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয়।

এর নানা কারণের মধ্যে একটি হল উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে পণ প্রথার চল। কম বয়সে মেয়ের বিয়ে দিতে হলে কম পণ দিতে হবে, সেজন্যই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় বলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো জানাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি


ঢাকা, অক্টোবর ১১(বিডিলাইভ২৪)// জে এইচ
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.