সর্বশেষ
শনিবার ৬ই মাঘ ১৪২৪ | ২০ জানুয়ারি ২০১৮

পৃথিবীতে ছুটে আসছে কোটি বছর আগের সংঘর্ষের তরঙ্গ

বুধবার ১১ই অক্টোবর ২০১৭

1286408606_1507721975.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার জন্যে পদার্থ বিজ্ঞানে এবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অ্যামেরিকার তিনজন বিজ্ঞানী- রেইনার ভাইস, কিপ থর্ন এবং ব্যারি ব্যারিশ। এই তরঙ্গটির কথা একশো বছর আগেই বলে গিয়েছিলেন আলবার্ট আইনস্টাইন, তার আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে।

মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সৃষ্টি হয় বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বড়ো ধরনের বা প্রকাণ্ড কিছু ঘটনার কারণে- যেমন দুটো কৃষ্ণ গহ্বর একত্রিত হলে কিম্বা তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে, অথবা কোন তারার বিস্ফোরণ ঘটলে। তারপর এই তরঙ্গ ছায়াপথে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং এর ফলে মহাকাশ সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হতে থাকে। এই তরঙ্গ ছুটে চলে আলোর গতিতে।

আইনস্টাইন নিজেও বলেছিলেন এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গের প্রভাব এতোই ক্ষুদ্র যে প্রযুক্তির সাহায্যে এটি ধরতে পারা খুব কঠিন হবে। কিন্তু তার বহু বহু বছর পরে এই তিন বিজ্ঞানী অবশেষে লেজার রশ্মির সাহায্যে এই তরঙ্গকে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রে লাইগো এবং ইউরোপে ভারগো ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। লাইগোর ছিলো দুটো শাখা- একটি ওয়াশিংটন স্টেইট এবং আরেকটি লুইজিয়ানায়। আর ইউরোপে ইটালির পিসায়।

রেইনার ভাইস, কিপ থর্ন এবং ব্যারি ব্যারিশের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। আর চলেছে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে।

এই বিজ্ঞানীরা গত সেপ্টেম্বর মাসে এরকম কিছু মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করেছেন। আর এসব সৃষ্টি হয়েছিলো দুশো কোটি বছর আগে দুটো কৃষ্ণ গহ্বরের সংঘর্ষের কারণে। কিন্তু এর তরঙ্গ সবেমাত্র পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সের পক্ষ থেকে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বলা হয়েছে, মহাকর্ষীয় তরঙ্গকে শনাক্ত করা এক যুগান্তকারী ঘটনা যা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একটি জানালাকে খুলে দিয়েছে।

এই আবিষ্কারের ফলে প্রথমত: আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্বটি প্রমাণিত হলো। কিন্তু তার একটি ধারণা ভুল প্রমাণ হয়েছে। তিনি বলেছিলেন এই তরঙ্গ এতো দুর্বল হবে যে এটি শনাক্ত করা যাবে না কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা সেটাও করে দেখালেন।

মহাবিশ্বকে এখন একেবারেই অন্যভাবে দেখা সম্ভব। সাধারণ টেলিস্কোপ দিয়ে যা দেখা যায় না এখন আমরা সেটা দেখতে পাবো। এছাড়াও কৃষ্ণ গহ্বর থেকে শুরু করে মহাকাশের গভীরেও তাকানো যাবে। হয়তো সম্ভব হবে বিগ ব্যাং-এর মতো ঘটনার দিকেও ফিরে তাকানো। চতুর্থত আমরা বুঝতে পারবো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কিভাবে কাজ করে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার ফলে প্রকৃতির চারটি শক্তি একত্রিত থাকে যে কারণে তার উপর পদার্থ বিজ্ঞানীরা এখন একটি তত্ত্ব দাড় করাতে পারবেন। আইনস্টাইন বেঁচে থাকলে তিনি যে আজ খুব খুশি হতেন সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। বিবিসি

ঢাকা, বুধবার ১১ই অক্টোবর ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি 6 বার পড়া হয়েছে